ডাক্তার সংকট চরমে: শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ব্যহত


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯ ||

আজিজুর রহমান, শ্যামনগর (সদর): জেলার শ্যামনগর উপজেলায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের প্রধান স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে ডাক্তার সংকট চরমে। ৩৩ জন ডাক্তারের বিপরীতে আছে মাত্র ৩ জন। উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন হতে প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসে চিকিৎসা সেবা নিতে এখানে। ৩ জন ডাক্তার দিয়ে এত রোগীর চিকিৎসা সেবা রীতিমত দুরূহ। উপায়ন্তর না পেয়ে অনেক রোগী স্থানীয় বিভিন্ন কিøনিকে অধিক অর্থ ব্যয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষ সরকারি ভাবে চিকিৎসা সেবা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বহির্বিভাগে রোগীরা দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে আছে। দায়িত্বরত ডাক্তার যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন ব্যবস্থাপত্র দিতে। একই সাথে জরুরী বিভাগ ও বহির্বিভাগে ৩ জন ডাক্তারের পক্ষে সামাল দেওয়া অসম্ভব। দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। চোখের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েছে চরম বিপাকে। বেশিরভাগ চক্ষুরোগীদের সাতক্ষীরাসহ অন্যান্য জায়াগায় রেফার্ড করা হচ্ছে। গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আসা চক্ষুরোগী ফিরোজ জানান, হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা করতে এসে জানা যায় ডাক্তার নেই। গরীব মানুষ, সাতক্ষীরা যেতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে অর্থোপেডিকস, গাইনি, সার্জারি ও ডেন্টল বিশেষজ্ঞ পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে শুন্য আছে। ফলে সংশ্লিষ্টরোগীরা চরম বিড়ম্বনার মধ্যে অন্যে কোথাও অতি কষ্টে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে অর্থোপেডিকস কনসালটেন্ট (জুনিয়র), গাইনি কনসালটেন্ট (জুনিয়র), সার্জারি কনসালটেন্ট (জুনিয়র) ও ডেন্টল কনসালটেন্ট (জুনিয়র), মেডিসিন সহ মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদ দীর্ঘদিন খালি আছে। আবাসিক রোগীদের চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে টিএইচএ পদটি দীর্ঘদিন খালি আছে। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে সরকারি ভাবে এক্স-রে ও সার্জারি বিভাগের জন্য সব ধরনের সুবিধা ধাকলেও ডাক্তারের অভাবে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সার্জারি বিভাগের ডাক্তার না থাকায় প্রসূতি মহিলারা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। স্থানীয় বিভিন্ন বে-সরকারি ক্লিনিকে অধিক অর্থ ব্যয় হচ্ছে গরিবদের। এ ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যুর ঝুকিও বাড়ছে। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান।
তাছাড়া কর্তব্যরত ডাক্তারগণ অল্প কিছুদিন কর্মস্থলে অবস্থান করার পর বিভিন্ন অজুহাতে বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যায়। সরকারের বলিষ্ঠ ঘোষণার পরেও এ অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, সব বিষয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।