তালায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: তালায় শিয়াল মারা ফাঁদে লাগানো বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে আরাফাত (৯) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। সে উপজেলার নেহালপুর গ্রামের খায়রুল শেখের পুত্র এবং নেহালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নেহালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি পোল্ট্রির ফার্মে এ ঘটনা ঘটে।
মুক্তিযোদ্ধা বাবর আলী জানান, স্কুলের পাশের বাগানে ৪-৫ জন ছেলে ফুটবল খেলা করছিলো। বল মুরগীর খামারের পাশে গেলে আরাফাত সেটি কুড়িয়ে আনতে গেলে খামারের পাশে জিআই তারে বিদ্যুৎ লাইন দেওয়া থাকায় তারের সাথে সে আটকে যায়। বল নিয়ে ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় সব বন্ধুরা সেখানে ছুটে যায়। এ সময় তিনি ঘটনাস্থলে এসে বিদ্যুৎ লাইন অফ করে তাকে উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
খামার মালিক মেহেদী হাসান জানান, রাতে মুরগী শিয়ালে নিয়ে যায়। সে কারণে রাতে খামারের পাশ দিয়ে শিয়াল মারার জন্য তারের সাথে কারেন্ট দেওয়া হয়েছে। তবে বাচ্চাটি মারা যাবে তা আমি ভাবিনি। এ ঘটনায় তিনি দু:খ প্রকাশ করেন। তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জেলা নাগরিক কমিটির ২৩ দফা দাবি

 

সাতক্ষীরায় ২৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে জেলা নাগরিক কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক মো. আনিসুর রহিম। সভায় জেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সুপরিকল্পিতভাবে নদী ও খাল খনন করে জোয়ার ভাটার প্রবাহ চালু করা, বিশুদ্ধ খাবার পানির নিশ্চয়তা, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ ১ম শ্রেণির পৌর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে মানসম্মত চিকিৎসা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় বাইপাস সড়ক থেকে একটি কানেক্টিং রাস্তা আলীপুর চেকপোষ্টের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাতক্ষীরায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও যশোরের নাভারণ থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ ও সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলে পর্যটন শিল্প স্থাপন করা, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মান সম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ হাসপাতালের সকল প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও সাধারণ জনগণকে হয়রানী বন্ধ করা, ভোমরা স্থলবন্দর ও সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলকে আধুনিকায়ন করে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা, জেলার সকল চলাচলে অযোগ্য সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করা এবং রাস্তাঘাট সংস্কার ও পুন:নির্মান করা, সাতক্ষীরা শহরের যানজট নিরসনে অবৈধ যানবহন চলাচল নিষিদ্ধ এবং ফুটপথ দখল উচ্ছেদ, শহরের রাস্তাগুলো প্রশস্থ ও ডিবাইডার দিয়ে ওয়ান ওয়ে রাস্তা তৈরিসহ বৈধ যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা, জেলার অভ্যন্তরে সকল খাল, ছোট নদী ও জলাশয়ে বাঁধ, নেটপাটা অপসারণ করে সরকারী ভূমিতে অবৈধ ইজারা বাতিল এবং বেতনা, মরিচ্চাপ ও ইছামতি নদীর সঙ্গে প্রাণ সায়র খালের সংযোগ স্থাপন করে অবৈধ খাল দখল উচ্ছেদ করা। বেতনা ও মরিচ্চাপের  জোয়ার ভাটার পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ইছামতির সাথে মরিচ্চাপ হয়ে বেতনা ও খোলপেটুয়া নদীর সাথে সংযোগ খাল সংস্কার ও খনন করা, প্রধান সড়কের অপ্রয়োজনীয় স্পীডবেকার অপসারণ করা এবং প্রয়োজনীয় স্পীডবেকারগুলো রং দিয়ে মার্কিং করা, সাতক্ষীরায় বেকার সমস্যা সমাধানে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ও শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলা, ঘুষ-দলবাজী-চাদাবাজী ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া, সরকারিভাবে প্রকৃত কৃষক চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ন্যায্যমূল্যে ধান-পাট ও গমসহ জরুরী খাদ্যসশ্য ক্রয় করে সরকারি গুদামে মজুদ করা, খেতমজুর, দিনমজুর, কৃষক, শ্রমীকসহ খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা এবং মজুরী বৈষম্য দূর করা, সাতক্ষীরার আমসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের ক্রয় বিক্রয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট কৃষি বাজার নির্মাণ করা, জেলায় উৎপাদিত বিভিন্ন ফল ও শাক-সবজী সংরক্ষণের জন্য চাহিদা অনুযায়ী উপজেলায়-উপজেলায় আধুনিক হিমাগার নির্মাণ ও একটি ফিসারিজ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা, সাতক্ষীরা পৌরসভাধীন সুলতানপুর বড় বাজার, পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলা ও ইটাগাছা বাজারে বহুতল ভবন নির্মাণসহ আধুনিক বাজারে রূপান্তরিত করা। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে জেলার হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও ইঞ্জিন ভ্যান উচ্ছেদ না করা। স্কুল-কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পাঠদান পদ্ধতি নিশ্চিত করা এবং যত্রতত্র কোচিং ব্যবস্যা বন্ধ করা এবং সাতক্ষীরায় উন্মুক্ত অডিটোরিয়াম ও অধিক জনসমাগম এলাকায় পাবলিক টয়লেট স্থাপন করাসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এড. আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম-সদস্য সচিব আলিনুর খাঁন বাবুল, জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য শিক্ষাবিদ আব্দুল হামিদ, সৈয়দ ইফতেখার আলী, শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, এম, কামরুজ্জামান, মো. আব্দুল বারী, মমতাজ আহমেদ বাপ্পী, শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু, মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি, মাধব চন্দ্র দত্ত, মো. নাজমুল আলম মুন্না, মুনিরুদ্দীন, জিএম মনিরুজ্জামান, অপরেশ পাল, আবুল কাশেম ও আহসানুর রহমান প্রমুখ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৩ এপ্রিল বুধবার সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে সাতক্ষীরায় রেলপথ, সড়কপথ ও সকল নাগরিকদের অধিকারের দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচীর ডাক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ এপ্রিল শনিবার সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।

ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলেই গুলি: সাজ্জাদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি: পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, ২৪ মার্চের উপজেলা নির্বাচন হবে সাতক্ষীরার মাটিতে আর একটি রোল মডেল নির্বাচন। এখানে ভোটাররা ভোট দিতে আসবেন নির্ভয়ে ও নির্বিঘেœ। শান্তিপূর্ণভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ভোটাররা বাড়ি চলে যাবেন। আমরা আপনাদের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেবো। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স মাঠে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৯ (৩য় ধাপ) ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আইন শৃংখলা বিষয়ক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, কোন মহল যদি ভোট কেন্দ্রে এসে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে বা কেন্দ্রে কোন পক্ষকে জেতানো বা হারানোর চেষ্টা করে বা ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে আমি তাদেরকে সর্তক করে দিয়ে বলতে চাই, তাদের পরিণতি হবে খুব ভয়াবহ। বিশৃংখলা করলে তারা কেন্দ্র থেকে প্রাণ নিয়ে বাড়ি যেতে পারবেনা। জোর করে ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলেই গুলি করা হবে। ২৪ মার্চের নির্বাচন হবে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদন্নোতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ, সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের এডিশনাল এসপি মেরিনা আক্তার, কালিগঞ্জ সার্কেলের এডিশনাল এসপি জামিরুল ইসলাম, তালা সার্কেলের এডিশনাল এসপি অপু সরোয়ার, দেবহাটা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার ইয়াছিন আলী, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান, জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ আলী আহমেদ হাশেমী, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোমিন হোসেনসহ জেলার ৮টি থানার অফিসার ইনচার্জ, এসআই, এএসআই ও ফোর্সবৃন্দ।

দেবহাটার স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৭ কর্মীসমর্থককে আটক করায় থানা ঘেরাও

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটা থানা ঘেরাও করেছে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার সকাল ৮টায় দেবহাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক স ম গোলাম মোস্তফার সাতজন কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তারা থানাও ঘেরাও করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে।

থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. স ম গোলাম মোস্তফা, দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নেওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, কুলিয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম, দেবহাটা সদর ইউপির চেয়ারম্যান আবু বকরসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. স ম গোলাম মোস্তফা জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশ কোন কারণ ছাড়াই পারুলিয়া ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, সখিপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রায়হান, মনিরুল ইসলাম, আবুল কাশেম, রাজু আহম্মেদসহ ৭ জনকে আটক করেছে।

তিনি বলেন, পুলিশ অন্যায়ভাবে কোন কারণ ছাড়াই ভোটের মাত্র দুদিন আগে নেতা-কর্মীদের আটক করায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে থানা ঘেরাও করেছে। তাদের না ছাড়া পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট চলবে। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সাহার সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রসঙ্গত, ২৪ মার্চ দেবহাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তালার কয়েকটি কেন্দ্রে ঝুকিপূর্ণ আশঙ্কা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: আগামী ২৪ মার্চ তালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী (টিউবওয়েল) ইখতিয়ার হোসেন তালার বেশকটি ইউনিয়নের ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র আশঙ্কা করে জেলা প্রশাসক সহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, গত ১৬ মার্চ নগরঘাটা এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি দুর্বৃত্তদের হামলার স্বীকার হন। এ সময় তার মটরসাইকেলসহ তিনটি মটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রশাসনের সহযোগিতায় গাড়ীগুলো উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় পরের দিন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন প্রতিনিয়ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কর্মি সমর্থকদের দ্বারা হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে নগরঘাটা ইউনিয়নের চকারকান্দা, কাজী নজরুল বিদ্যাপীঠ, রহমাদিয়া, মিঠাবাড়ী, কুমিরা ইউনিয়নের দাদপুর, অভয়তলা, ভাগবাহ, তেতুলিয়া ইউনিয়নের সুভাষীনি, লক্ষণপুর, তালা সদর ইউনিয়নের বারুইহাটি, মাঝিয়াড়া, খলিষখালী ইউনিয়নের হাজরাপাড়া, জালারপুর ইউনিয়নের কানাইদিয়া ও খলিল নগর ইউনিয়নের মহান্দি, হাজরাকাঠি ও জিয়ালা নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ঝুকিপুর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তুফান কোম্পানী মোড় রাঁধানগর সড়কে পিচের রাস্তা নির্মাণ কাজ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের তুফান কোম্পানী মোড় রাঁধানগর সড়কে পিচের রাস্তা পাকাকরণ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাজী ফিরোজ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সড়কে নির্মাণ সামগ্রী ঢেলে রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মাহমুদ পাপা, ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিকুল আলম বাবু, মহিলা কাউন্সিলর ফারহা দীবা খান সাথী, পৌরসভার এসও সাগর দেবনাথ, পৌরসভার কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আজিজ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এ.এ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি তুষার রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সাতক্ষীরা পৌর এলাকার তুফান কোম্পানী মোড় রাঁধানগর সড়কে পিচের রাস্তা নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা শুরু করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পৌরসভার অর্থায়ণে ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংগীতা সিনেমা হলের সামনের মেইন সড়ক থেকে তুফান কোম্পানী মোড় রাঁধানগর সড়কে ৫০০ মিটার পিচের রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এসময় পথচারী ও এলাকাবাসির মাঝে এ রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় আনন্দের উচ্ছাস লক্ষ্য করা গেছে।

৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ (ভিডিওসহ)

মো. আসাদুজ্জামান সরদার: ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী মামাতো বোন সামিয়া পারভীনের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। শুক্রবার বেলা তিনটায় সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার হাদিপুরে এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা। তবে মোস্তাফিজ সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা না বললেও তার বড় ভাই মাহফুজুর রহমান মিঠু মোস্তাফিজ-সামিয়া দম্পত্তির জন্য দেশবাসির কাছে দোয়া চেয়েছেন।

পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, কালিগঞ্জের তেতুলিয়া গ্রামের হাজী আবুল কাশেম-মাহমুদা দম্পত্তির ছোট ছেলে বিশ^খ্যাত ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানের আপন মামাতো বোন সামিয়া পারভিন। দেবহাটার হাদিপুর গ্রামের রওনাকুল ইসলাম বাবুর ১ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে সামিয়া তৃতীয়।

 

তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে ¯œাতক (সম্মান) ১ম বর্ষে লেখাপড়া করছেন। বেলা পৌনে তিনটার দিকে বাবা-মা-ভাই ও বন্ধু-বান্ধবসহ ৩০-৩২ জন বরযাত্রী নিয়ে হাদিপুরে কনের বাড়িতে আসেন মোস্তাফিজ। শেরওয়ানী পরা থাকলেও পাগড়ি পরেননি মোস্তাফিজ। তাকে কোলে করে বিয়ের আসরে নিয়ে যেতে চাইলেও তিনি কোলে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে পায়ে হেটেই বিয়ের মঞ্চে বসেন তিনি। এসময় নওয়াপাড়া ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার আবুল বাশার ৫ লাখ ১ টাকা দেনমোহরে মোস্তাফিজ ও সামিয়ার বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। মোস্তাফিজের বড় ভাই মাহফুজার রহমান মিঠু মোস্তাফিজ-সামিয়া দম্পত্তির জন্য দেশবাসির কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, নিউজিল্যান্ডের ওই ঘটনার পর বাড়িতে এসেও ওর মনটা অনেক খারাপ ছিলো। সে কারণে আমার বাড়ি থেকে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। মায়ের পছন্দেই এ বিয়ে। মোস্তাফিজের আপাতত আক্দ হচ্ছে। আগামী বিশ্বকাপের পর বড় আয়োজনের ইচ্ছে আছে। তখন সবাইকে বলে ঘটা করে অনুষ্ঠান করা হবে। দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত আপাতত কনের ছবি আমার গণমাধ্যমে প্রকাশ করছি না।

 

 

সুন্দরবনে ২জেলে আটক

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে অভয়রন্য এলাকায় কাঁকড়া ধরার সময় দুই জেলেকে মালামালসহ আটক করেছেন সুন্দরবন স্মার্ট পেট্রল টিমের সদস্যরা। শুক্রবার ভোরের দিকে সুন্দরবনে লক্ষীখাল থেকে জেলেদের আটক করা হয়। আটক জেলেরা হলেন- গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা গ্রামে ছুরমান সানার ছেলে শাহজাহান সানা (৪৫) একর একই গ্রামের ছবেদ আলীর ছেলে ইউছুপ আলী (৫৫)।
কদমতলা বন ষ্টেশন অফিসার (এস ও) নুরুল আলম জানান, সুন্দরবন নিরাপত্তা টহল দেওয়ার সময় স্মার্ট পেট্রল টিমের লিডার নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে সদস্যরা একটি নৌকা ও কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম সহ ২ জেলেকে আটক করে। আটক জেলেদের বন আইনে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

