শ্যামনগরে পূণ্য¯œানের মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হলো মহা-বারুণি উৎসব


প্রকাশিত : April 3, 2019 ||

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): শ্যামনগর উপজেলায় মঙ্গলবার সোনার মোড় সংলগ্ন আদি যমুনা নদীর কুলে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হল হিন্দু ধর্মীয় উৎসব বারুণির মেলা।
সকাল থেকে উপজেলা ও উপজেলার বাইরে থেকে পূণ্যার্থীরা মহা¯œানের জন্য এসে জড় হতে শুরু করেন ছোট প্রবাহমান আদি যমুনা নদীর কুলে। নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা বারুণির মেলাকে কেন্দ্র করে পূর্বে থেকে এক ধরনের প্রস্ততি নিয়ে থাকেন। বিশেষ করে যে সকল পূণ্যার্থীরা সাধারণত মানত করে থাকেন। এখানে বহু ভক্তবৃন্দ আসেন এবং তাদের মনের কামনা-বাসনা পূরণ হলে প্রতিমা নিয়ে বাদ্য বাজনা সহকারে এসে পূজা দিয়ে থাকেন।
জানা যায়, বারুণির ¯œান গঙ্গা ¯œানেরই প্রতিরুপ। বাংলা সনের প্রতি চৈত্র মাসের শতভিষা নক্ষত্রযুক্ত মধু কৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে এই ¯œান অনুষ্ঠিত হয়। শাস্ত্রমতে কোন বছর যদি ঐদিনটি শনি ও মঙ্গলবার হয় তবে বারুণির ¯œান অসাধারণত্ব লাভ করে ও মহা বারুণির ¯œান লাভ করে। এ বছর পড়েছে মঙ্গলবার যে কারণে পুজারীদের মতে মহাবারুণির ¯œান প্রতিরুপ লাভ করেছে। প্রচলিত রয়েছে এই ¯œানটি বস্তত সনাতন ধর্মীয় একটি পুণ্যা ¯œান উৎসব।জীব জগতে পথ চলতে গিয়ে পাপাচারে পূর্ণ ক্লেদান্ত মনুষ্যকুল পাপ মুক্ত করে থাকেন এই পুণ্য ¯œানের মধ্য দিয়ে।
শ্যামনগর উপজেলায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বারুনি উৎসবের একই পুজারী হরিপদ মুখ্যার্জী বলেন বহু বছর পূর্ব থেকে সোনার মোড়ে যমুনা নদীর কুলে বারুণির মেলা চলে আসছে।অনেকে মনে করেন ১৫১৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে চলে আসছে এই বারুণির মেলা।পূর্বে এখানে বারুণির মেলাকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী,১৫দিন ব্যাপী বা সপ্তাহব্যাপী মেলা বসত। মেলাতে যাত্রা,সার্কাস,পুতুল নাচ চলত। এখন এসব চলে না। এক দিনে শেষ হয়ে যায়। মেলার আয়োজকবৃন্দ বলেন মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ঈশ^রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নানা ধরণের সহায়তা করে থাকেন। এ বছর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্টিত হচ্ছে। জানা যায়, নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম মহসীন উল মুলক, ঈশ^রীপুর ইউপি চেযারম্যান এ্যাড,জি এম শোকর আলী সহ অন্যান্যরা মেলা পরিদর্শন করেছেন।
মেলায় আগত বিভিন্ন পণ্য বিক্রেতারা বলেন, এবার বিক্রী কম। ভক্ত বৃন্দের আসা যাওয়াও কম ।তবে অনেক বিক্রেতা বলেন বারুণির মেলাকে কেন্দ্র করে তাদের পূর্বে থেকে এক ধরনের প্রস্ততি গ্রহণ করতে হয়।
মেলায় আসা দর্শনার্থীরা ছোট পরিসরে প্রবাহমান আদি যমুনা নদীর ঘাটে নেমে পুণ্য ¯œান করছেন আবার অনেকে সারি বদ্ধভাবে বসে থাকা পুজারীদের মাধ্যমে মানত সম্পন্ন করছেন। মেলার দর্শনার্থী,ভক্তবৃন্দ,পুণ্যার্থী অনেকে বলেন মেলা প্রাঙ্গনে ¯œানের পর পোষাক পরিবর্তনের জন্য একটি ঘর নির্মান এ ছাড়া পুজার জন্য একটি মন্দির নির্মান করা জরুরী এবং এ ব্যাপারে কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন। সব মিলিয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকার পূণ্যার্থীদের পুণ্য ¯œানের মধ্য দিয়ে শেষ হল সোনার মোড়ের মহা বারুণির উৎসব।