জেলা নাগরিক কমিটির ২৩ দফা দাবি


প্রকাশিত : মার্চ ২৩, ২০১৯ ||

 

সাতক্ষীরায় ২৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে জেলা নাগরিক কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক মো. আনিসুর রহিম। সভায় জেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সুপরিকল্পিতভাবে নদী ও খাল খনন করে জোয়ার ভাটার প্রবাহ চালু করা, বিশুদ্ধ খাবার পানির নিশ্চয়তা, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ ১ম শ্রেণির পৌর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে মানসম্মত চিকিৎসা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় বাইপাস সড়ক থেকে একটি কানেক্টিং রাস্তা আলীপুর চেকপোষ্টের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাতক্ষীরায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও যশোরের নাভারণ থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ ও সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলে পর্যটন শিল্প স্থাপন করা, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মান সম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ হাসপাতালের সকল প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও সাধারণ জনগণকে হয়রানী বন্ধ করা, ভোমরা স্থলবন্দর ও সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলকে আধুনিকায়ন করে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা, জেলার সকল চলাচলে অযোগ্য সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করা এবং রাস্তাঘাট সংস্কার ও পুন:নির্মান করা, সাতক্ষীরা শহরের যানজট নিরসনে অবৈধ যানবহন চলাচল নিষিদ্ধ এবং ফুটপথ দখল উচ্ছেদ, শহরের রাস্তাগুলো প্রশস্থ ও ডিবাইডার দিয়ে ওয়ান ওয়ে রাস্তা তৈরিসহ বৈধ যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা, জেলার অভ্যন্তরে সকল খাল, ছোট নদী ও জলাশয়ে বাঁধ, নেটপাটা অপসারণ করে সরকারী ভূমিতে অবৈধ ইজারা বাতিল এবং বেতনা, মরিচ্চাপ ও ইছামতি নদীর সঙ্গে প্রাণ সায়র খালের সংযোগ স্থাপন করে অবৈধ খাল দখল উচ্ছেদ করা। বেতনা ও মরিচ্চাপের  জোয়ার ভাটার পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ইছামতির সাথে মরিচ্চাপ হয়ে বেতনা ও খোলপেটুয়া নদীর সাথে সংযোগ খাল সংস্কার ও খনন করা, প্রধান সড়কের অপ্রয়োজনীয় স্পীডবেকার অপসারণ করা এবং প্রয়োজনীয় স্পীডবেকারগুলো রং দিয়ে মার্কিং করা, সাতক্ষীরায় বেকার সমস্যা সমাধানে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ও শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলা, ঘুষ-দলবাজী-চাদাবাজী ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া, সরকারিভাবে প্রকৃত কৃষক চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ন্যায্যমূল্যে ধান-পাট ও গমসহ জরুরী খাদ্যসশ্য ক্রয় করে সরকারি গুদামে মজুদ করা, খেতমজুর, দিনমজুর, কৃষক, শ্রমীকসহ খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা এবং মজুরী বৈষম্য দূর করা, সাতক্ষীরার আমসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের ক্রয় বিক্রয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট কৃষি বাজার নির্মাণ করা, জেলায় উৎপাদিত বিভিন্ন ফল ও শাক-সবজী সংরক্ষণের জন্য চাহিদা অনুযায়ী উপজেলায়-উপজেলায় আধুনিক হিমাগার নির্মাণ ও একটি ফিসারিজ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা, সাতক্ষীরা পৌরসভাধীন সুলতানপুর বড় বাজার, পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলা ও ইটাগাছা বাজারে বহুতল ভবন নির্মাণসহ আধুনিক বাজারে রূপান্তরিত করা। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে জেলার হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও ইঞ্জিন ভ্যান উচ্ছেদ না করা। স্কুল-কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পাঠদান পদ্ধতি নিশ্চিত করা এবং যত্রতত্র কোচিং ব্যবস্যা বন্ধ করা এবং সাতক্ষীরায় উন্মুক্ত অডিটোরিয়াম ও অধিক জনসমাগম এলাকায় পাবলিক টয়লেট স্থাপন করাসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এড. আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম-সদস্য সচিব আলিনুর খাঁন বাবুল, জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য শিক্ষাবিদ আব্দুল হামিদ, সৈয়দ ইফতেখার আলী, শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, এম, কামরুজ্জামান, মো. আব্দুল বারী, মমতাজ আহমেদ বাপ্পী, শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু, মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি, মাধব চন্দ্র দত্ত, মো. নাজমুল আলম মুন্না, মুনিরুদ্দীন, জিএম মনিরুজ্জামান, অপরেশ পাল, আবুল কাশেম ও আহসানুর রহমান প্রমুখ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৩ এপ্রিল বুধবার সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে সাতক্ষীরায় রেলপথ, সড়কপথ ও সকল নাগরিকদের অধিকারের দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচীর ডাক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ এপ্রিল শনিবার সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।