পারিবারিক পুষ্টি ভাবনা

মো. আবদুর রহমান
পরিবারের প্রতিটি সদস্যের স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে খাদ্য নির্বাচন করতে হয়। তাই পরিবারের খাদ্য পরিকল্পনা, তৈরি ও গ্রহণের সময় সুষম খাদ্যের দিকে সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। এজন্য সুষম খাদ্য সম্পর্কে আমাদের বিশেষ করে গৃহিনীর জ্ঞান থাকা দরকার।
সুষম খাদ্যের বিভিন্ন উপাদানগুলো হলো-প্রোটিন, শর্করা, ¯েœহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। এদের মধ্যে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। মানবদেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধনের জন্য প্রোটিন একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও বাড়ন্ত ছেলে-মেয়েদের জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন খুব বেশি। একই কারণে গর্ভবতী মহিলার গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি ও গঠন ঠিকমতো হওয়ার জন্য এবং প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ তৈরির জন্য তাদের নিত্যদিনের খাবারে প্রোটিনের দরকার অত্যন্ত বেশি। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ডাল মূলত: প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। বাংলাদেশে এজাতীয় খাদ্যের ঘাটতি প্রকট। বর্তমানে দেশের শতকরা ৮০জন লোক প্রোটিনের অভাবে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। সাধারণ হারে একজন মানুষের বছরে ১০০টি ডিমের প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার হার বছরে মাত্র ১৪টি অর্থাৎ মাথাপিছু ৮৬টি ডিমই ঘাটতি। শুধু ডিম নয়, মাছ, মাংস, দুধ ও ডালের ক্ষেত্রেও একই ধরণের ঘাটতি রয়েছে। সুস্থ-সবল, কর্মঠ ও নিরোগ জনশক্তি গড়ে তুলতে দেশে প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। বসতবাড়ির আঙ্গিনায় হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন এবং মিনি পুুকুরে মাছের চাষ করে প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করে তা থেকে পারিবারিক প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা যায়। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের উন্নত পুষ্টি তথা সু-স্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে।
ভিটামিন ও খনিজ লবণ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দেহকে সুস্থ-সবল ও নিরোগ রাখে। শিশু, গর্ভবতী ও দুগ্ধবতী মায়েদের জন্য ভিটামিন ও খনিজ লবণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এর অভাব হলে রাতকানা, অন্ধত্ব, রক্তস্বল্পতা, স্কার্ভি, বেরিবেরি, রিকেটস, মুখ ও ঠোঁটের কোনায় ঘা, গলগন্ড ইত্যাদি নানা ধরনের মারাত্মক অপুষ্টিজনিত রোগ দেখা দেয়। শাক-সবজি এবং ফলমূল ভিটামিন ও খনিজ লবণের উৎকৃষ্ট উৎস। শাক-সবজি ও ফলমূলে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে ভিটামিন ও খনিজ লবণের পরিমান বেশি থাকে। আমাদের দেহের এ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান দু’টির চাহিদার প্রায় সবটুকুই শাক-সবজি ও ফলমূল থেকে পূরণ হয়ে থাকে। তাছাড়াও শাক-সবজি ও ফলমূল হৃদরোগ, স্থুলকায়ত্ব, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের পীড়া ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এজন্য শাক-সবজি ও ফলমূলকে রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য বলা হয়। সুতরাং পরিবারের প্রতিটি সদস্যের শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখার জন্য দৈনন্দিন প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া উচিত।
বর্তমানে আমরা যে পরিমান শাক-সবজি ও ফল খেয়ে থাকি, তা চাহিদার তুলনায় খুব কম। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, খাদ্যকে পুষ্টির দিক থেকে সুষম করতে হলে প্রতিদিন একজন শিশুর জন্য কমপক্ষে ১০০ গ্রাম ও একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের দৈনিক ২০০ গ্রাম শাক-সবজি এবং ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের দেশে একজন পূর্ণবয়স্ক লোক গড়ে প্রতিদিন ৩০ গ্রাম শাক-সবজি ও ৪০ গ্রাম ফল খেতে পায়। সুতরাং ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর শাক-সবজি ও ফলের চাহিদা পূরনের জন্য বসতবাড়ীর আঙিনায় বাগান আকারে বা যার সেখানে যতটুকু পতিত জায়গা আছে সেখানে বেশি করে শাক-সবজি ও ফলের চাষ করা একান্ত প্রয়োজন। শাক-সবজি ও ফলমূলের পারিবারিক চাহিদা মেটাতে খুব একটা বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। আমাদের বাড়ীর আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা জমিগুলো পরিকল্পিত ভাবে পুষ্টি সমৃদ্ধ শাক-সবজি ও ফল চাষের আওতায় আনা হলে তা থেকে সারা বছর পরিবারের সকলের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে অপুষ্টিজনিত রোগ হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
শিশুরা জাতির ভবিষ্যত। আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। শিশুর পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এদেশে ছোট, বড় ও বাড়ন্ত শিশুরাই ব্যাপক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। শিশুর শৈশবকাল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রতিটি শিশুকে সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান করে গড়ে তোলার জন্য জন্মের পর পরই শিশুকে মায়ের বুকের প্রথম দুধ বা শাল দুধ খেতে দিতে হবে। শিশুর জন্য এশাল দুধ খুবই পুষ্টিকর, নিরাপদ ও রোগ প্রতিরোধক। নবজাত শিশুর জন্য শালদুধ ছাড়া অন্য কোন খাবারের প্রয়োজন নেই। জন্মের পর থেকে পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুকে অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। কারণ মায়ের দুধে রয়েছে শিশুর জন্য উপযোগী পরিপূর্ণ পুষ্ঠি উপাদান। মায়ের দুধ সহজপাচ্য ও জীবানুনাশক। এসময় কৌটার গুঁড়োদুধ না দিয়ে মায়ের বুকের দুধ পান করালে শিশুরা স্বাস্থ্যবান হয়। মায়ের দুধ পান করার ফলে শিশুদের দেহে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। মা তার নিজের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য নিয়মিত যে খাবার খেয়ে থাকেন তার চেয়ে কিছু বাড়তি খাবার খেলেই তিনি তার শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় দুধ উৎপাদন করতে পারেন।
বস্তুত ঃ জন্মের পর শিশুকে সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান করে গড়ে তোলার জন্য উপযুুক্ত খাদ্য হিসাবে মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই । শিশুর বয়স পাঁচ মাস পূর্ন হলে শুধু মাত্র মায়ের বুকের দুধ শিশুর শরীরের চাহিদা মেটে না। তাই পাঁচ মাস পূর্ণ হলে শরীরের প্রয়োজন মেটানোর জন্য মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে অন্যান্য খাবারও খাওয়ানো উচিত।
পুষ্টির অভাবজনিত সমস্যা বাংলাদেশের অন্যতম একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। অপুষ্টির নানা কারণের মধ্যে পুষ্টি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবও অন্যতম একটি কারণ। পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়ে এবং সাধারণ স্বাস্থ্য পরিচর্যা বিষয়ক শিক্ষার প্রসার ও প্রয়োগের মাধ্যমে অপুষ্টিজনিত সমস্যা সামাধানে কাজ করা যায়। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনসাধারণের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নের কার্যক্রম চালু হয়েছে। সামাজিকভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবার তথা সমগ্র জাতির পুষ্টির অভাবজনিত সমস্যা একদিন সমাধান হবে। লেখক: উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিস, রূপসা, খুলনা

