অপসারণ হয়নি অবৈধ চাল বা স্থাপনা কপিলমুনি উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা


প্রকাশিত : এপ্রিল ১০, ২০১৯ ||

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। সোমবার দিনভর অভিযানে নেতৃত্বদেন পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল আউয়াল। গত ৪মার্চ এক ঘোষণায় অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা উচ্ছেদের ২৪ ঘন্টা সময় সীমা বেঁধে দিলেও সেটা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে গত রবিবার (৭এপ্রিল) উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করে উচ্ছেদের ঘোষণা দেন।
উচ্ছেদ অভিযানে বাজারের সকল গলি পথসহ প্রধান সড়কের পাশে থাকা সকল টোল দোকান এবং রাস্তা বা গলির উপরে টিনের চালা, পলিথিন বা কাপড়ের আচ্ছাদন অপসারন সহ বাজারের গলি পথের উপরে বসা বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর পসরা অপসারণ করা হয়। কিছু কিছু পাকা ও আধাপাকা অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরিয়ে ফেলার জন্য সময় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে কর্ণপাত করেনি অধিকাংশ প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার (৯এপ্রিল) বাজার ঘুরে দেখা যায় কোনো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আদালতের নির্দেশে অবৈধ চাল বা স্থাপনা অপসারণ করেননি। প্রধান সড়ক দখলকারীরা পূণরায় ফুটপথ দখল করে আবারো ব্যবসা করছে। এমনকি বাজারের ভিতর পেরীফেরীভুক্ত জমিতে আরসিসি পিলার দিয়ে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণাধিন। অভিযোগ উঠেছে অভিযান পরবর্তী এক শ্রেণী ব্যাপক অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে কোনো স্থাপনা অপসারণ করা লাগবে না এ মর্মে।
এদিকে বাজারের কিছু প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান উচ্ছেদে অনেক কে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা লাখ লাখ টাকার বিনিময় ঐ সকল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাজারে জায়গার ব্যবস্থা করেন ব্যবসা করার জন্য। তারা জানান, জীবন জীবিকা নির্ভরশীল একমাত্র অবলম্বন সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা তাদের কপাল রীতিমত কুচকে গেছে। পরিবার পরিজনের ভরণপোষণসহ তাদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই বাজারের ভিতরে এসব ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ হতাশার সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, অভিযানের সময় শত্রুতামুলক ভাবে কতিপয় ব্যক্তি ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্থ করতে অতি উৎসাহী হয়ে পড়েন। অভিযানের সময় আদালতকে ভুল বুঝিয়ে তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করার চেষ্টা করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা কালে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সঞ্জয় দাশ, সার্ভয়ার সাকিরুল ইসলাম, ভূমি অফিসের তহশীলদার জাকির হোসেন, এসআই বাবুল, এএসআই প্রভাষ সহ সঙ্গীয় ফোর্স।