দেনমোহরের ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে কেঁটে পড়, তোকে রাখবো না


প্রকাশিত : এপ্রিল ১১, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: আমাকে শুধু মারপিট করে বলে, তোর দেনমোহরের ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে কেঁটে পড়, তোকে রাখবো না। আমি কারণ জানতে চাইলে আরও বেধড়ক মারপিট করে। দশ দিন আগেও মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। এরপর আমার পরিবারের সদস্যরা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও এখন স্বামীর বাড়িতে যেতে পারছি না। এসব অভিযোগের কথা জানান, সদরের লাবসা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামের মৃত নুর ইসলাম সরদারের মেয়ে আছিয়া খাতুন।
আছিয়া খাতুন বলেন, দশ দিন আগে আমাকে মারপিটের এক পর্যায়ে দেড় বছর বয়সী মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে মাথায় তুলে খাটের উপর আছাড় দেয়। কোন কারণ ছাড়াই বিভিন্ন সময় অকারণে আমার উপর নির্যাতন চালায়। আমি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাই কিন্তু কোন উপায় পাচ্ছি না।
আছিয়া খাতুনের ছোট চাচা মোকছেদ আলী বলেন, তিন বছর আগে পার্শ্ববর্তী থানাঘাটা গ্রামের গফফার সরদারের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে ত্রিশ হাজার টাকা দেনমোহরে পারিববারিকভাবে বিয়ে হয় আছিয়ার। সব কিছু ভালো ভাবেই চলছিলো। কিন্তু প্রায় দেড় বছর আগে থেকে আসিয়ার উপর নির্যাতন শুরু করে স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগেও মারপিটের ঘটনার এক পর্যায়ে থানায় অভিযোগ জানালে শালিশী বৈঠক হয়। সেখানে মুচলেকা দিয়ে আসিয়াকে বাড়িতে নিয়ে যায় স্বামী মোস্তাফিজ।
স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি তার সঙ্গে সংসার করতে চাই। স্ত্রী একটু মাথায় সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন সময় ঝগড়ায় করে। আমার মা-বাবাকে নিয়েও গালমন্দ করে। এটা নিয়ে একটু ঝগড়া হয়েছিলো। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানেও সকল খরচ আমি দিয়েছি। সংসার করতে চাই বলেই এর আগেও থানা থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলাম।
ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এর আগেও তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক ঝামেলা হয়েছিল। পরে ছেলেটি মুচলেকা দিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে যায়। বর্তমান ঘটনার বিষয়ে এখনো থানায় অভিযোগ জানায় নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।