বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুন্দরবনে জেলে অপহরনের অভিযোগ


প্রকাশিত : মার্চ ১৪, ২০১৯ ||

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: পশ্চিম সুন্দরবনে সাতক্ষীরা রেঞ্চে পুষ্পকাটি বন টহল ফাঁড়ির ওসি মহসিন আলমের বিরুদ্ধে সুন্দরবনে জেলেদের অপহরন করে মুক্তিপন আদায়ের অভিযোগ উঠেছেন। অপহৃত জেলেরা হলেন, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিন কদমতলা ইছাক সরদরের ছেলে সোহরাব হোসেন ও তার ছেলে সাব্বির ইসলাম এবং কয়রা উপজেলার মাটিয়াডাঙ্গা রহিম গাজীর ছেলে কামরুল ইসলাম ও কেরামত হাওলাদারের ছেলে সবুর হাওলাদার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলেদের পক্ষ থেকে সোহরাব হোসেন প্রতিকার চেয়ে সাতক্ষীরা সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) রফিক আহম্মেদ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত ৩ মার্চ সুন্দরবনে পুষ্পকাটি এলাকা থেকে জেলেদের অপহরণ করা হয়।
অবিযোগ সূত্রে এবং সোহরাবের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কদমতলা বন স্টেশন অফিস হতে ৪৭/৩৪৯ নং অনুমতি পত্র (পাশ) নিয়ে সুন্দরবনে পুষ্পকাটি খালে মাছ ধরতে যায়। গত ৩ মার্চ পুষ্পকাটি এলাকায় মাছ ধরার সময় পুষ্পকাটি টহল ফাঁড়ির ওসি মহসিন আলমের নেতৃত্বে বন অফিসের সদস্যরা তাদের অপহরণ করে। জেলেদের ব্যপক মারপিঠ করে ১০ টি সাদা কাগজে সই করে নেয় এবং মুক্তির জন্য ৫ লাখ টাকা দাবি করে মহসিন আলম। দরকষাকষির এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকায় দফারফা হয়। কোন উপায় না পেয়ে সোহরাব মহাজনের কাছ থেকে সুদে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে মহসিন আলমকে পরিশোধ করার পরে জেলেদের মুক্তি দেয়। বাকি ২০ হাজার টাকার জন্য জেলেদের ব্যবহৃত নৌকা ও জাল আটকে রেখে বিষয়টি অন্য কাউকে না জানানোর জন্য জেলেদের হুমকি দেয় মহসিন আলম। এবিষয়ে ওসি মহসিন আলমের নিকট যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) রফিক আহমেদ অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা কেএম কবীর উদ্দীনের নেতৃত্বে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে রফিক আহমেদ জানান।