একুশের কথা/ মো. আব্দুল্লাহ সিদ্দীক


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯ ||

আহ্ রে বাচা! শোনরে কথা,

অমর একুশের কথা কই,

এসেছিলো পূর্ব বাংলায় পাক সেনারা

এখন তারা কই?

সেই ১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি

এসেছিলো দেশে হায়েনা বেশে পাকিস্তান,

পাক-বাহিনী নিলো কাড়ি

কতো বাঙালির প্রাণ।

ভাষার তরে পাক-হানাদার

করলো কতো উৎপাত,

অজ¯্র প্রাণ গেল বিসর্জন

অর্জিত হলো বাংলা ভাষা নির্ঘাত।

ঢাকার রাজপথে চালালো গুলি,

উড়লো মানবের মস্তক খুলি।

ঝরলো রক্ত,রঞ্জিত হলো রাজপথ,

চেয়েছিলো পাকিস্তান বাঙালি নিধন,

ভাষার জন্য বাংলা মা জননী

হারালো কতো সন্তান।

শত চেষ্টায় চেয়েছিলো বাংলা ছিনাতে,

পারিনিকো তারা বাঙালি দমাতে।

মাতৃভাষার তরে শুন্য হলো

কতো মায়ের বুক,

জীবন দানের অজ¯্র মহিমায়

উজ্বল করলো বাংলার মুখ।

 

 

মিছিল, সেøাগান ও একটি দীপ্ত দুপুর

 

কারা যেন চোখে বশ: তাবিজ ছোঁয়ায়ে ভাঙছে আঁতুড় ঘর।

 

জল্লাদের মত হাসতে হাসতে ভাষা নিয়ে যাচ্ছে কাষ্ঠে

 

আর একটি সীমা বহির্ভুত অগ্রাহ্যতা চাপিয়ে দিচ্ছে বুকে।

 

রামসুন্দর বসাকের জ্ঞান! প্রনীত সব অক্ষরের রঙ,

 

এক দাম্ভিক উচ্চারণে ঢেকে দিচ্ছে বিপর্ণ নখ চেতনার পদাবলি।

 

এখানে ওখানে বর্ণের পোড়া কন্ঠস্বর,

 

ঢোলক বাজাচ্ছে সব শোষকের খিস্তি খেউড়।

 

তখন ছাত্রাবাস, রাজপথে প্রাণে প্রাণে ছড়াচ্ছে দ্রোহ,

 

আগুন পথে ওরা হাঁটছে মিছিলে গেয়ে সত্তার গান,

 

বুকের ডান অলিন্দে, বাম অলিন্দে জিয়ন পাখির প্রাণ।

 

দ্যাখো আমতলার সমাবেশ ক্ষোভে, উত্তেজনায় ফুঁসছে

 

প্রতিবাদে কাঁপছে মিছিল, স্লোগান ও একটি দীপ্ত দুপুর।

 

শোষকের উদ্ধত বুলেট বুকে ওরা লিখছে অ-আ-ক-খ,

 

শহীদের রক্তরাঙা ¯্রােতে তখন বর্ণমালাটির মুখ ভাসছে।