মমতার দরজায় ভোট চাইতে যাবেন বিজেপির চন্দ্র, সৌজন্যের বার্তা প্রতিপক্ষ তিন কন্যারও


প্রকাশিত : এপ্রিল ১, ২০১৯ ||

কলকাতা প্রতিনিধি: নির্বাচনী রাজনীতির ময়দানে একে অপরের প্রতিপক্ষ। যুযুধান দু’পক্ষই চায়, তাঁর প্রতিপক্ষকে ভোটের পরীক্ষায় কুপোকাত করতে। এই অগ্নিপরীক্ষায় নেমে সব পক্ষকেই বিরোধীদের দিক থেকে আসা নানা শ্লেষ, কটাক্ষ বা সমালোচনা হজম করতে হয়। কিন্তু এতসবের পরেও ব্যক্তি সৌজন্য অধিকাংশ সময় হারিয়ে যায় না। বাংলার রাজনীতির সংস্কৃতি সম্ভবত আজও গোটা দেশের সামনে বারবার এই উদাহরণ তুলে ধরতে পারে। এবারের লোকসভা ভোটেও সম্ভবত তার ব্যতিক্রম না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
কেমন সেই সৌজন্যের নমুনা তা বোঝাতে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রকুমার বসুর পরিকল্পনাই যথেষ্ট। চন্দ্রবাবুর কেন্দ্রের এক নম্বর ভিআইপি ভোটারের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অন্যতম প্রতিপক্ষ তথা তৃণমূলের সুপ্রিমো। ভোটের বাজারে নানা ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী অহরহ নিশানা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। তবু মোদির দলের হয়েই মমতার বাড়ির দরজায় ভোট প্রচারে হাজির হবেন চন্দ্রকুমার। আগামী সপ্তাহে প্রচারের জন্য বেশ কয়েকদিন শহরে থাকবেন না মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ফেরার পর একদিন তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে প্রচারে যাবেন বলে ঠিক করেছেন চন্দ্রবাবু। তাঁর কথায়, মমতাদেবীর সঙ্গে আমার পরিচয় রয়েছে। পরস্পরের মধ্যে কোনও তিক্ততার সম্পর্ক নেই। তবে উভয়েই আমরা ভিন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। এর আগে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটে লড়লেও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে প্রচারে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে এবার নিশ্চয়ই যাব। এটা প্রার্থী হিসেবে আমার কর্তব্য বলেই মনে করি। সর্বোপরি, এটা আমার সৌজন্যবোধের মধ্যেও পড়ে। তবে হ্যাঁ, উনি দেখা করলে নিশ্চয়ই বলব, কেন মোদিজির নেতৃত্বে কেন্দ্রে ফের সরকার তৈরি হওয়া উচিত। সেই সুযোগ কিছুতেই ছাড়ব না। উল্লেখ্য, নেতাজির অন্তর্ধান ইস্যুতে ভিন্ন মেরুতে থাকা সুভাষচন্দ্রের পরিবারের অন্যতম সদস্যা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন এমপি কৃষ্ণা বসুর বাড়ি গিয়ে ইতিমধ্যেই ভোটের আবদার জানিয়ে এসেছেন চন্দ্রবাবু। জয়ী হওয়ার জন্য কাকিমা কৃষ্ণাদেবী তাঁকে আশীর্বাদ করেছেন বলে তাঁর দাবি।
সৌজন্যের আচরণে পিছিয়ে থাকতে চান না নজরকাড়া এই কেন্দ্রের প্রতিপক্ষরা। চন্দ্রবাবুর মূল তিন প্রতিপক্ষই আবার মহিলা। প্রধান প্রতিপক্ষ নিঃসন্দেহে তৃণমূলের মালা রায়। মমতার আশীর্বাদধন্য মালাও বলেছেন, চন্দ্রবাবু নেতাজির পরিবারের লোক। উনি আমার বিরোধীপক্ষ হলেও অবশ্যই প্রচারে বেরিয়ে ওঁর পাড়ায় যাব। ওঁর কাছেও যাব। তবে দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। আর রাজনৈতিক সৌজন্য দেখানোর ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল গোটা বাংলায় রোল মডেল। তাই যুযুধান বলে প্রচারের সময় কাউকে ব্রাত্য করে রাখা আমাদের সংস্কৃতি নয়। সিপিএম প্রার্থী নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলছেন, আমার কাছে সব ভোটারই সমান। তবে এটা ঠিক, মমতাদেবী মুখ্যমন্ত্রী বলে নিশ্চয়ই প্রশাসনিক নিরিখে একজন ভিআইপি। তাই তাঁর বাড়ির দরজায় ভোট চাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও শেষমেশ যেতে পারব কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। সুযোগ পেলে অবশ্যই তাঁর কাছে যাব আমি। উনি দেখা দিলে এবং শুনতে চাইলে কেন এবং কোন বিকল্প নীতির কারণে বামপন্থীদের সমর্থন করা উচিত, তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব। একইভাবে যাব বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতেও। কংগ্রেস প্রার্থী মিতা চক্রবর্তীর গলাতেও এক সুর। তাঁরও বক্তব্য, উনি রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার বাসিন্দা হিসেবে এবং সর্বোপরি একজন মহিলা হিসেবে নিশ্চয়ই তাঁকে সম্মান জানাব। এটা আমার কর্তব্য এবং সৌজন্য। সেই সৌজন্যবোধের তাগিদে আমি নিশ্চয়ই আর পাঁচজন ভোটারের মতো ওঁর কাছেও যাওয়ার চেষ্টা করব রাহুল গান্ধীর ভিশনের কথা জানাতে। তবে অবশ্যই সেই সুযোগ পেলে।