ব্রহ্মরাজপুরে হত্যার পর গৃহবধুর মুখে বিষ ঢেলে মরদেহ ফ্যানে ঝুলিয়ে দেয় ঘাতকরা


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: সদরের ব্রহ্মরাজপুরে অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধুকে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালানোর সময় জনতার সহযোগিতায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন জনকে আটক করেছে। নিহত গৃহবধুর নাম আঁখি বসু (২০)। তিনি যশোরের কেশবপুর থানার গড়ভাঙা গ্রামের গোবিন্দ বসু ও জোসনা বসুর মেয়ে। গোবিন্দ বসু জানান, তার মেয়ে আখি বসুকে হত্যা করেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের এসকে বোস তার স্ত্রী অশোকা বোস এবং ছেলে অরূপ বোস (২৫)। তিনি আরও জানান, বছর দেড়েক আছে অরূপ বোসের সাথে তার মেয়ে আঁখির বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্বশুর আঁখির উপর যৌন নির্যাতন করতো। বাবা ও ছেলে দুজনই যৌন নির্যাতন করতো আঁখির উপর। তাদের এ অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করতো শাশুড়ি অশোকা বোস। মঙ্গলবার সকালে আঁখিকে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশের বিষ ঢেলে দেয় এসকে বোস ও তার ছেলে অরূপ বোস। এরপর মৃতদেহ ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। প্রতিবেশিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর জনতার সহায়তায় আঁখির ঘাতক তার স্বামী অরূপ বোস, শ্বশুর এসকে বোস ও শাশুড়ি অশোকা বোসকে আটক করে।
এদিকে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসানুজ্জামান জানান, আঁখির লাশ ঝুলন্ত থাকলেও তার দু’টি পা মেঝেতে পাতানো অবস্থায় ছিল। পায়ের কাছে একজোড়া স্যান্ডেল থাকলেও তাতে স্পর্শ করেনি। রশিতে বা ওড়নায় ঝুলে আত্মহত্যা করলে ওই স্যান্ডেল জোড়া এলোমেলো হতো। তাছাড়া ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল। নিহত আঁখি তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিল বলে পরিবারের দাবি। তাকে আইসক্রিমের সাথে বিষাক্ত কোন কিছু খাওয়ানোর পর হত্যা করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। নিহতের নাক থেকে দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত পানি বের হচ্ছিল বলে জানান তিনি। তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই হাসানুজ্জামান, এএসআই শিল্লুর রহমান, এএসআই কুতুবউদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে জানান, সার্বিক বিষয় পর্যক্ষেণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গৃহবধু আঁখি বোসকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে মরদেহ ঘরের সিলিংফ্যানে ঝুলিয়ে রাখে। এরপর বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যাবার সময় জনতার সহযোগিতায় পিতা পুত্র ও মাতাকে আটক করা হয়েছে।
সদর থানার অফিসার ইনচাচর্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। আসামী তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাবার পর বিস্তারিত জানা যাবে।