নিচে কাঁকড়ার ডিপো উপরে ক্লিনিক ব্যবসা


প্রকাশিত : এপ্রিল ১২, ২০১৯ ||

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: নিচে কাঁকড়ার ডিপো উপরে ক্লিনিক ব্যবসা। পাশে ড্রেনে নোংরা পানি দুর্গন্ধ ছড়াছে। দোতালায় উঠার অন্ধকার সরু সিঁড়ি। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। নিয়মনীতি না মেনে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাইকগাছা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ওয়ার্ড বয় ও আয়া দিয়ে পরিচালনারও অভিযোগ রয়েছে। এক রোগের চিকিৎসা নিতে এসে অন্যান্য রোগের জীবাণু বহন করে নিয়ে যাচ্ছে রোগী ও তার স্বজনরা। বিশেষ করে ক্লিনিকের অপারেশনের রোগীদের চিকিৎসা সেবা অনেকটা ঝূঁকির মধ্যে থাকে।
জানা গেছে, এর আগেও সার্জিক্যাল ক্লিনিকটিতে অবহেলা ও অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় একাধিকবার ক্লিনিকটি বন্ধ করেছে খুলনার সিভিল সার্জন অফিস। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর ভারতী রানী মন্ডল অবহেলা ও বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করায় ক্লিনিকটি বন্ধ করা হয়। উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠছে ক্লিনিক, ও ডায়াগনস্টক সেন্টার। সেবার নামে এসব প্রতিষ্ঠান গুলোর বিরুদ্ধে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা ও গলাকাটা বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে।
সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিক তৃপ্তিরঞ্জন সেন দেশের বাহিরে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে ক্লিনিক মালিক তৃপ্তিরঞ্জন বছরের বেশিরভাগ সময় ভারতে থাকেন। অধিকাংশ সময় ভারতে থাকার কারন অনুসন্ধানে জানা যায়, তার স্ত্রী ও পুত্র সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন। ক্লিনিকের ওয়ার্ড বয় অমল মন্ডলের কাছে ক্লিনিকের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন মালিক ভারতে রয়েছেন। তিনি ও তার স্ত্রী ক্লিনিকটি দেখাশোনা করেন।
সূত্রে জানাগেছে, একটি ক্লিনিক পরিচালনার জন্য সার্বক্ষণিক ৩ জন ডাক্তার, ৬ জন ডিপ্লোমাধারী নার্স, ৩জন সুইপার থাকার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠা উপজেলার ক্লিনিকগুলোতে এসব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ ক্লিনিকে আবাসিক ডাক্তার ও পর্যপ্ত নার্স না থাকলেও কাগজ কলমে দেখিয়ে দেদারসে ক্লিনিক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ক্লিনিকের মালিকরা বিভিন্ন অপারেশনের রোগী ভর্তি করে বাইর থেকে ডাক্তার নিয়ে রোগী অপারেশন করিয়ে থাকে। সার্জিক্যাল ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানায়, ক্লিনিকের নীচে একাধিক কাঁকড়ার ডিপো থাকায় সবসময় নোংরা দুর্গন্ধ ছড়ায়। যা এখানকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা ডা. এএসএম মারুফ হাসান জানান, এ বছর থেকে ক্লিনিকে নিবন্ধন নিতে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। তাছাড়া পাইকগাছা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের নিচে কাঁকড়ার ডিপো থাকায় পরিবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। রোগীরা সু-চিকিৎসায় ও ভাল সেবা পাওয়ার আশায় ক্লিনিকে ভর্তি হয়। ভর্তি হওয়ার পরে রোগীদের দুর্বলতার সুযোগে তাদের জিম্মি করে ইচ্ছামত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সেবার নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছে বলে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে। ক্লিনিকগুলোতে রোগীরা যাহাতে সঠিক চিকিৎসা ও সেবা পায় তার জন্য স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের তদারকি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।