আশাশুনি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সামছুন্নাহারের বিরুদ্ধে শিক্ষক বদলী বাণিজ্যের অভিযোগ


প্রকাশিত : এপ্রিল ৩, ২০১৯ ||

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলীতে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে উপজেলার অপেক্ষাকৃত যোগাযোগে দুর্বল এবং উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগে ব্যর্থ শিক্ষকরা বদলীর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে স্ব-কর্মস্থলে কষ্টের ঘানি টানতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নির্দেশিকায় (সংশোধিত) বলা হয়েছে, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সুপারিশক্রমে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সহকারী শিক্ষকদের আন্ত:বিদ্যালয় বদলির অনুমোদন প্রদান করে থাকেন। সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির মেয়াদ ন্যুনতম ২বছর পূর্ণ হলে এবং পদশূণ্য থাকলে বদলী করা যাবে। এছাড়া যে কোন বদলির পর ৩ বছর অতিক্রান্ত না হলে কোন শিক্ষক পুন:বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না। কিন্তু আশাশুনিতে সে নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে খেজুরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেহেনা খাতুনকে ৩ বছর পূর্ণ না হলেও গুনাকরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। অপরদিকে চাপড়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির খেলায় বেশ চমক দেখান হয়েছে। চাপড়া স্কুলের সহকারী শিক্ষক পিতর বসাককে বেউলায় বদলির জন্য সিনিয়র হিসেবে চুড়ান্ত তালিকা এবং চাপড়া স্কুলে পদ শূণ্য দেখিয়ে নোটিশ বোর্ডে চুড়ান্ত তালিকা টানানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবেদনের সময় শেষ হয়ে গেলেও এবং নোটিশ বোর্ডে বদলি ও পদশূণ্য সংক্রান্ত তালিকা লটকানোর পরে সকল নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে বেউলা স্কুলের জন্য পুনরায় তহমিনা খাতুন নামে এক শিক্ষকের আবেদন নেওয়া হয়। কিন্তু আরও আশ্চার্যের বিষয় হলো, পিতর বসাককে বদলি না করে উৎকোচের বিনিময়ে তদস্থলে বিধান নামে এক শিক্ষককে প্রতিস্থাপনের নোটিশ টানানো হয়েছে। যা শিক্ষক মহলকে হতভম্ব করে দিয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, উপজেলায় কোন পদ শূণ্য হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলার অধিবাসী প্রার্থীগণ সেই পদে বদলির জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। তবে একাধিক পদ শূণ্য থাকলে স্থানীয়দের পরে অন্য উপজেলার শিক্ষকগণও বদলির জন্য বিবেচিত হতে পারবেন। নিয়ম থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিয়মের তুয়াক্কা না করে, আশাশুনি উপজেলার যোগ্য ও বদলিতে আগ্রহি শিক্ষকদের না জানিয়ে গোপনে ও কিছুটা চতুরতার মাধ্যমে আবেদনের সময়ের শেষ দিনে পদ শূণ্য দেখিয়ে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ৮টি পদে অন্য উপজেলার শিক্ষক বদলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার মধ্যে দেবহাটা থেকে প্রমিলা সরকারকে সবদালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, শ্যামনগর থেকে মনিরুল ইসলামকে বসাখুলী স্কুলে, শ্যামনগর থেকে শরীফা খাতুনকে কল্যানপুর স্কুলে, তালা থেকে বিথিকা রায়কে উত্তর বড়দল স্কুলে, কয়রা থেকে ফারহানা সুলতানাকে পাইকপাড়া স্কুলে, তালা থেকে রীতারানী কুন্ডুকে বেউলা স্কুলে, দাকোপ থেকে রেহেনা পারভিনকে দক্ষিন চাপড়া স্কুলে ও শ্যামনগর থেকে সাথী রানীকে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। আরও আশ্চার্যের বিষয় হলো এসব স্কুলের অধিকাংশতে একই সাথে একাধিক পদ শূণ্য দেখানো হয়নি। এদিকে পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেনা খাতুনকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে বদলির আবেদনে স্বাক্ষর নিয়ে উক্ত স্কুলে শূণ্যপদ সৃষ্টি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনাসহ একাধিক সাংবাদিকরা রোববার উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হলে তাদের সামনে উপজেলা শিক্ষা কমিটির একজন সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট আর একজন উপরোক্ত অভিযোগ আনেন। তখন অবস্থা বেগতিক দেখে শিক্ষা অফিসার হেনা খাতুনকে বদলি হতে চাননা এমন আবেদন করতে পরামর্শ প্রদান করেন। এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সামছুন্নাহার বলেন, রেহেনার বিষয়টি কিভাবে হয়েছে বুঝতে পারছিনা। তবে বেউলা ও চাপড়ার বিষয়টি নিয়ে এলোমেলোভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেন। অন্য উপজেলা থেকে আগতদের ব্যাপারে আশাশুনির শিক্ষকরা জানতে পারলো না কেন ? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে নোটিশ বোর্ডে ঝুলানো হয়েছিল, কেবল একজন করে আবেদন করায় তাদেরকে বদলির তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান।