৮ চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন ‘নির্বাচনী সহিংসতায় কলারোয়া এখন বিভীষিকার জনপদ’


প্রকাশিত : এপ্রিল ৫, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর থেকে প্রতিনিয়ত হামলার ঘটনা ঘটছে। আর এই হামলার শিকার হচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা, নৌকা প্রতীকের এজেন্ট ও আওয়ামী লীগ কার্যালয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তাদের সাথে বুধবার রাতে প্রহৃত হওয়া জালালাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদও উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হিসাবে আমরা নৌকা প্রতীকের বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপনের পক্ষে কাজ করেছিলাম। এ নির্বাচনে তিনি হেরে যান। আর জয়ী হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের আমিনুল ইসলাম লাল্টু। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় ২০১৩/২০১৪ সালের সহিংসতা ও নাশকতা সৃষ্টিকারীরা একজোট হয়ে আমিনুল ইসলাম লাল্টুকে জয়ী করায়। এর ফলে নির্বাচনের পর থেকে কলারোয়ায় নৌকার সমর্থকদের ওপর একের পর এক হামলা হয়ে আসছে। বর্তমানে এ উপজেলা একটি বিভীষিকাময় আতংকের জনপদে পরিনত হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বর, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারন মানুষ নাশকতা মামলার আসামি ও হাইব্রীড আওয়ামী লীগের হাতে নিরাপদ নন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় কলারোয়া একটি জামায়াত ও বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয় গত ৩ এপ্রিল রাতে জালালাবাদ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারমান আবুল কালামের ওপর ৩০ থেকে ৪০ জন তার বাড়িতে ঢুকে হামলা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া ২৪ মার্চ রাতে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল গফফারের বাড়িতে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। তারা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সৌধ ভাংচুর এবং তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে আহত করে। তারা এখনও কলারোয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও বলেন, ‘এসব হামলার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছি’। এ ব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামণা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিল হোসেন, দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, লাঙ্গলঝাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ইমরান, কুশোডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আসলামুল আলম, চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ও সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম।