সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শুভসন্ধির পথচলা


প্রকাশিত : মার্চ ১০, ২০১৯ ||

জাবের হোসেন
‘প্রাণের পূর্ণ জাগরণ, ভালোর সঙ্গে সারাক্ষণ’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংঘ শুভসন্ধি। একঝাক মেধাবি তরুণদের সমন্বয়ে জেলার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে গড়ে তুলেছেন এই স্বেচ্ছাসেবী সংঘ। শুভ সংঘের লক্ষ্য উদার গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক ও বিভেদহীন শুভবোধসম্পন্ন মানসিকতা অর্জন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মের মাধ্যমে বিশ্বমানবতার কল্যাণে এগিয়ে গিয়ে মর্যাদাপূর্ণ মনুষ্যত্ব অর্জন। স্বদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে সমাবিষ্ট সুন্দরের সঙ্গে সহাবস্থান তৈরি করা।
বর্তমান সময়ে স্বেচ্ছায় কাজ করার জন্য অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রয়েছে। তবে আনুলিয়ায় এই প্রথম কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংঘ গড়ে উঠেছে। যেটি গড়ে তোলায় সংশ্লিষ্ট এলাকার আপামর জনসাধারণ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন উদ্যোক্তাদের। এলাকার লোকজন বলেন , নি:সন্দেহে এটি একটি ভালো কাজ। যেটি এলাকার শক্তিশালি ভাব-মূর্তি তৈরি করবে।
জানা যায়, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সমাজ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান শুভসংঘ । মূল উদ্যোক্তা দুইজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। যার একজন গাজী সালাউদ্দীন হেলাল অন্যজন মো. তরিকুল ইসলাম। সহযোগিতায় রয়েছেন নয়ন, শংকর, জীবন, শাহিন, জাকির, কাউয়ূম, সাজ্জাদ, আশরাফুলসহ আরো অনেকে।
বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আত্মমর্যাদা ও বিকশিত জীবনের চর্চা, সংস্কৃতিকে লালন, অহিংস পরিশুদ্ধ উপলব্ধি সঞ্চারণ ঘটানো, দূষণমুক্ত সমাজ গঠন, দেশপ্রেম, একটি সুখি-সুন্দর সমাজ গঠন এবং এলাকার সর্বপরি উন্নয়নকে তরাণি¦ত করা এই সংঘের উদ্দেশ্য।
জানা যায়, সম্প্রতি গড়ে ওঠা এই সংঘের ভবিষ্যত পরিকল্পনা। তাদের কার্যক্রমের ভিতরে পাঠাগার স্থাপন, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপন, অসহায়দের সহযোগিতা প্রদান, স্কুল-কলেজে ক্যাম্পেইন, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, গুনিজনদের সম্মাননা ও স্মরণ, বার্ষিক ক্রোড়পত্র প্রকাশ, ফাউন্ডেশন, নারী-শিশু নির্যাতনে গণসচেতনতা, সর্বোপরি সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন জীবনবোধের চর্চা করা।
সংঘটি সম্পূর্ণ দাতব্য প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সকল সদস্য সমান গুরুত্ব পাবে। সংঘের সকল সদস্যকে সমালোচনার উর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে। কোন প্রকার ছল-চাতুরি গ্রহণযোগ্য হবেনা এখানে। এছাড়া কেউ হেয়প্রতিপন্ন হবে তেমন কথা বা কাজ করা যাবেনা। কোনো গ্রুপিং করা যাবেনা। ব্যক্তিগত, বৈষয়িক ও রাজনৈতিক কাজে প্রতিষ্ঠানের ভাব-মূর্তি ব্যবহার নিষিদ্ধ। একক ভাবে কোনো কাজ করা যাবেনা। প্রতি এক বছরের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন হবে।