আইসিটি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পাশাপাশি মাদক মামলায়ও ফাঁসানো হচ্ছে সাংবাদিকদের


প্রকাশিত : মার্চ ৯, ২০১৯ ||

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: আইসিটি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পাশাপাশি মাদক মামলায়ও ফাঁসানো হচ্ছে সাংবাদিকদের। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সংবাদ কর্মিরা। ২০১৩ সালে আইসিটি আইনে ৫৭ ধারা যুক্ত হওয়ার পর গত কয়েক বছর ধরে এই আইনে নাগরিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ধারাটি বাতিলের অভিযোগ করে আসছিলেন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার-কর্মীরা। কিন্তু গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাসের পর দেখা যাচ্ছে সেখানে ৪টি ধারায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিতর্কিত ৫৭ ধারাটিকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের ১৪ জুন খুলনার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশে সংশ্লিষ্ট আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা তপন কুমার সাহা সময়ের খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কাজী মোতাহার রহমান ও স্টাফ রিপোর্টার সোহাগ দেওয়ানের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)’র ৫৭ ও ৬৬ ধারায় মামলা করেন।
৩০ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে অন লাইন পোর্টাল ‘বাংলা ট্রিবিউন’ ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় ‘খুলনা-১ ভোটারের চেয়ে ২২৪১৯ ভোট বেশি পড়েছে!’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। উক্ত সংবাদ প্রকাশের কারণে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। এ কারণে ‘বাংলা ট্রিবিউন’ এর খুলনা প্রতিনিধি হেদায়েত হোসেন মোল্লা ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার খুলনার স্টাফ রিপোর্টার রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী বটিয়াঘাটা থানায় ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ৩১, ৩৩ ও ৩৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নী পর্যটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আরটিভি’র ক্যামেরা পারসন মনির হোসেনকে ৫ পিস ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ১৬ডিসেম্বর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সাংবাদিক ফকির শহিদুুল ইসলামকে খালিশপুর চিত্রালী বাজার থেকে ধরে নিয়ে ফুলতলা জামিরা রোড থেকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩বোতল ফেন্সিডিল দিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এছাড়া গত বছরের ৪ অক্টোবর দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মো. শাহ আলমকে হত্যার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। এঘটনায় তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। গত ৬ মে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পিছন থেকে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি মো. তহিদ শেখকে একটি বিদেশি বন্দুকসহ গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে এমামলায় তহিদের দু’ভাই ওবায়দুল ও আলামিন গ্রেপ্তার হয়। তহিদ, ওবায়দুল ও আলামিন নগরীর পুর্ব বানিয়াখামার লোহার গেট এলাকার মো. জাহাঙ্গীর শেখের ছেলে। এঘটনায় তারা প্রচার করে শাহআলম তাদের ধরিয়ে দিয়েছে। আর এজন্য তারা কারাগারে থেকেও লোক মারফত সংবাদ দেয় জেলখানা থেকে বের হয়ে শাহআলমকে জীবনের তরে শেষ করে ফেলবে। এরই জের ধরে গত ৫জুন নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকা থেকে ১২০পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয় পুরন্দার সানা ও ইনছান। এসময় সাংবাদিক শাহ আলম পত্রিকা অফিসে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীরা অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে ওই মামলায় শাহ আলমকে আসামি করে।
আইসিটি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পাশাপাশি মাদক মামলাসহ অন্যান্য মামলায় সাংবাদিকদের ফাঁসানো থেকে বিরত থাকার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংবাদকর্মিরা।