উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্ধারণে কালিগঞ্জে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা আজ


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯ ||

 

 

নিয়াজ কওছার তুহিন: আসন্ন ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে এই মুহূর্তে মাঠে রয়েছেন অন্তত: হাফ ডজন প্রার্থী। দলীয় কাউন্সিলরদের সমর্থন পেতে চালাচ্ছেন জোর প্রচারণা। মনোনয়ন পেলে নিশ্চিত জয়লাভ করতে পারবেন এমন আশ^াসের পাশাপাশি আগামীতে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডিএম সিরাজুল ইসলাম জানান, আজ সোমবার উপজেলা অডিটোরিয়ামে জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় তৃণমূলের মতামত নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৩ জনের নাম কেন্দ্রে পাঠান হবে। এক্ষেত্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং এসব ইউনিয়নের মোট ১০৮টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় এবং উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্জ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামান মৃত্যুবরণ করায় এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সর্বসাকুল্যে ২৪১ জন কাউন্সিলর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী নির্দ্ধারণে মতামত প্রদান করবেন। এরপর কেন্দ্র থেকে চুড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। যদি সম্মিলিত সিদ্ধান্তে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা সম্ভব হয় তাহলে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করে নাম কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর নাম। এর আগে তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাঈদ মেহেদী প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালান। সেখানে মনোনয়ন না পেলেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে তিনি বেশ তৎপর। কাউন্সিলরদের সমর্থনে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন কুশুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কালিগঞ্জ ইউনিটের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মেহেদী হাসান সুমন। তিনি প্রয়াত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বারবার নির্বাচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধকালীন কমান্ডার সর্বজন শ্রদ্ধেয় বর্ষিয়ান জননেতা আলহাজ্জ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের জ্যেষ্ঠ পুত্র। এদিক দিয়ে তিনি কাউন্সিলদের ভোটে পিতার রেখে যাওয়া আসনটির জন্য অন্যতম দাবিদার। বিগত কিছুদিন যাবত তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করছেন শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের জ্যেষ্ঠ কণ্যা ওয়াহিদা পারভীন শিউলী। শেখ মেহেদী হাসান সুমন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে মনোনয়ন পাবেন বলে ধারণা করছেন তার কর্মী-সমর্থকরা। এদিকে মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তারালী ইউপি’র বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট। তিনি দীর্ঘদিন যাবত দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মন জয়ে কাজ করছেন। সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত এমপি সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের ¯েœহের পাত্র এনামুল হোসেন মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন বলে সর্বমহলে আলোচনা চলছে। উপরোক্ত তিন প্রার্থী ছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আতাউর রহমান দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। তিনি ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য বেশ তৎপরতা চালালেও শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন পাননি। এজন্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী দৌড়ে বেশ কিছুদিন যাবত মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জজ কোটের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. শেখ মোজাহার হোসেন কান্টু। মনোনয়নের প্রত্যাশায় আরও কাজ করছেন উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য নুরুজ্জামান জামু। চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী কুশুলিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মোফাখখারুল ইসলাম নীলু তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও মথুরেশপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিলেও তিনি শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অপরদিকে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ার‌্যান পদে এখনও পর্যন্ত দেড় ডজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কালিগঞ্জ ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল হাকিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডিএম সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক, ফিফা রেফারী, সাংবাদিক নেতা ও উজ্জীবনী ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক শেখ ইকবাল আলম বাবলু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তরুণ জননেতা নাজমুল আহসান এর নাম উল্লেখযোগ্য। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর ছাড়া এ পদটির বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা এই মুহূর্তে নিশ্চিত হওয়া দূরহ হয়ে পড়েছে। তবে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও পর্যন্ত উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়নি। ভোটের দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলে নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়বে বলে ধারণা সবার।