থানায় ১১ জনের নামে মামলা কপিলমুনি বৃদ্ধা নির্যাতন, জেল হাজতে এক


প্রকাশিত : মার্চ ২৫, ২০১৯ ||

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনি তান্ডব চালিয়ে বৃদ্ধা সখিনা (৭৫)কে বেঁধে রেখে নির্যাতন, বসতবাড়ি ভাংচুর, আসবাবপত্র তছনছ ও পরিক্ষার্থী পুতনীর বই খাতা পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করে। পরে রাতে বৃদ্ধার ছেলে সবুর গাজী ১১জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন। রবিবার আটক ৩ জনের জামিন মঞ্জুর করে আদালত ১জনকে জেল-হাজতে পাঠিয়েছেন। ঘটনার সময়ে বৃদ্ধার ৩ ছেলে যশোরে ইটের ভাটায় অবস্থান করছিলেন। এদিকে স্থানীয়রা সখিনার জন্য ভাংচুরকৃত স্থানে নতুন করে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শনিবার (২৩ মার্চ) সকালে উপজেলার কপিলমুনি ইউপির কাশিমনগরে বসতবাড়ি ২৫ শতক জমির বিরোধে আব্দুল গাজীর ছেলে-বৌ ও বহিরাগতরা প্রতিবেশি সখিনাকে বেঁধে নির্যাতন করে তাঁর বসতঘর ভাংচুর করে। এ সময় কাথা-কাপড়, সহায় সম্বল ও এইচএসসি পরিক্ষার্থীর বই-খাতা পুকুরে ফেলে দিয়ে এ জমি দখল চেষ্টা চালায়। এক পর্যায় (ছেলের মেয়ে) পুতনী কেয়া দাদিকে ঠেঁকাতে এসে সেও মারপিটের স্বীকার হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দাদী ও পুতনীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে স্থানীয়দের সহয়তায় দাঁ-কুড়াল ৪টি মটরসাইকেল জব্দ করে দু’নারী সহ ৪ জনকে আটক করে। এ ঘটনার ওই দিন রাতে বৃদ্ধার ছেলে সবুর গাজী প্রতিপক্ষ আব্দুল গাজীর দু’ছেল ইউসুফ, ইউনুছ তাঁর স্ত্রী মঞ্জুয়ারা, বোন হাফিজা, আকবর গাজী, রবিউল মোড়ল, মোস্তফা মোড়ল, শেখ আব্দুল্লাহ সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে, যার নং-৪৩।
এদিকে মাথার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে বই-খাতা হারিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন পরিক্ষার্থী কেয়া মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অজানা আশঙ্কায় ভুগছেন। এ পরিবারের দেখ ভালের কথা জানিয়ে কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা কওসার আলী জোয়াদ্দার বলেন, জমি নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা করেও আব্দুল গাজীর ছেলেদের অসহযোগিতা কারনে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে বৃদ্ধ আব্দুল গাজী বলেন, ভাংচুরের জায়গা চাচাতো বোন সখিনার উল্লেখ করে বলেন, সে ইতোপূর্বে অ্যাওয়াজ মূলে অন্যত্র ভোগ দখল করত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার সেকেন্ড অফিসার আবু সাঈদ জানান, আটক ইউসুফ দম্পত্তি, বোন হাফিজা ও শেখ আব্দুল্লাহকে রবিবার (২৪মার্চ) দুপুরে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে আদালত ইউসুফকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে অন্য ৩ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।