গভীর রাতে আটককৃত বিপুল পরিমাণ নোট-গাইড ফেরত নিয়ে গেলেন মালিকরা


প্রকাশিত : মার্চ ১৬, ২০১৯ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: এনসিটিবি’র অনুমোদনহীন নোট-গাইড বন্ধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকার নোট-গাইড বন্ধে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক আইন-২০১৮ প্রণয়ন করেছে। অথচ এ আইন প্রয়োগে প্রশাসনের উদ্যোগ পরিলক্ষিত না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জেলাব্যাপী লাইব্রেরীগুলোতে নোট-গাইড ও গ্রামার বইয়ে সয়লাব হলেও অভিযান চালাতে দেখা যায়না প্রশাসনের। এমনকি পিক-আপ ভর্তি নোট-গাইড আটক করে কোন ধরণের ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বৃৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শহরের নাজমুল সরণীর পপি ও বইমেলা লাইব্রেরী থেকে পিক-আপ ভর্তি বিপুল পরিমাণ নোট-গাইড আটক করেন সদর থানার পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) আবুল কালাম। বইগুলোর মুল্য আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা। অনুপম, গ্যালাক্সি ও পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স প্রকাশিত বইগুলো তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণির সহায়ক গ্রন্থ। বইগুলো ছাড়িয়ে নিতে বইমেলা লাইব্রেরীর প্রোপাইটার জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্যা ও পপি লাইব্রেরীর মিলন আহমেদ দুপুরে সদর থানায় সদলবলে যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে সিদ্ধান্তহীনতা। দুপুরে অফিসার-ইন-চার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা যাচাই-বাচাই করে দেখবেন,বইগুলো বৈধ কিনা। অবৈধ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আটককৃত বই ও লাইব্রেরীর মালিকদের বিরুদ্ধে কোনরুপ আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে শুক্রবার রাতেই বইগুলো ফেরত দেয় পুলিশ। এবিষয়ে সদর থানার ওসি জানান, প্রশাসনিক সহযোগিতা না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া সরকার প্রণীত আইনের বিরুদ্ধে প্রকাশকরা হাইকোর্টে করা রিটের অনুলিপি প্রদর্শণের ফলে জব্দকৃত বই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

 

জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অবৈধ নোট গাইড জব্দে পুলিশের ভূমিকা প্রশসংনীয়। জব্দকৃত বই ও মালিকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতে শাস্তি নিশ্চিত করলে ভাল হতো। তবে হাইকোর্টের দাখিলকৃত রিটের অনুলিপি প্রদর্শণের জন্য হয়ত আটককৃত বইগুলো ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে, জেলার প্রত্যেকটি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসাগুলোতে অবৈধ নোট-গাইড ও ব্যাকরণ বই পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে পড়ানো হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা শহরগুলোর লাইব্রেরীগুলোতে তাই এখন নিষিদ্ধ নোট-গাইডে সয়লাব। এতে বিপাকে অভিভাবকরা। চড়া মুল্যে এসব নোট-গাইড ও ব্যাকরণ বই কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এমনকি অভিভাবকদের জিম্মি করে ইংরেজি গ্রামারের সাথে বাংলা ব্যাকরণ বই কিনতেও বাধ্য করছেন বিক্রেতারা। বিদ্যালয়গুলোতে এসব বই ধরাতে কাজ করছে প্রকাশক, শিক্ষক সমিতি ও পুস্তক ব্যবসায়ীরা। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক আইন-২০১৮তে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বোর্ড কর্তৃক পাঠ্যপুস্তক হিসেবে অনুমোদিত নয়, এমন কোন বই কোন বিদ্যালয়ের জন্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে নির্ধারণ করা যাবেনা। এছাড়া আইনে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণকারী প্রকাশক, বিতরণকারী, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা ভুল তথ্য দিলে তিন বছরের কারাদ- বা অর্থদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। বাজারের সয়লাব এসব বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা আছে কিনা, তাও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এবিষয়ে জেলা নাগরিক মঞ্চ আন্দোলনের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান মাসুম বলেন, আটককৃত বইগুলো ছেড়ে দেয়ার অর্থই হচ্ছে, অবৈধ নোট ও গাইডের প্রতি প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন সমর্থন। যেটি দু:খজনক। তাছাড়া অবৈধ এসব নোট-গাইড ও ব্যাকরণে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা একান্ত প্রয়োজন।