শহরের চার পয়েন্টে তিন মিনিটের বেশি বাস থামবে না


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯ ||

এসএম শহীদুল ইসলাম: জেলার পৃথক চারটি রুটে শহরের চারটি স্থানে তিন মিনিটের বেশি যাত্রীবাহী বাস থামবে না। শহরে কোন অনিবন্ধিত ইজিবাইক ও ইঞ্জিনভ্যান চলবে না। এ নিয়ম ভঙ্গ করলে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী ও বিআরএ’র সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জেলা প্রশাসন ও সাতক্ষীরা পৌরসভা যৌথভাবে মাইকিং করে এ প্রচার করেছে। প্রচার মাইক থেকে বলা হয়, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সাতক্ষীরা-খুলনা রুটের নারকেলতলা মোড়ে তিন মিনিট, সাতক্ষীরা-যশোর রুটের কদমতলা মোড়ে তিন মিনিট, সাতক্ষীরা-কারিগঞ্জ রুটের কামালনগর সঙ্গিতা মোড়ে তিন মিনিট এবং সাতক্ষীরা-আশাশুনি রুটের পৌর দিঘিরপাড়ে (পিএন স্কুল মোড়) তিন মিনিট যাত্রীবাহী বাস থামবে। শহরের মধ্যে আর কোন স্থানে কোন যাত্রীবাহী বাস দাঁড় করিয়ে বা থামিয়ে কোন যাত্রী উঠানো বা নামানো যাবে না। সাতক্ষীরা শহরের কোথাও কোন প্রকার অনিবন্ধিত ইজিবাইক বা ইঞ্জিনভ্যান চলতে পারবে না। জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রশাসন সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও যানজট নিরসনে এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা শহরে বর্তমানে ইজিবাইক, ইঞ্জিনভ্যান ও মোটরভ্যানের সংখ্যা ১০ থেকে ১২ হাজার। এছাড়া অন্যান্য যানবাহন তো আছেই। এতে করে প্রতিদিন শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকে মৃত্যুবরণ করছেন আবার অনেকে বরণ করছেন চির পঙ্গুত্ব। দিনে দিনে শহর হয়ে উঠেছে ঘিঞ্জি শহরে। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নানা ধরণের অপরাধ প্রবনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরে প্রতিদিন কাজের সন্ধানে আসছে শতশত মানুষ। দূষণে দূষণে শহর হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। দখল ও দূষণমুক্ত শহরের দাবিতে জেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে আন্দোলন সংগ্রাম করা হয়েছে। এর আগেও ইঞ্জিনভ্যান, মোটরভ্যান ও ইজিবাইকের বিরুদ্ধে কয়েকবার অভিযান পরিচালিত হলেও কয়েক দিন যেতেই আবার যা-তাই অবস্থা। ছোট্ট এ শহরের নেই কোন দুই লেনের রাস্তা। একই রাস্তায় চলতে হয় দূরপাল্লার পরিবহন, বাস-ট্রাক, পিকআপ, মিনিট্রাকসহ সকল ধরণের যানবাহন। শহরের মধ্যে রাস্তায় পার্কিং করতে হয় দূরপাল্লার পরিবহন ও মালবাহী ট্রাকসহ সকল ধরণের যানবাহন। এতে করে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এছাড়া এসব যানবাহনের হাইড্রলিক হর্ন ও শব্দে শহরবাসির কানমাথায় ঝালাপালা ধরে যায়। শহরের প্রধান সড়কের পাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যানবাহনের তীব্র শব্দে শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনায়ও ব্যাঘাত ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও উচ্চ শব্দের কারণে অনেক রুগীর অবস্থা খারাপের দিকে যায় বলে জানান চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল দখল ও দূষণমুক্ত শহর গড়তে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলা নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, সাতক্ষীরা শহরকে নান্দনিক রূপে তিলোত্তমা শহরে গড়ে তোলা হবে। দখল ও দূষণ থেকে চিরমুক্তি দেয়া হবে শহরকে। নদী ও খাল দখলমুক্ত করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।