আর্কাইভ ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯


শহীদ মিনার ও আমার  বর্ণমালা/ বিমল কৃষ্ণ রায়



অস্তিত্বে বৈশাখ নিয়ে নগ্ন পাঁয়ে হাঁটি ক্রমান্বয়ে হাঁটতে থাকি মিনারের দিকে। এ মিনার স্মৃতির প্রতীক, শক্তির প্রতীক বুকের ভেতর শোকের পতাকা, বেদনার ব্রীজ। দু’চোখে আগুন আর স্বাপদের প্রতি ঘৃণায় মুষ্ঠিবদ্ধ হাত, এখানে সবাই প্রতিজ্ঞায় অটল। মিনারের পাদদেশে এভাবেই কেটে যায় শীতের সকাল, শ্রদ্ধা, শোক ও শপথে উজ্জ্বল ফুলে ফুলে ভরে...

এই নাও ফুল এই নাও বসন্ত/ শেখ সালেক



আমি এক উড়োনচ-ী ভবঘুরে একলা পথিক পকেটে নেই রুমাল কোনো সুগন্ধী পথে যেতে যেতে তোমার ঘামেই যদি কপাল ভাবনা কিসের এতো? আমার আছে শুষ্ক দু’টি ঠোঁট তৃষ্ণা ভরা বুক রৌদ্র তাপে একটু যদি ভিজেই তোমার চিবুক চিন্তা কেন করো? আমার আছে শুষ্ক দু’টি ঠোঁট, তৃষ্ণা ভরা বুক।   আজ বসন্তে...

অমরত্ব দাও, মগ্ন রেখো প্রেমে/ কাজী রুনা লায়লা খানম



জলসিঁড়ি ভেঙে ভেঙে এসেছিল অমার্জিত রাত নারীর অমৃত বুকে মায়াবী চাঁদ উঠলে জন্মান্ধ কবিও নাকি জ্যোৎস্না স্তোত্র লিখে দিতে পারে   সকাল গিয়েছে মিশে উদাসীন পথের ধূলায় শ্রান্ত দুপুরগুলো ধুয়ে গেছে লবণাক্ত জলে চলে যেতে যেতে পিছু ফিরে পড়ন্ত বিকেল তোমার চোখেই যদি নীড় খোঁজে!   তুমিই তো বলেছিলে একদিন...

মায়ের প্রতি/ চন্দ্রানী গোস্বামী



মা তোমার শেখানো বর্ণমালায় অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে।   স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণরা ভিজে সপসপে, তোমার বানানো সাঁকোটা ভীষণ রকম এগিয়ে চলেছে কবিতা ছোঁবে বলে   আজ আলোর মুদ্রার সামনে দাঁড়িয়েও মারাত্মক ছুঁতে চাইছি তোমায়, সূর্যাস্তের পর বিষাদ ছায়া আমার হাতে হাত রাখার আগে ছুঁয়ে থেকো নাড়ির ভেতর যেমন করে ছুঁয়েছিলে নয় মাস;...

রূপ ও রূপান্তর/ বাবুল চৌধুরী



অন্তরে-বাহিরে ঝড়, মেঘের দৌড়ঝাঁপ বেণী বেঁধে কিশোরী মেঘ গোমড়ামুখো আকাশে মেঘগুলি কপট বালিকা হলে তার বিষণ্ণ মুখ বিরোধের চিঠি দিয়ে যায়।   রূপ-রূপান্তর চোখে সময়ে সয়ে গেছে। প্রকৃতি নামের মেয়েটি যে সেজেগুঁজে এই হেসে লুটোপুটি, আবার খেয়ালি সে অগোচরে এ জীবন লোপাট করে যায়।   অরণ্যে নিখোঁজ পাখির মৃতদেহ রোদ্দুরে...

আলো/ তাজিমুর রহমান



পরিচিত শব্দগুলো হামাগুড়ি দেয় শূন্যে ভেঙে যায় নদীপাড় বিকেলের আকাশে আশঙ্কার মেঘ! আর চোখে জন্ম নেয় অস্থিরতা একটু বুঝে নিতে দাও   আমি, ফেরিওয়ালার কন্ঠে ভাসি হারানো সুর! যদি সন্ধ্যা হয় আলো সাজিয়ে রাখি ঝুড়িতে ঝুড়িতে...

নিজের ভিতর/ সাবরিন নিশা



নিজের ভেতর থাকতে থাকতে বড্ডো ক্লান্ত অন্তরে বাহিরে অকপট আমার কাউকে আর আপন আলোয় ঠাওরে আসে না সত্য আমার পেছনে হাঁটে ঠিক সামনেই আমি বুক চিতিয়ে দাঁড়াই বারবার বলতে ইচ্ছে করে একা থাকার কি দু:সহ যন্ত্রণা জাগতিক অনুভূতি প্রায়োগিক সীমাবদ্ধতার কাছে নতি স্বীকার করে একতরফা যুদ্ধের দামামা বাজিয়েও একতরফাই যুদ্ধ...

