ধুলিহর আদর্শ হাইস্কুলের পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার: ১৫ লক্ষ টাকায় চুক্তি করলেন শিবির নেতা ছালাম


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯ ||

আব্দুস সামাদ: সদর উপজেলার ধুলিহর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা আগামী শুক্রবার। পাতানো এ নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিক নাশকতা মামলার আসামী শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার আব্দুস সালামের পক্ষে ভাড়ায় (প্রক্সি) পরীক্ষা দিবেন তিনজন। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সর্বোচ্চ দর উঠেছে ১৫ লক্ষ টাকা। শিবির ক্যাডার নাশকতা মামলার আসামী আব্দুস ছালাম ১৫ লক্ষ টাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করার পর কর্তৃপক্ষ এ পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেছেন। বিদ্যালয়ের হলরুমে ১ মার্চ বেলা ২টা ৩০ মিনিটে বসবে পাতানো পরীক্ষার আসর। বিদ্যালয়ের সভাপতি শেখ আব্দুর রশিদ নিজেই স্বাক্ষর করে প্রবেশপত্র ছেড়েছেন।
গোপন সংবাদে জানা গেছে, সম্প্রতি একজন জনপ্রতি বিদ্যালয়টি ঘুরে আসার পর বিদ্যালয়ের সভাপতি শেখ আব্দুর রশিদ ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান শিবির ক্যাডার আব্দুস ছালামকে নিয়োগদানে মরিয়া হয়ে ওঠে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাবু সানার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একাধিক নাশকতা মামলার আসামী আব্দুস ছালাম আশাশুনি উপজেলার আগরদাড়ি হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মহিষাডাঙ্গার দুখিরাম ঢালীকে, সদরের শিমুলবাড়িয়া হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামায়াত ক্যাডার আহসান হাবিবকে এবং মাছখোলা হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিএম সামছুল হককে পাতানো পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা খরচ করে ভাড়া করেছেন। যদিও এসব শিক্ষকরা ভাড়ায় পরীক্ষা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তাদের সাথে কথা বলার মাধ্যমে জানা গেছে, আব্দুস ছালাম ওইসব শিক্ষকদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন এবং কারো বাড়িতেও গিয়েছেন। প্রক্সি দেওয়ার জন্য হাতে-পায়ে ধরেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে ধুলিহর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আব্দুর রউফ এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বালতে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ভবন থেকে শুরু করে সকল উন্নয়নে অবদান রাখেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র ম-ল অবসরে গেলে পদটি শূণ্য হয়। শূণ্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপা হয়। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে শুরু হয় চরম বিরোধ। সে বিরোধ উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত শেখ আব্দুর রশিদ বিদ্যালয়ের সভাপতির পদে বহাল থাকেন।
এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ০৭ জন আবেদন করেন। এরমধ্যে আব্দুস ছালামসহ উক্ত চারজন যোগাযোগ করে পাতানো পরীক্ষা দিবেন। অন্য তিনজন হলেন, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আব্দুর রউফের পুত্র ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান, পল্লীমঙ্গল হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও কালিগঞ্জের একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক পার্থসারথী সেন।
জানা গেছে, ধুলিহর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম ১৯৯৩ সালে সাতক্ষীরা সরকারী কলেজে ছাত্র শিবিরের প্যানেলে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাংগাঠনিক সম্পাদক হিসেবে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর তিনি জামায়াতের বায়তুল মাল বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার নামে রয়েছে একাধিক নাশকতার মামলা।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কিম্বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোককে বাদ দিয়ে নাশকতা মামলার আসামী শিবির ক্যাডার আব্দুস ছালামকে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আয়োজনে স্থানীয়রা ফুসে উঠেছে।
এলাকাবাসি উক্ত নিয়োগবোর্ড বাতিলপূর্বক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।