প্রথম ভাষা শহীদ আনোয়ার হোসেন! খাপড়া ওয়ার্ড হত্যা দিবস আজ


প্রকাশিত : এপ্রিল ২৪, ২০১৯ ||

অরবিন্দ মৃধা
বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলন একটি নতুন দেশ, জাতি; ভাষা এবং সতন্ত্র অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছিল। যে পথ ছিল অচলায়তনের ন্যায় দুর্গম। একান্ত ইচ্ছা শক্তি নিয়ে সাহসিকতার সাথে রক্তের বিনিময়ে প্রথম ধাপে মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় বাঙালি জাতি। এরই মাধ্যমে শুরু হয় গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অজ¯্র মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা।
বৃটিশ শাসনের অবসানের পর নতুন ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠি পাশ্চিম পাকিস্তান ক্ষমতা গ্রহণের সাথে সাথে বাঙালির ভাষার উপরে আঘাত হানে। তারা সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের ‘মায়ের ভাষা বাংলাকে’ তুচ্ছ ভেবে বাংলার সাধারণ মানুষের হাজারও বছরের মুখের ভাষার পরিবর্তে এদেশে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে উর্দু ভাষা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে নির্ভীক বাঙালি বুদ্ধিজীবি ও ছাত্র সমাজ বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে প্রথম প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
১৯৪৮ এর ১১ মার্চ তারিখকে ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ ঘোষণা দিয়ে ছাত্র নেতারা এই দিবসটি সফল করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা-সেমিনার করে ছাত্র জনতাকে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। তৎকালীন খুলনা জেলার দৌলতপুর ব্রজলাল কলেজ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই কলেজের ছাত্র নেতৃবৃন্দের একটি অংশ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে ১১ মার্চকে সফল করার জন্য চোঙা মুখে লাগিয়ে প্রচার প্রচারণা চালায় এবং নির্ধারিত দিনে অর্থাৎ ১১ মার্চ ১৯৪৮ মিছিল সহকারে দৌলতপুর থেকে খুলনার তৎকালীন গান্ধি পার্কে (বর্তমানে হাদিস পার্ক) জমায়েত হয়ে সভা করে বক্তব্যের মাধ্যমে এবং লিখিতভাবে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের কাছে বাংলা ভাষার দাবিনামা পেশ করেন বিএল কলেজের তেজদীপ্ত মেধাবী ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন। তার সাথে ছিলে বিএল কলেজের অন্যান্য কয়েকজন ছাত্রনেতা।
১১ মার্চ ১৮৪৮ ছাত্র নেতা আনোয়ার হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন ও অন্যান্য মামলায় আটক রাখে। ১৯৪৯ এ তাঁকে রাজশাহী জেলে প্রেরণ করা হয়। এখানে অন্যান্য কারাবন্দীদের সাথে সরকারি নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখার এক পর্যায়ে রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে জেলার মি. এফ বিলের নির্দেশে পাগলা ঘন্টা বাজিয়ে ১৯৫০ খ্রি. ২৪ এপ্রিল গুলি করে ৭ (সাত) জন রাজবন্দীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এঁদের মধ্যে ভাষার দাবিতে বন্দী বিএল কলেজের ছাত্র আনোয়ার হোসেন পুলিশের গুলিতে শহিদ হন।
মাতৃভাষা রক্ষা আন্দোলনে খুলনা থেকে নেতৃত্ব দিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রে তিনিই প্রথমে জীবনদান করেন। তাই আমাদের দৃষ্টিতে আনোয়ার হোসেনই বাঙালি জাতির প্রথম ভাষা শহিদ। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ, গবেষক, অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির উল্লেখ করেছেন, ‘বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের মূল সংগঠকদের অন্যতম আনোয়ার হোসেন শহিদ হয়েছিলেন। তিনিই প্রকৃত পক্ষে ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ’। (সূত্র: একুশে প্রবন্ধ সংকলন, একুশে বই মেলা-২০১৭ খুলনা, পৃষ্ঠা-৮)
আন্দোলন বিষয়ে খুলনার লেখক ভাষা সৈনিক আবদুল হালিম উল্লেখ করেছেন, তখন পাকিস্তান তথা তার জনকের বিরুদ্ধে মুখ খোলে কার সাধ্যি! এ অবস্থার মধ্যে যে কয়জন এগিয়ে আসেন তারা হলেন, ছাত্র ফেডারেশনের নেতা স্বদেশ বোস; সন্তোষ দাসগুপ্ত, ধনঞ্জয় দাস, আনোয়ার হোসেন ও মুসলিম ছাত্রলীগের তাহমিদ উদ্দীন আহম্মদ, জিল্লুর রহমান, মতিয়ার রহমান সহ আরও কয়েকজন।….তখনকার খুলনার একমাত্র কলেজ দৌলতপুর কলেজে বসেই তারা ঠিক করেন খুলনাতেও বাংলা ভাষার স্বপক্ষে মিটিং করার। (তথ্যসূত্র: খুলনার ভাষা আন্দোলন আটচল্লিশ ও বায়ান্ন, পৃষ্ঠা-৩, প্রকাশকাল-২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫)
বৃটিশের শাসন থেকে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত রাষ্ট্র পাকিস্তানের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা খুবই কষ্টসাধ্য ছিল। ছাত্ররা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিশেষ করে মুসলিম লীগ নেতাদের কাছে থেকে দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এমন অবস্থায় কয়েকজন সাহসী ছাত্র নানা বাধাবিঘœ, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে বক্তৃতা এবং দাবিনামা পেশ করেন। এ বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘দৌলতপুর কলেজ থেকে ২০/২৫ জনের একদল ছাত্র পায়ে হেটে এসে মিটিং এ যোগদেয় কিন্তু সাধারণ ছাত্ররা, জনসাধারণ কেউ ভয়ে মিটিং এর কাছে আসে না, তারা সব রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। এমন অবস্থায় ছাত্ররা কোন রকমে সভা আরম্ভ করে (তাহমিদ উদ্দীনের) সভাপতিত্বে সামান্য বক্তৃতা এবং একটা লিখিত রেজুলেশন পড়ে সভা শেষ করে। কিন্তু তাতেও ছাত্র নেতারা রেহাই পেলনা। ঐ দিন সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র আনোয়ার হোসেনের সেই প্রথম কারাবরণ। আনোয়ারকে গ্রেপ্তারের পর এসপি মহীউদ্দীন সাহেব নিজেই তাকে ইন্ট্রোগেশন করতে লাগেন, কিন্তু তাতে পরাস্ত হয়ে বলেন, ‘তুমি কি জিন্নাহ সাহেবের চেয়ে বেশি বোঝ নাকি? তুখোড় ছাত্র নিবেদিত প্রাণ আনোয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়, জিন্নাহ সাহেব জিন্নাহ সাহেবের মত বোঝেন আর আমি বুঝি আমার মত।… সঙ্গে সঙ্গে এক ঘুষি মারেন আনোয়ারের মুখে। আনোয়ার…কোনদিন মাথানত করে নাই শত অত্যাচার, অবিচার আর অসত্যের কাছে, এমনকি মৃত্যু ভয়েও না। তাই তাকে মৃত্যুবরণ করতে হলো পুলিশের গুলিতে গৃহে বন্দী অবস্থায় ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল তারিখে রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে’ (পূর্বোক্ত পৃষ্ঠা: ৫-৬)। ১৯৪৮ এর ১১ মার্চ তারিখে বাংলাভাষা দাবি দিবস প্রতিষ্ঠা আন্দোলনে দাবিনামা পেশ করায় খুলনা থেকে ছাত্র নেতা ‘তাহমিদ উদ্দীন, সন্তোষ ঘোষ, ধনঞ্জয় দাস, শৈলেন ঘোষ, স্বদেশ বোস ও আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
