শ্যামনগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির মামলা: ভিন্নকথা পিতার


প্রকাশিত : এপ্রিল ২১, ২০১৯ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: যখন কোন ছাত্রী পিতৃতুল্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযাগ আনে তখন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা হয়ে পড়ে দিশহারা। এমন ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এমনকি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চিরতরে বহিস্কার এবং শিক্ষক যাতে আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাকরি করতে না পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি ওঠে। আবার কোন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন মহল বা কোন বখাটে ছেলেরা কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তুলকালাম সৃষ্টি করে মিথ্যা দোষ চাপিয়ে শিক্ষককে হয়রানীর চেষ্টা করলে তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি অযৌক্তিক নয়। এ বিষয় আইন প্রয়োগকারী সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি এইচসি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়র সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযাগ উঠে। গত বুধবার ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হাফিজুর রহমানের শাস্তির দাবিতে উপজেলা সদরে মানববন্ধন করে। ওইদিন শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সামনে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিল হোসেন ওই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে ওই ছাত্রী জানায়, স্যার আমার গায়ে হাত দেননি। স্কুল ড্রেস পরে না আসায় স্যার আমার ওড়না নিয়ে দাঁড়িয়ে রেখেছিলেন।
মামলার বিষয়ে তার পিতা জানান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় শ্লীলতাহানির মামলা হয়ছে। অভিযোগকারী ওই ছাত্রী। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিল হোসেন জানান, শ্লীলতাহানির স্বীকার ছাত্রী নিজে থানায় এসে অভিযাগ করায় নিয়মিত মামলা হয়েছে ও আসামী আটকের চেষ্টা চলছে। তবে ভিন্ন কথা জানিয়ছেন ছাত্রীর পিতা। তিনি বলেন, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিল হোসেন তার মেয়েকে থানায় ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, গত সোমবার অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল আমার মেয়ে লাল ড্রেসের সঙ্গে সাদা ওড়না না পরে লাল ওড়না পরে স্কুলে যায়। স্কুল ড্রেসের ওড়না না পরায় শিক্ষক হাফিজুর রহমান আমার মেয়েকে বকাঝকা করেন। তখন ওড়না ধরে বলেন, ‘তুমি এ ওড়না পরে আসছো কেন?’ এর থেকে আর বেশি কিছু নয়। ওই ছাত্রীর পিতা আরও জানান, এ ঘটনা নিয় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জনপ্রতিনিধির বাসায় বসাবসি হয়। সেখানে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন। তখন পুলিশের পক্ষ থানায় মামলা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে আমি সামান্য বিষয় নিয়ে মামলা করবো না বলে জানিয়ে দেই। বুধবার সকালে মেয়েকে স্কুলে পাঠাই। এরপর বিদ্যালয়ের কিছু অতি উৎসাহী ছেলে আমার মেয়েকে নিয়ে মানববন্ধন করে। সেখান থেকে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিল হোসেন আমার মেয়েকে থানায় ডেকে নিয়ে সাদা কাগজে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এ বিষয় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফিজুর রহমানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্যামনগরের একটি প্রভাবশালী মহল মাস্টার হাফিজুর রহমানের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। উক্ত টাকা দিতে না পারায় ঐ মহলটি স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ফুসিয়ে তোলে এবং থানায় মামলা করতে সহযোগিতা করে