যশোরের শার্শা-বেনাপোলে ফসলহারা কৃষকের মাথায় হাত


প্রকাশিত : মার্চ ৪, ২০১৯ ||

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা বেনাপোলের কন্দপপুর ও গোগায় প্রবল শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বিভিন্ন সবজিসহ ফসলের ক্ষেত। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য ছোট বড় গাছ। দায় দেনা করে চাষ করা ফসল হারিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। অনেক চাষীর উঠেছে মাথায় হাত।
কৃষি প্রধান এলাকা যশোরের শার্শা ও বেনাপোল। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে সবুজ ফসলের ক্ষেত। গত তিন দিনের প্রবল শীলাবৃষ্টিতে শার্শার কন্দপপুর ও গোগায় ধান-পটল, লাউ, বেগুন মসুরী, গম, কলা ও পেপেসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে। ভেঙে পড়েছে আম লিচু, কলা, রেইন্টি, জামসহ বিভিন্ন প্রকার ফলদ ও বনজ বৃক্ষ। প্রকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দিন কাটছে হতাশা ও উৎকন্ঠায়। দায় দেনা করে চাষ করা কৃষকেরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। এ দুরাবস্থায় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি কর্মকর্তারা খোঁজ খোজ খবর নেয়নি বলে অভিযোগ চাষীদের। সরকারের সহযোগিতা চান তারা
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রামচন্দুপুর গ্রামের আলী আকবার ও মিয়াদ আলী এবং কন্দপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার ও চন্দু মিয়া বলেন, অনেক কষ্টে দায় দেনা করে মাঠে করেছেন গম ধানও লাউয়ের চাষ। শীলাবৃষ্টিতে সব শেষ করে দিয়েছে তাদের স্বপ্ন। খোজ খবর নেয়নি কেউ। তাদের সংসার কাটবে কষ্টে। সবজি ও ফসলের ক্ষেত হারিয়ে নির্বাক অনেক পরিবারের সদস্যরা প্রকৃতির এমন আচারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তারা।
চাষী মোমিন উদ্দিন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য রোজিনা খাতুন, সালেহা খাতুন বলেন তাদের কষ্টের কথা। কৃষিই তাদের পেশা। শিলাবৃষ্টিতে তাদের আশা ভরসা শেষ করে দিয়েছে। মাথা উচু করে দাড়াতে পারকে কিনা হতাশা তাদের। মেম্বর সায়েদ আলী ও দর্শণার্থী শাহিনুজ্জামান বলেন, অনেকদিন পর এমন শীলাবৃষ্টিতে হতবাক অনেকে। নির্বাক তারা। অনেতে আসছেন ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষেত দেখতে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ায়নি জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগের কেউ। ফসল হারানো এসব পরিবারের পাশে এসে কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার দাবি জানান জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা।
উপজেলায় শীলাবৃষ্টিতে প্রায় সাড়ে ৪শ’ হেক্টর জমির ধান সবজি আমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকের বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিভাগ অচিরেই চাষীরা এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে বলে আশা কৃষি কর্মকর্তার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা বলেন, কয়েকটি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি থাকলেও উপজেলায় বেশির ভাগ এলাকায় ক্ষতি হয়েছে কম। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে কাজ করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা। আম গম ও মুসরীর ক্ষতি হলেও ধানের তেমন ক্ষতি হবেনা বলে জানান তারা।