মাদক মামলা থেকে জামিন নিয়েই খাল দখল করলো জলদস্যু নুরী!


প্রকাশিত : এপ্রিল ২, ২০১৯ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের জলদস্যু নুরী বাহিনী। গাবুরার চিহ্নিত জলদস্যু, অস্ত্র যোগানদাতা, মাদকস¤্রাট ও হত্যাসহ বহু মামলার আসামী এই নুরী। নুরীর অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে এলাকাবাসি পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, গাবুরা ইউনিয়নটি দ্বীপ বেষ্টিত হওয়ায় সুন্দরবনের জলদস্যু, সাতক্ষীরা দেশের বিভিন্ন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নাশকতাকারী ওই ইউনিয়নটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে। আর এসব অপরাধীদের আশ্রয়, অর্থসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করেন গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা গ্রামের মৃত জাফর গাজীর ছেলে আব্দুল নূর ওরফে নুরী ও ভাই আব্দুর রহিম। নূরী নিজে একজন মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়া সুন্দরবনের জলদস্যু কর্তৃক অপহৃত ব্যক্তিদের ছাড়ানোর জন্য ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে গোপনে অর্থ আদায় করেন।
এদিকে গত ২১ মার্চ ৫৫ পিস ইয়াবাসহ সদর উপজেলার ভোমরাস্থল বন্দর এলাকা থেকে ওই নুর ইসলাম ওরফে নুরীকে আটক করে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশ। এরপর পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। কিন্তু সুচতুর নুরী কৌশলে মাত্র ৮ দিনের ব্যবধানে ২৮ মার্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর এলাকায় ফিরে সে আবারো তার পূর্বের কর্মকান্ড শুরু করে। একপর্যায়ে ২৯ মার্চ গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা সরকারি খাল (সরাখাল)টি দখল করে নেয়। অথচ উক্ত খালটি দিয়ে বর্ষা মৌসুমে এলাকার কয়েকটি গ্রামের পানি নিস্কাশিত হয়। যে কারণে খালটি অবমুক্ত রাখার জন্য অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম স্থানীয়দের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই নুরী চেয়ারম্যানের নির্দেশ অমান্য করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জেল থেকে বের হয়েই খালটি দখল করেছে। এতে করে আগামী বর্ষা মৌসুমে গাবুরা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে বলে আশংকা করছেন। নূরী তার অপকর্ম ঢাকতে সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ছদ্ম বেশে চলাফেরা করে। যাতে করে প্রশাসন ও এলাকাবাসির চোখ ফাঁকি দিয়ে চলতে পারে।
গত রমজান মাসে গাজাসহ স্থানীয়দের নেতৃত্বে আব্দুল নূর ওরফে নুরীকে আটক করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। কিন্তু তার ভাই ইউপি সদস্য আব্দুর রহিমের সহযোগিতায় সে যাত্রায় রক্ষা পায়। আব্দুল নূর ওরফে নুরীর ভাই মেম্বর আব্দুর রহিম ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তার নামেও আনুমানিক ১০টি মামলা রয়েছে। গাবুরা ইউনিয়নটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছে। মেম্বর আব্দুর রহিমের ছাত্রছায়ায় আব্দুল নূর ওরফে নুরী এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
নূরী ও তার ভাই রহিম মেম্বরের বিরুদ্ধে নাশকতা, ডাকাতি, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে মামলা নং ০৩-৭৬, তাং-০১-৪-১১ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি পোড়ানো), মামলা নং ১১-১৪৪, তাং- ৫-৬-২০১১(মার্ডার), মামলা নং-১৮, তাং- ১৭-৯-১৮ (নাশকতার মামলা), মামলা নং ১৩/১৬ (বন), মামলা নং- ২৭/১৩ (অস্ত্র), মামলা নং- জিআর ৩৬/১৯(ইয়াবা), মামলা নং ৩১-১৬৪, তাং ১৬-৬-২০১১ (চাঁদাবাজি), মামলা নং- ১৩-৪১ তাং- ২১-২-২০১১ (চাঁদাবাজি ও ঘের দখল), মামলা নং- ৪৯/১২ ( জোরপূর্বক বাড়ি দখল), মামলা নং- ৭১/১১ (৪টি মটরসাইকেল ছিনতাই), মামলা নং ১৬-৪৪, তাং ২৩-২-২০১১ (চাঁদাবাজি), মামলা নং- ১/৭৪, তাং ১-৪-২০১১ (ইউনিয়ন পরিষদ ভাংচুর ও বিস্ফোরক), মামলা নং ৯-৩২০ তাং ৭-১০-২০১১(নারী ও শিশু নির্যাতন), মামলা নং ২৭-১০০, তাং- ১৯-০৪-২০১১ (সরকারি রাস্তা কেটে লোনা পানি তোলা)। এমতাবস্থায় এলাকাবাসি নুরীর হাত থেকে রেহাই চায়। তারা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।