এম শাহআলম সভাপতি, তোজাম্মেল হোসেন সম্পাদক সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির হাড্ডাহাড্ডির নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এড. এম শাহআলম সভাপতি ও এড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বৃহস্পতিবার ভোট শেষে রাত সাড়ে ৯টায় জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনাতনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড. আব্দুল জলিল (১) ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় প্রার্থীসহ আইনজীবী ও নির্বাচন কমিশনারগণ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনে ৪৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ৪৭২ জন ভোট প্রদান করেন। সূত্র জানায়, ২১ মার্চ নির্বাচনে সভাপতি এড. এম শাহ আলম ২৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়। তার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী বিএনপি’র নেতা এড. শেখ আব্দুস সাত্তার (১) পান ২১০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি নেতা এড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম ২৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ পদে অপর প্রার্থী বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা ল কলেজের প্রভাষক এড. আ. ক. ম রেজওয়ান উল্লাহ সবুজ পান ২২৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। সহ-সভাপতি পদে বিএনপি নেতা মহিতুল ইসলাম ২৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, এ পদে এ টি এম বাসারাতুল্লাহ আওরঙ্গী পান ১৪৫ ভোট ও মোঃ রুহুল আমিন ৯১ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। যুগ্ম-সম্পাদক পদে এ বি এম আনিসুজ্জামান আনিস ১৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, এ পদে আশরাফুজ্জামান বাবু পান ১৫৭ ভোট ও শেখ মুস্তাফিজুর রহমান শাহনেওয়াজ পান ১৩৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। কোষাধ্যক্ষ পদে মো. রফিকুল ইসলাম ২৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, এ পদে মো. মোস্তফা জামান পান ২২৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। সহ-সম্পাদক (লাইব্রেরী) পদে মো. ইউনুস আলী ১৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, এ পদে মো. আব্দুল জলিল পান ১৪৪ ভোট ও আ ক ম শামসুদ্দোহা খোকন পান ১৪৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। সহ-সম্পাদক (ক্রীড়া) পদে মো. আকবর আলী ৩০৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, এ পদে মো. সালাউদ্দীন (২) ১৫০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। সহ-সম্পাদিকা (মহিলা) পদে অন্য কোন প্রর্থী মনোনয়নপত্র জমা না দেয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন লাকী ইয়াছমিন। এছাড়া সদস্যের ৩টি পদে শিহাব মাসউদ সাচ্চু ৩১৫ ভোট, সাহেদুজ্জামান সাহেদ ৩০০ ভোট এবং রফিকুল ইসলাম রফিক ২৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এড. মো. আক্তারুজ্জামান, এড. তারক কুমার মিত্র, এড. আনিছুর কাদির ময়না, এড. শাকিলা খানম। এর আগে সকাল থেকে আইনজীবীগণ স্বত:স্ফুর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

