কালিগঞ্জে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণ: কেন্দ্র সচিবসহ ৩জন বরখাস্ত


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ ||

নিয়াজ কওছার তুহিন: কালিগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় গতবছরের (অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দ্ধারিত) প্রশ্নপত্রে ৪৮ জনের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার চাম্পাফুল আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘন্টা পর নতুন প্রশ্নপত্রে পূণরায় ৪৮ জনের পরীক্ষা নেয়া হয়। ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার ঘটনায় কেন্দ্রসচিব সুখপদ বাইনসহ ৩ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র বন্টনের প্রায় তিন ঘন্টা পর বিগত বছরের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি সবার নজরে আসে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অনুমতি নিয়ে পরে তাদের নতুন বছরের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ২ ফ্রেব্রুয়ারী (শনিবার) ছিল বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা। চাম্পাফুল আচার্য প্রফল্ল চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪৪০ জন। এর মধ্যে ৪৮ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীর হাতে আসে ২০১৯ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র। তারা এই ভুল প্রশ্নে পরীক্ষাও দেয়। বেলা ১টা বাজার কয়েক মিনিট আগে কর্তৃপক্ষ ভুল প্রশ্নপত্র প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত হন। এর পরপরই তড়িঘড়ি করে কর্তব্যরত কক্ষ পরিদর্শকগণ ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র নিয়ে নেন। তাৎক্ষণিক ভাবে যশোর বোর্ডের অনুমতি নিয়ে ওই ৪৮ জনের কাছে পৌছে দেওয়া হয় নতুন বছরের যথাযথ প্রশ্নপত্র। দুপুর ১ টা থেকে পূণরায় তাদের পরীক্ষা শুরু করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার অপরাধে কেন্দ্র সচিব চাম্পাফুল আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুখপদ বাইন, ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার একেএম মোস্তাফিজুর রহমান ও অফিস সহকারী ইয়াছিন হোসেন বিদ্যুতকে তাৎক্ষণিক ভাবে বরখাস্ত করেন। এছাড়াও ভুল প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য হল সুপার, কক্ষ পরিদর্শকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী কেন্দ্র সচিব আরিফুল ইসলাম। এবং নতুন করে সহকারী কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিটিজিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেনকে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই নতুন করে সঠিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না। যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।