মরে গেছে মরিচ্চাপ নদী: পুনঃখননের দাবি


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯ ||

আশাশুনি ব্যুরো: মরে গেছে এক সময়ের প্রমত্তা মরিচ্চাপ নদী। আশাশুনিতে মরিচ্চাপ নদী ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়ে ছোট নালায় বা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের সূর্যখালি স্লুইস গেট হতে সাতক্ষীরা সদরের প্রাণসায়ের পর্যন্ত ভায়া শোভনালী ইউনিয়নের কামালকাটি টু বদরতলা হয়ে ইছামতি নদীর সংযোগস্থল পর্যন্ত মরিচ্চাপ নদী এখন কোথাও খাল, কোথাও নালা আবার কোথাও বাঁধ দেয়া। উপজেলা থেকে উল্লেখিত যায়গা থেকে আরও পশ্চিমে বাকি নদীর অংশ আর অবশিষ্ট নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের অপরিকল্পিতভাবে ইজারা প্রদানের ফলশ্রুতিতে নদীটি এখন চাষের জমিতে পরিণত। এখন ডিঙি নৌকা তো দূরে থাক নদীর নিশানা পাওয়া বড় ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে মরিচ্চাপ নদী দিয়ে লঞ্চ, স্টিমার ও বড় বড় মালবাহী নৌকার ভারত বাংলাদেশ যাতায়াত ছিল। তখন দেশ বিদেশের মানুষের চলাচলের একমাত্র বাহন ছিল নদী পথের বিভিন্ন বাহন। তখন মানুুষের আনাগোনায় মুখরিত থাকত নদীপারের হাট-বাজারগুলি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্র্তার যোগসাজশে নদীর ভরাট হওয়া অংশ এলএ কেসের মাধ্যমে ইজারা দিয়ে নদীকে অবঙ্গা করে নতুন নতুন কাঁচা-পাকা বসতি স্থাপন করা হয়েছে। এ এলাকার প্রধান আয়ের উৎস ছিল ধান্য ফসল এখন হয়েছে চিংড়ি চাষ। সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে মুল নদীর চর ভরাটি জমি ইজারা নিয়ে বাঁধ বা বসতবাড়ি তৈরী করায় নদীর নাব্যতা একেবারেই হারাতে বসেছে। ফলে চিংড়ি চাষের জন্য পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও বন্ধ হতে বসেছে। শুকনা মৌসমে চিংড়ি ঘের গুলি শুকিয়ে থাকে আর বর্ষা মৌসম এলেই ডুবে যায় পুরো শোভনালীসহ পার্শ্ববর্তী দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও সাতক্ষীরা সদরের নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে মানুষ যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমন ডুবে থাকার কারনে বর্ষা মৌসমে শিশুদের পানিবাহিত রোগ-পীড়া লেগেই থাকে। এলাকাবাসী যতই ক্ষতিগ্রস্ত হোক নতুন নতুন ইজারা দিয়ে পাউবো’র একটি পক্ষ বেশ ফুলে ফেঁপে উঠেছে। মরিচ্চাপ নদীটি আশাশুনি উপজেলা সদরের বুক চিরে শোভনালী উপর দিয়ে বদরতলা বাজারে গা ঘেষে প্রবাহিত হয়ে একটি শাখা ইছামতি নদীতে ও আরেকটি শাখা নদী ব্যাংদহা বাজার হয়ে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়ের খালে গিয়ে মিশেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে এবং অবৈধভাবে নদী দখলের ফলে নদীটি তার যৌবন হারিয়ে মৃতপ্রায়। এলাকা ও এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে অতি দ্রুত নদীটি খনন করে নদীর জীবন ফিরিয়ে আনা অতীব জরুরী। তা না হলে কৃষি হোক আর চিংড়ি চাষ হোক কোনটাই সম্ভব হবে না। বরং হাজার হাজার হেক্টর জমির মালিক বিপদগ্রস্থ বা আর্থিক দৈন্য দশায় পড়বে বর্তমানে তো পড়তেই আছে। মরিচ্চাপ নদীর পানি, মাটি ও চরভরাটি জমির অব্যবস্থাপনায় একন মরন ফাদে পরিনত হতে চলেছে। পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার পথ দিন দিন যে ভাবে সংকোচিত হয়ে আসছে তা রোধ করাসহ এলাকার সার্বিক স্বার্থে নদীটি পুন:খননের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল থেকে শুরু করে ভূক্তভোগী জনগন।