তালায় শিল্পী সরকার হত্যার ঘটনায় আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা: ১ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি মূলহোতা


প্রকাশিত : মার্চ ৩, ২০১৯ ||

তালা (সদর) প্রতিনিধি: তালার খলিশখালী এলাকার অন্ত:সত্ত¡া গৃহবধূ শিল্পী সরকার (২০) কে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা হলেও এক মাসের ভিতরে গ্রেপ্তার হয়নি আসমী। এরপরও মামলাটি তুলে নিতে আসামীরা মোবাইলে বাদী পক্ষেকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গৃহবধু হত্যার হত্যার পর নিহতের পিতা পরিতোষ সরকারের আদালতের দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ ৪ জনকে আসামী করে অভিযোগটি এজাহারভূক্ত করেছে। যার নং-১০/১৯। ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০(সংশোধনী-২০০৩) এর ১১ (ক)/৩০। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফ.আই.আর গ্রহণপূর্বক মামলাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে নিহতের পিতা দাবি করেছেন, গত বছরের ১৩ মে’ তার মেয়ে শিল্পী রাণী সরকারের সাথে বিয়ে হয় একই জেলার পাটকেলঘাটা থানার কৃষ্ণনগর গ্রামের অতুল সরকারের ছেলে ভবতোষ কুমার সরকারের সাথে। বিয়ের সময় পণ হিসেবে ভবতোষকে নগদ ২ লক্ষ টাকা, ২ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার সাংসারিক আসবাব ও তৈজষপত্র প্রদান করেন। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় আরো ১ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। এরপরও যৌতুকলোভী ভবতোষ ক্ষ্যান্ত হয়নি। দোকান ঘরসহ ব্যবসা করতে শিল্পীকে আরো ২ লক্ষ টাকা নিয়ে আসতে বিভিন্ন সময় চাপ এমনকি শিল্পী ফের পিত্রালয় থেকে টাকা আনতে রাজী না হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে নির্যাতন করতো ভবতোষ। যার এক পর্যায়ে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি সকাল ৭ টার দিকে শিল্পীর স্বামী ও তার শ্বশুর, শাশুড়িসহ অন্যান্যরা তার উপর চরম নির্যাতন চালাতে থাকে এতে এক পর্যায়ে শিল্পীর মৃত্যু হলে তারা তাকে গলায় গামছা পেচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুঁলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়।
নিহতের পিতা আরো দাবি করেন যে, মেয়ের বাড়ি এলাকার আশুতোষ, সন্তোষ ও গৌতমসহ অন্যান্যরা তাকে ফোন করে তার কন্যাকে হত্যার খবরটি দেয়। এরপর তিনি অন্যান্যদের সাথে নিয়ে শিল্পীর স্বামীর বাড়িতে গিয়ে বারান্দায় তার মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর লাশের কাছে গিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও গলায় একাধিক ক্ষত চিহ্ন দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিক স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করলেও কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে মেয়েকে হারিয়ে পরিতোষ যখন শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তখন ময়না তদন্তের পর এক প্রকার তড়ি-ঘড়ি করে তার স্বামীর বাড়ির লোকেরা লাশের সৎকার সম্পন্ন করে। এরআগে ঘটনায় পাটকেলঘাটা থানায় একটি ইউডি মামলা হয়।
এরপর অসহায় পিতা পরিতোষ খানিকটা স্বাভাবিক হয়ে গত ১৫ জানুয়ারি সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে ঐ অভিযোগ করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পাটকেলঘাটা থানাকে এফআইআর গ্রহণপূর্বক তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। যার আদেশ নং-০১। তারিখ ১৫-১-১৯।