বিশেষ কেউ হয়ে বাঁচা/ জ্যোৎস্না রহমান



প্রত্যাশা নামের মেয়েটির ঠোঁটে ভালবাসা রঙের লিপস্টিক আর নাকছাবিতে অভিমানী পাথর, চোখ দুটোয় উজ্জ্বল দুটো তারার বসবাস তাকালেই বিছিয়ে দেয় তাঁদের ঐশ্বরিক দ্যুতি   সে যখন নীল রঙের শাড়ীতে বুকে বেঁধে রাখা সমুদ্র আগলে রাখত তখনই অশান্ত ঢেউয়ের সাথে কাজলের যুদ্ধ শুরু।   সে ঘর নয় একটি জানলা হতে চেয়েছিল...

একুশের পংক্তিমালা/ নৃপেন চক্রবর্তী



তোমার জন্য আমার সারাদিন তোমার জন্য আমার সারারাত তোমার জন্য আমার অহংকার তোমার জন্য আমার অশ্রুপাত।   তোমার জন্য আমার চেয়ে থাকা তোমার জন্য আমার হাসি মুখ তোমার জন্য আমার ব্যকুলতা তোমার জন্য আমার শান্তি সুখ।   তোমার জন্য আমার চাওয়া পাওয়া তোমার জন্য আমার রক্ত পাত তোমার জন্য আমার...

একুশের কথা/ মো. আব্দুল্লাহ সিদ্দীক



আহ্ রে বাচা! শোনরে কথা, অমর একুশের কথা কই, এসেছিলো পূর্ব বাংলায় পাক সেনারা এখন তারা কই? সেই ১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি এসেছিলো দেশে হায়েনা বেশে পাকিস্তান, পাক-বাহিনী নিলো কাড়ি কতো বাঙালির প্রাণ। ভাষার তরে পাক-হানাদার করলো কতো উৎপাত, অজ¯্র প্রাণ গেল বিসর্জন অর্জিত হলো বাংলা ভাষা নির্ঘাত। ঢাকার রাজপথে চালালো...

একটি করে একুশ আসে/  গোবিন্দ গোস্বামী 



একটি করে একুশ আসে ! উজ্জীবিত প্রাণেরা হাসে ! যারা ছিলো একদিন দেশাত্মবোধে গরীয়ান ! মাতৃভূমির সম্মানে উৎস্বর্গকৃৎ প্রাণ-বলীয়ান ! তফাৎ দেখেনি জন্মধাত্রী আর জন্মভূমির  ! মায়ের সাথে মাতৃভাষার-সহ¯্র ভীর উপেক্ষা করে সমস্ত প্রতিকূলতা ! রাজ দ- রক্ত-চক্ষু সুবিধে ভোগীর নির্মমতা ! উত্তরসূরি শিখবে সুললিত বাংলা ভাষা ! মাতৃক্রোড়ে বসে-অন্তরে...

একুশে ফেব্রুয়ারি/পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায়



বিপ্লবের মরশুমে জ্বলে ওঠা অরণ্যে বাদাড়ে ওরা ফিরে ফিরে আসে মৃত শহীদের রক্তে ভেসে যায় সংগ্রামী কৃষ্ণচূড়া মায়ের কান্নায় ভিজে ওঠে স্বরবর্ণের প্রতিটি অক্ষর   মা বসে মাটির দাওয়ায় দখিন হাওয়ায় ঝিরঝিরে উনুনে সুখ রাঁধতে রাঁধতে মা চেনায় অ এ অনুমতি থথথযা নারীর শৃঙ্খল আ এ আদেশ থথথযা পুরুষের বাহারী...

৭৬ তম জন্মস্টেশনে কবি আসাদ চৌধুরী/সালেম সুলেরী



    জীবনের উপান্তে যেন নিজেকে দ্বিখন্ডিত করলেন। অনেকের চোখে আধা স্বদেশী, আধা প্রবাসী। ছিলেন বাংলাদেশের কবি-পরিব্রাজক। পান বা তাম্বুলপ্রিয় সহজকাব্যের প্রিয়মুখ। ভারতবাংলাতেও বাউল-বৃত্তান্তের বরপুরুষ। অথচ জীবনের অনুষঙ্গে যোগ হয়েছে প্রবাস। শীতপ্রধান কানাডাতেও প্রবাসবাংলার উজ্জল ব্যক্তিত্ব।   ২০০৩-এর ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনবাংলা’র অভিযাত্রা। (বাংলাদেশ-ভারত-প্রবাসবাংলা’র সাহিত্য-সংস্কৃতি-প্রধান সংগঠন)। কিংবদন্তী ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন ছিলেন...