খুলনার আলোচিত হাফেজ ফরহাদ হত্যা মামলার যুক্তি-তর্ক শুরু


প্রকাশিত : এপ্রিল ১১, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: গত বুধবার খুলনার অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ এর বিজ্ঞ বিচারক মো. ইয়ারব হোসেনের আদালতে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হাফেজ ফরহাদুজ্জামান মোল¬া ওরফে ফরহাদ হত্যা মামলার যুক্তি-তর্ক শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর মামলার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মামলার বাদি মো. ফারুক হোসেন ও ভিকটিমের এতিম পরিবারসহ এলাকাবাসির মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশাবাদি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।
এদিকে বাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী এড. রেজাউল ইসলাম জানান, আলোচিত ফরহাদুজ্জামান ওরফে ফরহাদ হত্যা মামলার মোট সাক্ষী রয়েছেন ২২ জন। তবে এই মামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী রয়েছেন ৭ জন। বুধবার বিজ্ঞ বিচারক প্রত্যক্ষ ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরো জানান, এই মামলার ৬ নং সাক্ষী সবচেয়ে আলোচিত। তিনি হলেন, একজন শিশু এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০১৫ সালের ৫ জুন তারিখে সাক্ষী আলামিনের হাত ধরে হাফেজ ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জুম্মার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ঐ সময় স্বাক্ষী আলামিন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। দীর্ঘ চার বছর পর আলামিন বিজ্ঞ বিচারকের সামনে সেদিনের ঘটনাবলি আর সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্মমভাবে হাফেজ ফরহাদুজ্জামান ফরহাদ হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে। শিশু আলামিনের এই প্রত্যক্ষ সাক্ষী এই মামলার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। মামলা পরিচালনাকারী এড. রেজাউল ইসলাম আশা করেন, এই মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।
উলে¬খ্য ডুমুরিয়া শোভনা মৌলভীপাড়া জামে মসজিদের বালুচুরি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মসজিদ কমিটির অভিযোগের ভিত্তিতে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ ফরহাদুজ্জামান ২০১৫ সালের ৫ জুন শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে মসজিদের বালু চুরির ঘটনাটি মুসলি¬দেরকে অবহিত করেন। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মসজিদে উপস্থিত থাকা সন্ত্রাসী আমিন সরদার ও শহিদ দফাদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে হত্যার হুমকি দেয়। এর কিছুক্ষণ পর জনৈক আবদুল গাফফার ফরহাদকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়। পরে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ফরহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় আমির সরদারসহ ৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা ডুমুরিয়া থানায় রুজু করা হয়। মামলা নাম্বার-১০, তারিখ ০৫-০৬-২০১৫। ওই সময় মামলার অন্যতম আসামি মোমিন সর্দার গ্রেপ্তার হলেও জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে দলবল নিয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিতে থাকে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৫-০৪-২০১৯।