উপকুলজুড়ে খাবার পানির জন্য হা-হা-কা-র

সামিউল মনির, শ্যামনগর: বৃষ্টির পানি শেষ হয়েছে আরও আগে। গত দুই মাস ধরে পুকুরের পানি খাচ্ছি। কিন্তু পানি কমে যাওয়ায় এখন ঘোলা আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি খেয়ে প্রাণে বাঁচতেছি। কথাগুলো উপকুলবর্তী শ্যামনগর উপজেলার খাগড়াঘাট গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বয়সী আমিরণ বিবির।
তার সাথে থাকা গৃহবধু তাসলিমা বেগম জানালেন ৩ কি. মি. দুরবর্তী কাশিপুর গ্রাম থেকে খাবার জন্য পানি নিতে এসেছেন। সাত সদস্যের পরিবারের জন্য সকাল বিকাল দুই বার তাকে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ব্যবহার অযোগ্য পানি টেনে নিতে হয় খাওয়ার জন্য।
তবে এমন দৃশ্য কেবল ঐ খাগড়াঘাট গ্রামে নয়। বরং শ্যামনগর উপজেলার হেঞ্চি, তালবাড়িয়া, কাঁঠালবাড়িয়াসহ গোটা উপকূলীয় জনপদজুড়ে। সর্বত্রই সুপেয় খাবার পানির জন্য রীতিমত হা-হা-কা-র চলছে।
স্থানীয়দের দাবি উপকুলীয় এ জনপদে গভীর/অগভীর নলকূপ সফল না হওয়া, আরডব্লিউএইচ, পিএসএফসমুহ যথাযথভাবে কাজ না করাসহ নানাবিধ কারনে এলাকাবাসির খাবার পানির প্রধান উৎস বৃষ্টির পানি।
কিন্তু বছরের অর্ধেকটা সময় বৃষ্টির পানি দিয়ে চললেও বাকি সময় তারা পুকুরের পানি ব্যবহার করে। কিন্তু দিনে দিনে পুকুরের পানিও কমে যাওয়ায় এখন কর্দমাক্ত আর দুর্গন্ধময় পানিই তাদের একমাত্র ভরসা।
এদিকে খাবার পানি নিয়ে উপকূলবাসির দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে এক বছর আগে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পুকুর, দীঘি ও জলাশয় পুন:খনন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমুহের সমন্বয়হীনতায় পানি সংরক্ষনসহ নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে গৃহীত ঐ পরিকল্পনা শুরুতে হোঁচট খেতে বসেছে।
যদিও কতৃপক্ষের দাবি দুই-একটি স্থানে সমস্যা হলেও দ্রুতই বাকি প্রকল্পসমুহ পুরোপুরি কার্যাদেশ অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
ভেটখালী গ্রামের সুষমা মন্ডল ও সুধা রানী জানান, আইলার পর থেকে প্রায় ৪ কি. মি. দুরের শেখবাড়ির দীঘি থেকে তারা গোটা গ্রীষ্মকালজুড়ে খাবার পানি সংগ্রহ করতো। তিন-চার বছর আগে বিদেশী সংস্থা জাইকা’র পক্ষে স্থানীয় ঈশ্বরীপুর ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) রাস্তাজুড়ে পাইপযোগে বসত বাড়ির সামনে পানি টেনে আনার ব্যবস্থা করে।
কিন্তু এক বছরের মধ্যে পাইপসহ যাবর্তীয় সরঞ্জামাদী নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন আবারও প্রখর রৌদ্রের মধ্যে ঐ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে গত কিছুদিন ধরে পুকুরের পানি কমে যাওয়ায় এখন কাদাযুক্ত পানি খেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। গরম বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে পানি লবণাক্ত হয়ে যাওয়ার অভিযোগও তাদের।
কাঠাঁলবাড়িয়া গ্রামের প্রভাষক সুভাস মন্ডল এবং মুজিবর রহমানসহ স্থানীয়রা জানান, খুটিকাটা, কাঠালবাড়িয়া, কাছিহারানিসহ পাঁচ গ্রামের মানুষের গ্রীস্ম কালের একমাত্র পানির উৎস কাঁঠালবাড়িয়া সরকারি দীঘি। কিন্তু পুকুরটি খননের জন্য শুকিয়ে দেয়ায় এখন সাত/আট কিঃ মিঃ দুরবর্তী বিভিন্ন পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দুরত্ব ভেদে কলস প্রতি দশ থেকে ত্রিশ টাকা পর্যন্ত মজুরী দিয়ে পানি সংগ্রহের কথা জানান তারা।
গ্রামাঞ্চল আর প্রত্যন্ত জনপদে বসবাস করেও টাকা দিয়ে পানি কিনে খাবার প্রায় অভিন্ন অভিযোগ তোলেন ছোটকুপোট, আটুলিয়াসহ আরও অনেক গ্রামের শ্রমজীবি মানুষ। তাদের দাবি ‘ভাত রুটি না খেয়েও এক বেলা থাকা যায়। কিন্তু পানি ছাড়া এক মুহুর্ত কাটে না’। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে পানি বিশ/ত্রিশ টাকায় প্রতি কলস কিনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুকুরের কর্দমাক্ত, দুর্গন্ধময় আর লবনপানি খাচ্ছেন বলেও জানান তারা।
কাঁচড়াহাটি গ্রামের প্রভাষ মন্ডল জানায়, নিজে দিন মুজরের কাজ করে। কিন্তু এলাকার পুকুরের পানি কমে গন্ধ আর ঘোলা হয়ে যাওয়ায় এখন তাকেও টাকা দিয়ে পানি কিনে খেতে হচ্ছে। এমন দৃশ্য প্রায় গোটা উপকুলজুড়ে। খাবার উপযোগী একটু পানির জন্য তারা গ্রীস্মের শুরু থেকে লড়াই করছে বলে জানান।
উপকুলবাসীর খাবার পানির এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। খাবার পানি নিয়ে উপকুলবাসীর সমস্যা নিরসনে এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধীকার প্রকল্পের আওতায় পুকুর, দীঘি, জলাশয় পুন:খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যার অংশ হিসেবে উপকুলীয় এ জনপদে প্রথম পর্যায়ে ৫৭টি পুকুর পুন:খননের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যেখানে নুন্যতম ১৯ লাখ থেকে সবোর্চ্চ ৬৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতিটি পুকুরের জন্য।
এদিকে খাবার উপযোগী পানির সমস্যা নিরসনে গৃহীত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শুরুতে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। জেলা পরিষদের পুকুর দাবি করে প্রকল্প বরাদ্দ দেয়ার পর কিছু পুকুরের মালিকানা দাবি করেছে স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পরিষদ তাদের পৈত্রিক পুকুরকে সরকারি পুকুর উল্লেখ করে প্রস্তাবনা পাঠায়। ফলে সরকারি উদ্যোগে এসব পুকুর পুন:খনন নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঠিকাদার নিয়োগের পরও ভুরুলিয়ার কাটিবারহল গ্রামে ১৬১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পুকুরটির খনন কাজ শুরতেই বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা পরিষদ উক্ত পুকুর নিজেদের দাবি করে পুন:খননের প্রস্তাবনা পাঠালেও স্থানীয়রা দাবি করেছে এটা তাদের পেত্রিক পুকুর।
একই বিদ্যালয়ের সভাপতি শেখ মহিউদ্দীন জানান জেলা পরিষদ শুরুতে এটি তাদের পুকুর বলে দাবি করলেও কাগজপত্র দেখে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে গেছে। ভুল তথ্যে জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর তাদের ঐ পুকুর সরকারি তালিকাভুক্ত করেছিল। প্রায় অভিন্ন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কৈখালীর খোসালপুর সরকারি দীঘিকে কেন্দ্র করে। জেলা পরিষদ সম্প্রতি সেখানে কাজ শুরু করলেও জনৈক আশেক এলাহী উক্ত পুকুর নিজের দাবি করায় সেখানকার খনন কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।
একইভাবে নুরনগরসহ আরও কয়েকটি এলাকায় সরকারি দীঘি নির্ধারন নিয়ে স্থানীয়দের সাথে মত পার্থক্যের কারনে আপাতত সেসব এলাকায় সরকারি উদ্যোগে পুকুর খননের কাজ বন্ধ হওয়ায় খাবার পানি নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে বলে জানান কৈখালীর ইউপি সদস্য অসীম কুমার মন্ডলসহ কাটিবারহল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান।
এদিকে সরেজমিকনে কাঠালবাড়িয়া সরকারি দীঘি পরিদর্শনে যেয়ে দেখা গেছে নানা অনিয়মের মধ্যেই শুরু হয়েছে পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ। কাজ শুরুর তারিখ থেকে সম্পন্ন হওয়ার মেয়াদকাল এমনকি কাজের ধরন কিংবা প্রাক্কলিত ব্যয়সহ কোন ধরনের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড সেখানে লাগানো হয়নি।
পুকুরটি খনন কাজ তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা কালিদাস সরকার জানান, তিনি দীর্ঘদিন জেলা পরিষদ থেকে পুকুরটি ইজারা নিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন। তাই প্রকল্প অনুমোদনের পর কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার তাকে খনন কাজ তদারকির দায়িত্ব দিয়েছে।
জানা যায় পুকুরটি পুর্বেকার পাড় হতে ১৮ ফুট গভীর হওয়ার কথা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে পাড়ের উপর দুই-তিন ফুট মাটি ফেলে ঐ গভীরতা অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা হয়েছে।
স্থানীয় গ্রামবাসী অনিল মন্ডল, সুধাংশু ও আব্দুর রশিদ জানায় কত টাকা বরাদ্দ কিংবা কাজের মেয়াদকাল সম্পর্কিত বিষয়াবলীসহ কোন বিষয়ে কোন সাইনবোর্ড না দেয়ায় তারা কাজ নিয়ে কোন তথ্য দিতে পারছে না। উদ্বোধনের সময়ে এলাকাবাসীল খাবার পানির সমস্যা দুর করতে পুকুরটি পুনঃখননের কথা তাদের জানানো হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েক গ্রামবাসি জানান, প্রায় বত্রিশ লাখ টাকায় ব্যয়ে ঐ পুকুরটি পুনঃখননসহ সেখানে সৌন্দর্য্য বর্ধণের বিষয়ে তারা জেনেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ঐ প্রকল্পের বিসয়ে আর কোনকিছুই তাদের জানানো হয়নি। বিষয়টির মধ্যে সুভংকরের ফাঁকির মত নানা বিষয় থাকতে পারে বলেও তারা দাবি করেন।
এদিকে উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকোশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এতদাঞ্চলের শতকরা সত্তর ভাগ মানুষ পুকুরের পানি পান করে থাকে। স্যালাইন এলাকা হওয়াতে গ্রীস্মকালে পুকুরের পানি কমে যাওয়ায় খাবার পানি সংকট প্রবল আকার ধারন করে। তবে সরকারিভাবে ট্যাংকি সরবরাহ করে বৃষ্টির সময়কার পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয়দের সারা বছরের জন্য প্রয়োজনীয় পানি চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন ১৬৩৮টি গভীর এবং ৩৫৮টি অগভীর নলকুপ ছাড়াও ৩৯৭ টি ভিএসএসটি, ৪৮৩টি এসএসটি, ১০৯৮টি আরডব্লিউএইচ এবং ৫৬৬টি পিএসএফ’র মাধ্যমে স্থানীয়দের পানির চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে।
তারপরও স্থানীয়দের পানির চাহিদা মেটাতে জেলা পরিষদের পুকুরসমুহ পুন:খননের পাশাপাশি ব্যক্তির উদ্যোগে নুতন নুতন পুকুর খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তালায় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে: অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: তালায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইন শৃংখলা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে তালা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. বদিউজ্জামান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (তালা সার্কেল) অপু সরোয়ার, তালা থানার অফিসার (ওসি) মেহেদী রাসেল। উপজেলা কৃষি সম্প্রারণ অফিসার শুভ্রাংকর শেখর দাসের পরিচালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতিা প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন জোয়াদ্দার, পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি নারায়ন চন্দ মজুমদার, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা তাওহীদুর রহমান প্রমুখ।
এ সময় প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. বদিউজ্জামান বলেন, আগামী ২৪ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে অবাধ এবং সুষ্ঠু। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট প্রদানের জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এসময় তিনি নির্বাচনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে আহ্বান জানান। নির্বাচনে যদি কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণ ভোট দিবে: এসএম মোস্তফা কামাল

