৫ কোটি টাকা! হেসেই উড়িয়ে দিলেন শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী প্রদীপ কুমার মন্ডল


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯ ||

আব্দুস সামাদ: শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক প্রদীপ কুমার মন্ডল। জেলা প্রাথমিক শিক্ষার বড় বাবু নামেই বেশি পরিচিত। নিয়োগ বাণিজ্য, বদলী বাণিজ্য, ডেপুটেশন বাণিজ্য, পিআরএল ও পেনশন বাণিজ্যসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সকল অবৈধ কাজের মূল হোতা এই বড় বাবু প্রদীপ। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অবৈধ সকল প্রকার কাজ। উচ্চমান সহকারী হয়েও প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করছেন সাতক্ষীরা শহরে বিলাসবহুল আলীশান বাড়ি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রদীপ কুমার মন্ডল ২০০০ সালে উচ্চমান সকহারী কাম হিসাবরক্ষক হিসেবে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় যোগদান করে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন উপজেলা চাকরি করে ২০০৮ সালে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক হিসেবে বদলী হয়ে আসেন। সাতক্ষীরায় যোগদানের পর থেকে তিনি (প্রদীপ কুমার মন্ডল) ঘুষের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সকল প্রকার নিয়োগ, বদলী, ডেপুটেশন, পি আর এল ও পেনশনসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ কাজ শুরু করেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তার বিরুদ্ধে চাকুরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা গ্রহণ, নৈশ প্রহরী নিয়োগ, প্রশ্নপত্র ফাস ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাইয়ে দেওয়ারসহ আরো বেশ কিছু লিখিত অভিযোগে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত কমিটি তাকে অন্যত্র বদলী করার জন্য সুপারিশ করলে প্রায় ১০ বছর পর ২০১৮ সালের মার্চ মাসে তাকে শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বদলী করা হয়। বদলীর প্রায় ২ মাস অতিবাহীত হলেও তিনি (প্রদীপ কুমার মন্ডল) কর্মস্থলে যোগদান না করায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাকে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নিদের্শ দেন। একই সাথে অনুলিপি দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে। কিন্তু তিনি (প্রদীপ কুমার মন্ডল) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিনকে ম্যানেজ করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন বলে জানা গেছে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, তিনি (প্রদীপ কুমার মন্ডল) গত কয়েক বছরে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। এর মধ্যে সাতক্ষীরা শহরের পৌরসভায় ২নং ওয়ার্ডের রথখোলা বিলের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করেছে বিলাশ বহুল ৪তলা বাড়ি। বাড়ির প্রতি তলায় রয়েছে চারটি করে উইনিট। বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মানের জন্য তিনি অফিসে যেতে পারেন না। তাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করেই কর্মস্থলে অনুপস্থি থাকেন।
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি (প্রদীপ কুমার মন্ডল) জেলা অফিস থেকে বদলীর শেষ মাসে সর্বমোট বেতন তুলে ছিলেন ২৯ হাজার নয়শ ১৬ টাকা। এই বেতনে কিভাবে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মাণ করা যায় সেটিই এখন জেলাবাসীর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে জানা যায় যোগদানের পর থেকে প্রায় এক বছর অতিবাহিত হতে যাচ্ছে এ উপজেলায়। কিন্তু সব মিলিয়ে মাত্র কয়েক দিন অফিস করেছে। শ্যামনগর অফিসের উপস্থিত সকলের কাছে তার অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাকে ম্যানেজ করেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন।
কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মির্জা মিজানুর রহমান বলেন, মাঝে মাঝে আসেন, মাঝে মাঝে আসেন না। এ বিষয়ে তাকে বলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকে অফিস করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উচ্চমান সহকারী প্রদিপ কুমার বলেন, অফিসের কিছু কাজে সব সময় জেলা অফিসে থাকতে হয়। তাই উপজেলা অফিসে গিয়ে আমাকে নাও পাওয়া জেতে পারে। উচ্চমান সহকারী হয়ে কিভাবে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল বাড়ি করছেন এমন এক প্রশ্নের তিনি তেমন কোন উত্তর না দিয়ে বিষয়টি হেসেই উড়িয়ে দেন।
শ্যামনগর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক প্রদিপ কুমার মন্ডলের অনুপস্থিতির বিষয়ে জেলা অফিসকে অবহিত করলেও সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।