…আনোয়ার হোসেনকে বাদ দিয়ে সকলকে ছেড়ে দেয় হয়। …মেধাবী ছাত্র হিসেবে চারিদিকে তার খ্যাতি ছিল। ন্যায় ও স্পষ্ট কথা বলতে দ্বিধাবোধ করতেন না। আন্দোলনে সাংগঠনিক কাজে তার তুলনা ছিলনা। …পাক সরকার তাকে ছাড়েনি। রাজশাহী সেন্ট্রাল জেলে খাপড়া ওয়ার্ডে বন্দী অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয় (১৯৫০)।’ (তথ্য সূত্র: ব্রজলাল কলেজের ইতিহাস, প্রফেসর মো. বজলুল করিম, পৃষ্ঠা: ৭৫০) ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেঁচে যাওয়া নেতাগণের অনেকেই পরবর্তীতে বিবরণ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে-খাপড়া ওয়ার্ডের আহত রাজবন্দী সত্যরঞ্জন ভট্টাচার্য্য হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘কমরেড আনোয়ারের মুখে গুলি লেগে মুখটা প্রায় উঠে গিয়েছিল। তাঁর প্রতিটি নিশ্বাসের সংগে রক্ত বেরিয়ে আসছিল’ আহত কারাবন্দী সত্যেন সরকার উল্লেখ করেছেন, ‘ঘটনা ঘটে সকাল নয়টায়। তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয় দিলওয়ারের বীরের মৃত্যু। তারপর আনোয়ারের মুখের বাঁ দিকটা উঠে যায়। গুলি আলাদা হয়নি।’ আহত বেঁচে যাওয়া সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ; (পরবর্তীতে পশ্চিম বঙ্গের স্পিকার ও মন্ত্রী ছিলেন) উল্লেখ করেছেন, ‘সেদিন যাঁরা শহিদ হয়েছিলেন, সবাইকে আলাদাভাবে জানতাম। কম্পরাম, বিজন, আনোয়ারকে জেলে দেখেছি। আনোয়ার খুব ভাল ছিল। সে কথায় কথায় গান করত, সুর করত। স্কুলের শিক্ষক নানার কাছে মানুষ হয়েছে। বাবা গরীব কৃষক মা পাগল হয়ে গিয়েছিলেন আনোয়ারের শোকে। তাঁর মা লোকদের ধরে ধরে জিজ্ঞেস করতেন, ‘আনোয়ার কে দেখেছিস? (তথ্যসূত্র: মতিউর রহমান খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকান্ড ১৯৫০)। খাপড়া ওয়ার্ড গ্রন্থের লেখক সম্পাদক, গবেষক মতিউর রহমান আন্দোলনকারী রাজবন্দীদের হত্যার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, ‘উত্তেজনাপূর্ণ এক পটভূমিতে ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে কোন বিপদসংকেত ছাড়াই খাপড়া ওয়ার্ডের চারদিক থেকে ২০টি বড় বড় জানালা দিয়ে ব্যাপক গুলি বর্ষণ করা হয়। গুলি বর্ষণের পর বর্বরভাবে লাঠিপেটা করা হয় আহত ব্যক্তিদের। পুলিশের গুলিতে সাতজন রাজবন্দী- বিজন সেন, দিলওয়ার হোসেন, হানিফ শেখ, কম্পরাম সিংহ, সুখেন্দু ভট্টাচার্য, সুধীন ধর ও আনোয়ার হোসেন নিহত হন। প্রায় বিয়াল্লিশজন রাজবন্দীর দু-একজন ছাড়া সবাই আহত হন।’ (পূর্বোক্ত পৃষ্ঠা-১৪৬)