দেবহাটা ব্যুরো: জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার এসএম মোস্তফা কামাল বলেছেন, আগামী ২৪ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। সবক’টি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়ন থাকবে। যদি কোন প্রার্থী কিংবা তাদের লোকজন ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি অথবা জনসাধরণকে ভোট দিতে বাঁধা দেয় তাহলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জানালে অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর টহলের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাই নির্ভয়ে স্ব-স্ব ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য জনসাধারণের প্রতি আহবান জানান জেলা প্রশাসক। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে হলরুমে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎ মিশ, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা, দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন রতন, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল ওহাব। এসময় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল গনি, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এড. স. ম গোলাম মোস্তফা, মাহবুব আলম খোকন, সাঈদ মাজফুজুর রহমান, শেখ ওজিয়ার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যন প্রার্থীদের মধ্য থেকে যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্নুর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ, আনিছুর রহমান বকুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্য থেকে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস আমেনা রহমান, আফরোজা পারভীন, প্রিয়াংকা রানী ও জিএম স্পর্শ উপস্থিত থেকে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও সভায় কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্য রবি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অবাঞ্ছিত

সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।
বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের এক জরুরি সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাংবাদিকরা। একই সাথে চাঁদাবাজির রিপোর্ট করায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব ও স্থানীয় দুটি পত্রিকা অফিসে হামলা ও ভাংচুর করার হুমকি দেওয়ায় জেলা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সভায় জানানো হয়, ঢাকার একটি পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিক উপলক্ষে বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে প্রধান অতিথি করা হয়। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের নাম ধরে অশোভন ভাষায় মন্তব্য করেন। এর কিছুদিন আগে তিনি একইভাবে প্রেসক্লাবের অপর এক অনুষ্ঠানে অশালীন মন্তব্য করেন। এসবের প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকরা তাকে এখন থেকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। তারা তাকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। একই সাথে বিষয়টি অভিযোগ আকারে প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর স্মারক লিপি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেন সাংবাদিকরা। অপরদিকে চাঁদাবাজি বিষয়ক রির্পোর্ট করায় জেলা ছাত্রলীগ সাংবাদিকদের নামে অশালীন স্লোগান ও স্থানীয় দুটি পত্রিকা অফিস ও প্রেসক্লাব গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি এবং বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, প্রথম আলো পত্রিকার কল্যান ব্যানার্জী সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাবেক সভাপতি আনিসুর রহিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল বারি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, ইয়ারব হোসেন, রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, কামরুল ইসলাম, আবুল কাসেম, আব্দুল জলিল, ড. দিলীপ কুমার দেব, শেখ মাসুদ হোসেন, কাজী শওকত হোসেন ময়না, আমিরুজ্জামান বাবু, এম জিললুর রহমান প্রমূখ সাংবাদিক।

ভোমরা স্থলবন্দরের আমাদানী-রপ্তানী কার্যক্রম চারদিন বন্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি: চারদিনের বন্ধের কবলে পড়েছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। ২১ মার্চ, বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ২৪ মার্চ, রবিবার পর্যন্ত বন্দরের সকল প্রকার আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী ২৫ মার্চ সোমবার থেকে আবারও যথারীতি চলবে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। তবে, পাসপোর্ট যাত্রীরা এ সময় যথারীতি যাতায়াত করতে পারবেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের দোল পূর্ণিমা (হলি), সাপ্তাহিক ছুটি ও আগামী ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোমরা সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশন, জেলা প্রশাসন ও ভারতীয় সিএন্ডএফের যৌথ সিদ্ধান্তে এই চার দিন বন্দরের সকল প্রকার আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, বৃহস্পতিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের দোল পূর্ণিমা (হলি) উপলক্ষ্যে সে দেশের সিএন্ডএফ নেতারা বন্দরের আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ রাখার নিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। এছাড়া শুক্রবার আমাদের দেশের সাপ্তাহিক ছুটি ও আগামী ২৪ মার্চ সাতক্ষীরার ৭ উপজেলায় অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষ্যে অনেক ব্যাংক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তারা শনিবার ও রবিবার নির্বাচণী দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকবেন বলে ভোমরা সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ সিদ্ধান্তে আরো তিন বন্দরের আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আারো জানান, আগামী ২৫ মার্চ থেকে আবারও যথারীতি চলবে ভোমরা স্থল-বন্দরের আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম।
ভোমরা স্থল-বন্দর শুল্ক ষ্টেশনের সহকারী পরিচালক মোঃ নিয়ামুল হাসান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে একটি পত্র প্রেরণ করেছেন। তবে, এই চারদিন বন্দরের আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কাষ্টমস অফিস যথারীতি খোলা থাকবে এবং বন্দর দিয়ে এ সময় পাসপোর্ট যাত্রীরা যথারীতি যাতায়াত করতে পারবেন বলে তিনি জানান।