সাফল্যে অনুপ্রেরণায় কলারোয়ার ৫ জয়িতা


প্রকাশিত : এপ্রিল ১৭, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: নিজেদের গুনে গুনান্বিত হয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন কলারোয়া উপজেলায় পাঁচজন নারী। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে, সফল জননী হিসেবে, নির্যাতন সইয়ে নতুন উদ্যোমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এবং সমাজ উন্নয়নে অনন্য অবদানের সাক্ষর রাখায় আজ তারা অন্যতম শ্রেষ্ঠ জয়িতার মুকুট পড়েছন। অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগাতে জেনে নেয়া যাক সেইসকল কৃতিদের সম্পর্কে।
অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী নারী মাছুরা খাতুন
উপজেলার সিংহলাল গ্রামের দীন মজুর সোহারব হোসেনের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মাছুরা খাতুন। কয়েক কাঠা ভিটে বাড়ী ছাড়া কোন সম্পদ ছিল না। স্বামীর সামান্য উপর্জনে অতি কষ্টে সংসার চলতো তাদের। হঠাৎ স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে। তিনি ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া,সংসার নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি পাঁচ হাজার টাকা ঋন নিয়ে মোড়ের মাথায় একটি মুদির দোকান দেন। দোকান থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি তার সংসার ও বাচ্চাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তার আর্থিক অবস্থা ভালো। দোকানের পুজিঁও অর্ধলক্ষ টাকা।
শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী সেলিনা খাতুন
উপজেলার উত্তরদিগং গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের কন্যা মোছা. সেলিনা খাতুন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সেলিনা খাতুন বড়। তার মা তার বাবার আয়ের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু-পাখি পালন করেন এবং সেলিনা টিউশনি করে তিন ভাই বোনের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি তিনি অনেক সংগ্রাম করে বিএ পাশ করে বর্তমানে ব্রাকে চাকরী করছেন। তিনি যৌতুক, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।
সফল জননী নারী আকলিমা খাতুন
উপজেলার উত্তরদিগং গ্রামের মোঃ আকিমুদ্দীনের স্ত্রী মোছা. আকলিমা খাতুন। তার স্বামী একজন ভ্যান চালক। স্বামীর সংসারে আসার পর বিভিন্ন অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন তিনি। স্বামীর আয়ের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু-পাখি পালন করে দুই ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তার দুই ছেলে বিএসসি পাশ করে একজন কৃষি ব্যাংকে এবং বড় ছেলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপজেলা সমাজসেবা কর্মর্কতা হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে আকলিমা সংসার জীবনে অনেক সুখে আছে।
নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী তিনি রিক্তা বেগম
উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মো. আব্দুল গফুরের স্ত্রী মোছা. রিক্তা বেগম। অল্প বয়সে তার বিয়ে হয় এবং একটা পুত্র সন্তানও হয়। দুই বছর পরে স্বামী ও শ^শুর বাড়ির লোকজন তাকে অমানবিক অত্যাচার শুরু করে। এমনকি স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে সন্তানসহ তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু বাবা ছিল একজন হত দরিদ্র। তারপরেও তিনি বাবার বাড়িতে থেকে ব্রাকের একজন ক্লিনার হিসাবে চাকরি পান। তিনি ছেলেটিকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি ভালো আছেন।
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী তিনি লুৎফুন্নেছা
উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের শেখ ইমামুল হোসেনের স্ত্রী লুৎফুন্নেছা। তার বিয়ে হয়েছিল গরীব ঘরে। স্বামীর আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চলতো। যার ফলে দর্জি প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বামীর আয়ের পাশাপাশি তারও অর্জিত অর্থ দিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মেয়ে দুটি বিয়ে দিয়েছে। ছেলেটি বর্তমানে কারীগরি শিক্ষা বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ বর্ষের ছাত্র। তিনি বর্তমানে পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এবং নারী উন্নয়ন ফরমের সদস্য। মানব অধিকার কল্যান ট্রাস্টের সম্পাদক ও একজন সফল দর্জি প্রশিক্ষক। অসহায় নারীদের দর্জি প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি এক হাজার নারীকে স্বাবলম্বি করেছেন। এমনকি সমাজ উন্নয়নে বহু বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে দুঃস্থ অসহায় মানুষের সেবা করে যাচ্ছে।