শিলিগুড়িতে মোদির সভার দিনই দিনহাটায় মমতা


প্রকাশিত : এপ্রিল ৩, ২০১৯ ||

কলকাতা সংবাদদাতা: ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব বোধহয় একেই বলে। আগামীকাল, বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিলিগুড়িতে সভা করবেন। একই দিনে উত্তরবঙ্গের দিনহাটায় নির্বাচনী সমাবেশে হাজির থাকবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লির তখত দখলের লড়াইয়ে গোটা দেশের কাছে দুই প্রধান প্রতিপক্ষ যে মোদি ও মমতা, তা আরও স্পষ্ট হতে চলেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা। উল্লেখ্য, মোদি শিবিরকে চ্যালেঞ্জ জানাতে অন্ধ্রপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর ডাকা সভাতেও মধ্যমণি হয়েছিলেন বাংলার মমতা।
আসন্ন সপ্তদশ লোকসভার নির্বাচন তাঁর কাছে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষার লড়াই। তাই মমতা তাঁর দলীয় ইস্তাহারে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে শুধু অভিযোগ তুলেই দায় সারেননি। দেশবাসীর কাছে সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও সুস্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন। একদিকে রাজ্যের পরিধির বাইরে বৃহত্তর সমাজে বিরোধী ঐক্যের প্রধান হিসেবে মমতার জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে বাংলায় বিজেপিকে সূচ্যগ্র জমি না ছাড়ার পণ করা তৃণমূল নেত্রী এখন বিজেপি তথা মোদি-অমিত শাহদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাই প্রধানমন্ত্রী বুধবার থেকে রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে নামছেন। প্রথমে শিলিগুড়ি ও পরে একই দিনে কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করবেন। প্রসঙ্গত, বছরের গোড়ায় ওই ব্রিগেড থেকেই কেন্দ্রের বিকল্প অবিজেপি সরকার গড়ার ডাক দিয়ে দেশের তাবড় আঞ্চলিক দলের নেতৃত্বকে একমঞ্চে হাজির করেছিলেন মমতা। শুধু মোদি নয়, মমতাকে নিশানা করতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও আসছেন বাংলায়।
দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইস্তক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি মোদি। সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রকাশ্যে মমতার চ্যালেঞ্জ, সাহস থাকলে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে বিতর্কে আসুন। জনসমক্ষে হোক সেই বিতর্ক। মানুষ তা দেখে রায় দেবে। মমতা দলের কোর কমিটির বৈঠকে বলেছিলেন, বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে হেনস্তা করার চেষ্টা করবে। ভয় দেখাবে। কিন্তু ভয় পেলে চলবে না। বিজেপিকে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব দিতে হবে। যেখানেই ওরা মিটিং করবে, কুৎসা করবে, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে হবে জনসভা করেই। ইতিমধ্যেই অমিত শাহের সভার জবাবি সভা করেছে তৃণমূল। এবার মোদির কাছে গত পাঁচ বছরের এনডিএ সরকারের কাজকর্মের হিসেব চাইবেন মমতা। তাই যেদিন শিলিগুড়িতে মোদি, সেই একই সময়ে কোচবিহার কেন্দ্রের নির্বাচনী সভায় মমতা থাকবেন দিনহাটায়। অর্থাৎ একতরফা মোদি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে দু’টি সভা করে উড়ে যাওয়ার আগেই তাঁকে মমতার রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়তে হবে।
ইতিমধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের তেলুগু দেশম নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর রাজ্যে গিয়ে বস্তুত এবারের নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। আগামী ৫ এপ্রিল বাংলা লাগোয় অসমের ধুপগুড়ি লোকসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থীর জন্য প্রচারে যাবেন মমতা। তার আগে বৃহস্পতিবার কোচবিহারের মাথাভাঙায় এবং অসমের ধুবড়ির সভার পর ওই দিনেই আলিপুরদুয়ারে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন তিনি। বুধবার বিমানে শিলিগুড়ির বাগডোগরা হয়ে মমতার দিনহাটা যাওয়ার কথা। চলতি নির্বাচনপর্বে রাজ্যে ও বাইরে মিলিয়ে অন্তত একশত সভা করতে পারেন মমতা। সশরীরে হাজির না হতে পারলে মোবাইলে বক্তৃতা দিয়েও প্রচার করবেন বলে নিজেই জানিয়েছেন।