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেন এর পিতার নাম কোনাই সরদার। তাঁদের বসতঘর ছিল সাতক্ষীরার বুধহাটা প্রাইমারী স্কুল (১৯২৬ খ্রি.) সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে। স্থানটিতে বর্তমানে বাঁশবাগান ও কবরস্থান। আনোয়ারের পিতার বাড়ি ছিল শোভনালী গ্রামে। আনোয়াররা নানা বাড়ির ওই স্থানে বসবাস করতেন। তাঁর নানা বাছের সরদার (শিক্ষক) এবং মামা বাবর আলীর প্রেরণা ও সহযোগিতায় মেধাবী আনোয়ার লেখাপড়া করতেন। আনোয়ার বুধহাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করে বুধহাটা হাইস্কুলে (স্থাপন-১৯১৫ খ্রি.) কিছুদিন পড়াশুনা করেন, পরে খুলনা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। এ তথ্য জানিয়েছেন আনোয়ারের বাল্য সহপাঠি হাবাশপুর গ্রামের আবুবক্কর সরদার (জন্ম ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) পিতা: মৃত আক্কাস সরদার। তিনি আরো বলেন, ‘আনোয়ারের দিল্ কল্জে ছিল, সাহাসী ছিল ও লেখাপড়ায় ভাল ছিল। বিজ্ঞানী আচার্য্য পিসি রায় এখানে যাওয়া আসা করতেন। একবার বুধহাটা প্রাইমারী স্কুলের জন্য ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা দিইলো, তাই স্কুল ঘর টিন দে ছাওয়া হইছিল।’ তিনি আরো জানান, ‘আনোয়ার, আবুল ও আজিবর ওরা তিন ভাই ছিল। আজিবর অল্প বয়সে মারা যায়।’ (এ তথ্য ০৯-০২-২০১৯খ্রি. সরেজমিনে সংগ্রহ করি)। আনোয়ারের খুলনা জিলা স্কুলের সহাপাঠি এমএ হালিম এর তথ্যানুযায়ী তিনি এবং আনোয়ার ১৯৪৪ খ্রি. খুলনা জিলা স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়েছেন এবং আনোয়ার তখন ক্লাশের সেকেন্ড বয় ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আনোয়ার মানে আনোয়ার হোসেন, …পাকিস্তানের প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম বলি শহিদ আনোয়ার হোসেনের কথা বলছি।’ (সূত্র: মতিউর রহমান, খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকান্ড-১৯৫০, পৃষ্ঠা ১৩৪)। এ সূত্র থেকে বুঝা যায় আনোয়ার হোসেন ১৯৪৬ খ্রি. খুলনা জিলা স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করেছেন কৃতিত্বের সাথে। পরে খুলনা বিএল কলেজে পাঠরত অবস্থায় ১৯৪৮ এর ১১ মার্চ বাংলা ভাষা দাবি দিবসে দাবি উপস্থাপন করায় এবং নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকায় পুলিশ আর তাঁকে ছাড়েনি। বাংলা ভাষার দাবিতে পুলিশের গুলিতে ১৯৫২ এর ২১, ২২ ফেব্রুয়ারি জীবন দিয়ে শহিদ হয়েছেন, আবুল বরকত, আব্দুস সালাম, আব্দুল জব্বার, রফিকউদ্দীন, শফিউর রহমান, আউয়াল ও আরো কয়েকজন। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্নে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে পাক পুলিশের গুলিতে ১৯৫০ এর ২৪ এপ্রিল শহিদ হয়েছেন আনোয়ার হোসেন। তাই তিনি বাঙালি জাতির প্রথম ভাষা শহিদ রূপে সরকারি স্বীকৃতির দাবিদার। ১৯৪৮ এর ১১ মার্চ ভাষা দাবি দিবসকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু খুলনা, দৌলতপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ছাত্রদের উদ্বুদ্ধকরণের জন্য সভা, কমিটি গঠণ এবং ভাষণ দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭৩ খ্রি. ‘রাজশাহী জেলের অভ্যন্তরে খাপড়া ওয়ার্ডের সামনে সাতজন শহিদের নামসংবলিত স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়।’ (পূর্বোক্ত পৃষ্ঠা ২৪) পাকিস্তানের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় উল্লেখিত সাতজনই প্রথম শহিদ হয়েছিলেন। লেখক: গবেষক