রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯ ||

শেখ হেদায়েতুল ইসলাম: আশাশুনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন আইন অমান্য করে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন আইনের সুস্পষ্ট ধারা লঙ্ঘন করে আমমোক্তারনামা বা পাওয়ার দলিল থেকে করা হয়েছে হেবার ঘোষণাপত্র দলিল। একারণে ফাঁকি পড়েছে কয়েক লক্ষাধিক টাকার সরকারি রাজস্ব। জেলা-রেজিস্ট্রারের দপ্তরে প্রেরিত এক অভিযোগের অনুলিপি মারফত সন্ধান মিলেছে এমন তথ্যর। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৪ সালের মে মাসের ১৪ তারিখে বেউলা মৌজার এসএ ২৫নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক ফয়জুন্নেছার একমাত্র ছেলে নাসির উদ্দিন ও একই গ্রামের মৃত নজরউদ্দিন গাজীর পুত্র রফিকুল ইসলাম বরাবর ১ একর ২ শতক সম্পত্তি ১৬৮১/১৪নং আমমোক্তারনামা বা পাওয়ার দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে উক্ত ১৬৮১/১৪নং আমমোক্তারনামা দলিলের গ্রহীতা রফিকুল ইসলাম কৌশলে আমমোক্তানামায় উল্লেখিত ১ একর ২ শতক সম্পত্তি সম্পূর্ণ নিজের পৈত্রিক ওয়ারেশ সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি উল্লেখ করে সাব-রেজিস্ট্রারের চোখে ধুলো দিয়ে একই বছরের ২১ আগস্ট ৩০০৬/১৪নং হেবার ঘোষণাপত্র দলিল মুলে তার স্ত্রী শাহানারা খাতুনের নামে হস্তান্তর করে দেন। অপরদিকে দলিল দুটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আমমোক্তারনামা এবং আমমোক্তারনামা বুনিয়াদে সৃষ্ট হেবার ঘোষণাপত্র দলিলের লেখক একই ব্যক্তি। এমনকি আমমোক্তারনামা বুনিয়াদে সৃষ্ট হেবার ঘোষণাপত্র দলিলের সনাক্তকারীও ওই একই লেখক নিজেই। পরবর্তীতে উক্ত ৩০০৬/১৪ হেবার ঘোষণাপত্র দলিলের গ্রহিতা শাহানারা খাতুন উক্ত সম্পত্তি গত ২০১৫ সালের মে মাসের ২১ তারিখে ১৭১২/১৫নং হেবার ঘোষণাপত্র দলিলের মাধ্যমে তার ছেলেদের বরাবর হস্তান্তর করে। জেলা রেজিস্ট্রারের নিকট অভিযোগকারী আব্দুল্লাহিলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৬৮১/১৪ নং আমমোক্তারনামা দলিলের দাতা নাসির উদ্দিন আমার মামা, তিনি বহুদিন যাবত খুবই অসুস্থ, মামা সরল বিশ্বাসে তার সম্পত্তি রফিকুল ইসলামকে দেখাশুনা করার জন্য পাওয়ার করে দেন, কিন্তু রফিকুল সে সম্পত্তি আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজে ভোগ-দখল করার জন্য নিজের বউ-ছেলেদের নামে হেবা দলিল করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা দলিলগুলো বাতিলের মাধ্যমে আমাদের সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ করতে চাইলে তার পরিবারের পক্ষ তিনি অসুস্থ,তাই তিনি কথা বলতে পারবেন না বলে জানানো হয়। অপরদিকে রাজস্ব ফাঁকি এবং রেজিস্ট্রেশন আইন অমান্য করার বিষয়ে জেলা-রেজিস্ট্রারের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, এ বিষয়টি কলারোয়া সাব-রেজিস্ট্রারকে তদন্তপূর্বক আমার কাছে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। অপরদিকে এবিষয়ে কলারোয়া সাব-রেজিষ্টারের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, জেলা রেজিস্ট্রার আমাকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, আমি খুব দ্রুত তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট প্রদানের ব্যবস্থা নেব।