শহীদ মিনার ও আমার  বর্ণমালা/ বিমল কৃষ্ণ রায়


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯ ||

অস্তিত্বে বৈশাখ নিয়ে নগ্ন পাঁয়ে হাঁটি

ক্রমান্বয়ে হাঁটতে থাকি মিনারের দিকে।

এ মিনার স্মৃতির প্রতীক, শক্তির প্রতীক

বুকের ভেতর শোকের পতাকা,

বেদনার ব্রীজ।

দু’চোখে আগুন আর

স্বাপদের প্রতি ঘৃণায় মুষ্ঠিবদ্ধ হাত,

এখানে সবাই প্রতিজ্ঞায় অটল।

মিনারের পাদদেশে

এভাবেই কেটে যায় শীতের সকাল,

শ্রদ্ধা, শোক ও শপথে উজ্জ্বল

ফুলে ফুলে ভরে ওঠে

মিনারের বেদী, শহীদ মিনার,

দিকে দিকে বেদনা বিহবল মানুষের ঢল;

সযতেœ লালন করে সংগ্রামী চেতনা

কন্ঠে কন্ঠে করুণ বেহাগ, শোকার্ত সঙ্গীত।

আটই ফাল্গুন, একুশে ফেব্রুয়ারি  উনিশশ’ বায়ান্ন

হৃদয়ে প্রোথিত সত্ত্বায়

এ এক সংগ্রামী সময়।

সালাম, বরকত, শফিউর, রফিক,

যাদের রক্তে প্রতিষ্ঠা পায়

অ, আ, ক, খ, বাংলা বর্ণমালা।

এই সেই শহীদ মিনার,

সংগ্রামের ধারক বাহক,

শহীদের স্মৃতি চিহ্ন,

শোকের প্রতীক,

শক্তির প্রতীক।

 

আমি অপলক চেয়ে থাকি মিনারের দিকে,

দু’চোখে ভাসতে থাকে বাঙলা প্রতিটি অক্ষর।

দু’চোখে ভাসতে থাকে সন্তানহারা মায়ের ক্রন্দন,

শোকার্ত পিতার মুখ,

ভাই-বোন,

আত্মীয় স্বজন।

কতো কষ্ট, কতো রক্তের

বিনিময়ে টিকে আছে মাতৃভাষা

দু’হাত কাঁপতে থাকে,

হাতে ধরা ফুল রাখি

শহীদ বেদীতে।

 

রক্তের ভেতর উত্তাল সমুদ্র,

খেলা করে বৈশাখী ঝড়,

নিমিষেই ঝড়ের দাপট

সব কিছু করে দেয় ওলট-পালট।

 

চোখের তারায় নাচে আলোর সংকেত,

উত্তরণের সিঁড়ি,

এই সিঁড়ি বেয়েই দেখো,

সর্বত্র পৌছাবো বাঙলা অক্ষর।

 

অস্তিত্বে বৈশাখ নিয়ে নগ্ন পায়ে হাঁটি,

কিছুই চাইনা যদি

বিশ্বের আনাচে-কানাচে

ধ্বনিত হয় আমার মায়ের মুখের বুলি,

আমার দু:খিনী বর্ণমালা,

যদি আমি শুনতে পাই দিকে দিকে বাংলার জয়ধ্বনি।

 

 



error: Content is protected !!