কপোতাক্ষ নদে ক্রসড্যাম উঠিয়ে দেয়ার সময় আসলেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ


প্রকাশিত : এপ্রিল ৫, ২০১৯ ||

তালা (সদর) প্রতিনিধি: কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে তালা উপজেলার পাখিমারা টিআরএম বিলের উজানমুখে শুষ্ক মৌসুমে ক্রসড্যাম নির্মাণের কথা থাকলেও এখনও তা সম্পন্ন হয়নি। যে কারণে অববাহিকার প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ পুনরায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশংকায় ভুগছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসে ক্লোজার নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা তিন মাস পরও নির্মাণ না হওয়ার কারণ তদন্ত করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান তারা।
পাউবো সূত্র জানায়, ক্রসড্যাম নির্মাণ কাজটি ‘অনুন্নয় রাজস্ব খাতের আওতায় পাখিমারা টিআরএম বিলের লিংক ক্যানেলের উজানে কপোতাক্ষ নদীতে অস্থায়ীভাবে ক্লোজার নির্মাণ ও অপসারণ কাজ’ নামে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্যাকেজ নং ই-টেন্ডার জেএনডিআর ও ওয়ার্ক অর্ডার হয়। ৩৭৭/১, দক্ষিণ গোড়ান, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৯ ঠিকানার মেসার্স মাইশা ট্রেডার্স ৬৪ লাখ ২৬ হাজার ৬২ টাকার কাজটি প্রাপ্ত হন। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করে ২ সপ্তাহ ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ক্লোজার সমাপ্ত করা এবং ২৫ জুন ১৩৫ দিনের মধ্যে অপসারণসহ কাজ সমাপ্তির নির্দেশনা রয়েছে।
কিন্তু অতীব দু:খের বিষয় যে, আজ অবধি ক্রসড্যাম নির্মাণ হয়নি। ফলে পলি মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়কালে উজান অংশে নদীর তলদেশে প্রচুর পলি পড়ে ভরাট হওয়ার মাধ্যমে জনগণের দীর্ঘ সময়ের ক্ষতির মুখে গৃহীত সরকারের এ বৃহৎ প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে। জনগণের কাছে এটা স্পষ্ট যে, অসৎ উদ্দেশ্যে ঠিকাদাররা জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে আর অযৌক্তিক কারণে কালক্ষেপন করছে। ইতোমধ্যে গতবারের মতো জেলেদের সাগর ফেরত অধিকাংশ নৌকাও ঢুকে গিয়েছে এবং এখনও ঢুকছে। তারপরও ক্রসড্যাম নির্মাণে গাফিলতি এমন পর্যায় পৌঁছেছে যা অপসারণের সময়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। টিআরএম এলাকার ক্রসড্যাম কাজে বিলম্বের ফলে মূল প্রকল্পে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। একদিকে পলিবাহিত পানির অনুপ্রবেশে খননকৃত এলাকা ভরাট হয়ে ফের পুরানো অবস্থায় ফিরে গেছে অন্যদিকে টিআরএম বিলে পর্যাপ্ত পলি ঢুকতে পারছে না।
এলাকার আরশাদ আলী মোড়ল, রাশেদুল মোড়ল, রাহাদুল মোড়ল, হাবিবুর গাজী, সাত্তার মোড়লসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বাঁধ এখন আর বাধার প্রয়োজন নেই। কারণ পলি উপরে উঠে গেছে এবং বাঁধ কাটার সময় এসে গেছে। প্রতি বছর একই কায়দায় টাকা লুটপাট করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। তারা এ ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেন। তাদের দাবি, সময়মতো ক্রসড্যাস নির্মাণ না করায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদ খননের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় জনগণ।
এদিকে, কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে অস্থায়ীভাবে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে মূল নদের উপর ক্রসড্যাম দিয়ে জোয়ারবাহিত পলি উপরাংশে না ঢুকিয়ে টিআরএম প্রকল্পের বিলে প্রবেশ করানো হয়ে থাকে। কিন্তু এ প্রকল্পের কাজ সময়মত শুরু না হওয়ার প্রতিবাদে ও প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের দাবিতে এলাকার মানুষের পক্ষে পানি কমিটি গত ৪ জানুয়ারি ও ১০ মার্চ তালায় পৃথক দু’টি সংবাদ সম্মেলন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কিন্তু তাতেও টনক নড়েনি কর্র্তৃপক্ষর।
এ ব্যাপারে সাব ঠিকাদার তোজাম আলী জানান, ক্রাসড্যাম স্থাপনার কজ দ্রুত গতিতে চলছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড় এবং বৃষ্টির ফলে বাঁধ ভেঙে গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলাতিতে এমন ঘটনা ঘটেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে ডাকা হয়েছে এবং তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। আগামী গোনের আগেই ক্লোজারের (ক্রসড্যাম) কাজ শেষ করা হবে বলে জানান তিনি। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।