ঝুঁকির মুখে জেলার ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ: সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন


প্রকাশিত : February 26, 2019 ||

পত্রদূত ডেস্ক: জেলার প্রায় ২৫০ কিলোমিটার উপকূলরক্ষা বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে আসন্ন দুর্যোগ মৌসুমে এসব বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা। দেখা দিতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এলাকাবাসির।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর, গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন এবং আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, খাজরা, আনুলিয়া ও বড়দল ইউনিয়ন ঘিরে প্রবাহিত কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী। আর দেবহাটা উপজেলার ভাতশালা ও কোমরপুর এলাকা দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীর বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
এসব এলাকার বেড়িবাঁধ ভাঙতে ভাঙতে কোথাও কোথাও আর মাত্র এক-দেড় হাত অবশিষ্ট রয়েছে। যা যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে প্লাবিত হতে পারে গোটা এলাকা।
খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতে, জেলার ৭৯৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
জেলার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাটি গ্রামের সব্রত কুমার মন্ডল জানান, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাটি, পূর্বপাতাখালী, চাউলখোলা ও বন্যতলায় বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। ওইসব পয়েন্টে বেড়িবাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আতাউর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের চারদিক কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীবেষ্টিত। অন্তত ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
শ্যামনগর উপজেলার আরেকটি দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা। গাবুরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাকছুদুল আলম জানান, আইলা ও সিডরে বিধ্বস্ত গাবুরার নাপিতখালী, লেবুবুনিয়া, কালিবাড়িসহ তার আশপাশের এলাকায় বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো নজর নেই। বাঁধ না ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কখনও খোঁজখবর নেয় না।
জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের হিজলিয়া, কোলা, শুভদ্রকাটি, কুড়িকাউনিয়া, চাকলা, দয়ারঘাট, মনিপুর, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙতে ভাঙতে আর এক-দুই হাত অবশিষ্ট আছে। এবছর বেড়িবাঁধ ভেঙে তার ইউনিয়ন অন্তত দশবার প্লাবিত হয়েছে।
‘বাঁধ না ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঘুম ভাঙে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একবার বাঁধ ভাঙলে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ তলিয়ে যায়। অবকাঠামো নাজুক হয়ে পড়ে। বাঁধ ভাঙলে সংস্কার করা হয়, ভাঙার আগে বার বার বলা সত্তেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় না। তার ইউনিয়নের অন্তত ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
ঠিক একই অবস্থা আনুলিয়া, বড়দল, খাজরা ইউনিয়নেও। আর দেবহাটা উপজেলার ভাতশালা ও কোমরপুর এলাকায় সীমান্তবর্তী ইছামতি নদীর বেড়িবাঁধের অবস্থাও একই রকম।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোড পাউবো-১ এর আওতায় ৩৭৭ দশমিক ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ কিলোমিটার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
অপরদিকে, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোড পাউবো-২ এর আওতায় ৪২২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে ১৫০ কিলোমিটার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
পাউবো-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে নোটশিট পাঠিয়েছি। বাজেট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদীর বেড়িবাধ সংস্কারের দাবিতে গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাটিতে মানবন্ধন করেছে একতা যুব সংঘ ও উন্নয়ন সংগঠন বারসিক।
এদিকে শ্যামনগর উপজেলার আইলা বিধ্বস্ত দ্বীপ ইউনিয়ন পদ্মপুকুরে খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদীর বেড়িবাধ সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১২টায় পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাটি একতা যুব সংঘ ও উন্নয়ন সংগঠন বারসিক এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। বিরূপ আবহাওয়ায় বৃষ্টির মধ্যেও মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে কামালকাটি একতা যুব সংঘের সভাপতি উত্তম কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফ হোসেন, ঠাকু রানী মন্ডল, মঞ্জু রানী মন্ডল, তরুন কুমার মন্ডল, পলাশ কুমার মন্ডল, সঞ্জিত কুমার মন্ডল, শশাংক কুমার মন্ডল, বিপ্লব কুমার মন্ডল, জাকির হোসেন, পঙ্কজ কুমার মন্ডল, ডা. বিশ্বজিৎ মন্ডল প্রমুখ।