পোকা দমনে বোরো ধান ক্ষেতে পার্চিং উৎসব


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯ ||

 

এসএম শহীদুল ইসলাম: বোরো ধানের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি সাতক্ষীরার কৃষকদের মনে আশার আলো জ্বেলেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকদে জৈবিক পদ্ধতিতে পোকা দমনে পালিত হচ্ছে পার্চিং উৎসব। মঙ্গলবার দিনভর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪৩টি ব্লকে পার্চিং উৎসব পালিত হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা পৌরসভার বাঁকাল মাঠ, ধুলিহর কোমরপুর মাঠ, ব্রহ্মরাজপুরের দহাকুলা মাঠ, লাবসা মাঠসহ ১৪টি ইউনিয়নের ৪৩টি ব্লকে একযোগে বোরো ধান ক্ষেতে গাছের ডাল কঞ্চি পোতার কাজে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করণের জন্য পার্চিং উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে একযোগে পালিত হয় পার্চিং উৎসব। সূত্র জানায়, জেলার ৭৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ২৩৬টি ব্লকে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পালিত হবে পার্চিং উৎসব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দু বিশ্বাস জানান, কীটনাশক ছাড়া ফসলের জমির ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করার পদ্ধতিটির নাম পার্চিং পদ্ধতি। জমিতে উঁচু স্থানে পাখি বসার সুযোগ তৈরি করাকেই পার্চিং বলা হয়। পার্চিং পদ্ধতিটি পরিবেশবান্ধব এবং লাভজনক। কারণ এর মাধ্যমে কীটনাশকের ব্যবহার ও ফসলের উৎপাদন খরচ কমে। বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা এবং পোকার বংশবিস্তার কমানো যায়। এই পদ্ধতির আরো একটি সুবিধা হলো পাখির বিষ্ঠা জমিতে জৈব পদার্থ যোগ করে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। পার্চিং পদ্ধতিটি খুবই মজার, বিশেষত পাখিদের জন্য। কারণ পার্চিংয়ে বসে দোল খেতে খেতে পাখিরা মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, ধানের স্কিপা পোকার মথ, শিষ কাটা লেদা পোকা, সবুজ শুঁড় লেদা পোকা, শুঁড় ঘাস ফড়িং, লম্বা শুঁড় ঘাস ফড়িং, উড়চুঙ্গা ধরে খায়।
পার্চিং পদ্ধতির সুফল তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই রোপা-আমন, ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে বাদামি ঘাসফড়িং বা কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা এবং চুঙ্গি-মাজরাসহ নানা ধরণের ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এত দিন কৃষকরা এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কীটনাশকসহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছিলেন। কৃষকদের জন্য সুখবর হচ্ছে, পোকা দমনে প্রাকৃতিক পার্চিং পদ্ধতি কৃষকের মধ্যে আশা জাগিয়েছে। এই পদ্ধতিতে ফসলি জমিতে পোতা ডালগুলোর ওপর পাখি বসে ফসলি জমির ক্ষতিকারক পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলার ফলে আর কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। যার ফলে কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে কৃষকরা জমিতে কীটনাশক পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
তিনি বলেন, মাজরার স্ত্রী মথ, পাতা মোড়ানো পোকার স্ত্রী মথ, ধানের গাছের পাতার উপর এক সাথে ৩/৪ শত ডিম পাড়ে। মাজরা পোকা ধানের কুশি ও শীষ কেটে এবং পাতা মোড়ানো পোকা পাতা খেয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। কৃষকরা দিশেহারা হয়ে এলোপাতাড়ী নীটনাশক ¯েপ্র করে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি করে। ফিঙ্গে পাখি প্রতিদিন ৯ থেকে ১৪টি পোকা খেয়ে পোকার ডিম পাড়া থেকে রক্ষা করে। কীটনাশক ¯েপ্র করার প্রয়োজন হয় না।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিনা কীটনাশকে ধান উৎপাদনের কলাকৌশল শিখানোর জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে পার্চিং উৎসবের আয়োজন করেছে। পৌরসভার উপ-সহকারি কৃষি অফিসার রঘুজিৎ কুমার গুহ, কৃষক শহীদুল ইসলাম, আশরাফ আলী, নবীর আলী, জগদিশ মন্ডল, গৌর বর, শাহাদাৎ, মোসলেম, ন্যাশনাল সার্ভিসের স্বপন, জাহাঙ্গীর, শরিফুজ্জামান, মলায় কান্তি, নুরুল ইসলাম, শান্তা, রতœা, উর্মি আজিজ, সুবর্ণাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ধুলিহর কোমরপুর মাঠে উপ-সহকারি কৃষি অফিসার বিশ্বজিত দাশ, শাহানা আফরোজ, নীল কণ্ঠ সরকার, কৃষক মহরম, মঞ্জুর, এনামুল, তরুণ মন্ডলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।