সুন্দরবনের কর্তন নিষিদ্ধ পশুর ও সুন্দরী কাঠসহ নৌকা আটকের ২৪ ঘন্টা পরও ব্যবস্থা নেয়নি বনবিভাগ


প্রকাশিত : এপ্রিল ২৭, ২০১৯ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের দোবেঁকী স্টেশনের বনকর্মীরা একদল চোরাকারবারীকে আটকের পর তাদের সাথে থাকা নৌকায় পশুর ও সুন্দরীসহ মুল্যবান কাঠ পাওয়ার ২৪ ঘন্টা পরেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। কর্তন নিষিদ্ধ এসব কাঠ ঐসব চোরাকারবারীরা কৌশলে কেটে নিয়ে লোকালয়ের নির্ধারিত স্থানে পৌছে দিয়ে থাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে আটককৃত কাঠসহ ঐ ঘটনায় জড়িতদের ছাড়িয়ে নিতে একটি ক্ষমতাধর চক্র বনকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করায় অঅটকের চব্বিশ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে অসমর্থিত একটি সুত্র জানিয়েছে শেষ পর্যন্ত ঐ চোরকারবারীদের সাথে সখ্যতা রক্ষাকারী এক পদস্থ বনবিভাগীয় কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় আটককৃত ব্যক্তিদের ছেড়ে দিয়ে ‘শুধুমাত্র পরিত্যক্ত কর্তন নিষিদ্ধ কাঠ উদ্ধারের’ নাটক মঞ্চস্থ্যের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যে ঘটনা এর আগেও শত শত বার ঘটেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।
সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া আজিজ ও মোসলেম (ছদ্মনাম, পরবর্তীতে বনে যাওয়ার অনুমতি দিবে না বনকর্মীরা তাই তারা ছদ্মনাম দেয়ার অনুরোধ করেন) সহ স্থানীয়রা জানায় গত মঙ্গলবার দুপুরে পুস্পকাটি এলাকা থেকে পশুর ও সুন্দরী কাঠ ভর্তি একটি নৌকা আটক করা হয়। দোবেঁকী টহল ফাঁড়ির ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অনেকটা পথ দাবড়িয়ে কর্তন নিষিদ্ধ ঐ কাঠসহ নৌকাটি আটক করে এবং জানতে পারে ঐ নৌকার মালিক কয়রা উপজেলার ঝিনেঘাটা এলাকার রজব কলুই।
স্থানীয়দের পাশাপাশি ঐসব প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা আরও জানায় যে কাঠভর্তি নৌকা থেকে রজব কলই এর কর্মচারী শহিদুল ও ইয়াছিনসহ আরও দুই জনকে আটক করে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সুত্র নিশ্চিত করে জানায় বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন কর্মকর্তা পরিচিত হওয়ায় রজব কলুই তার মাধ্যমে বিশ হাজার টাকার চুক্তিতে কাঠসহ নৌকা এবং লোক ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংবাদকর্মীরা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করলে কাঠসহ নৌকা ছেড়ে দেয়ার প্রক্রিয়া হোঁচট খায়। যোগাযোগ করা হলে ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন কাঠসহ নৌকা উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করলেও কর্তন নিষিদ্ধ কাঠের চালান ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে কবীর উদ্দীন ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য স্থানীয় শত শত জেলের অভিযোগ অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় এই মুহূর্তে পশ্চিম সুন্দরবনে সবচেয়ে বেশী কর্তন নিষিদ্ধ কাঠ কর্তন এবং পাচারের ঘটনা ঘটছে। হাতে গোনা মুষ্টিমেয় দু’চার জন বনকর্মী সততার সাথে এসব অপতৎপরতা মোকাবেলার চেষ্টা করেও ক্ষমতাধর উর্ধ্বতনদের কারনে সুন্দরবনের উজাড় হওয়াকে আটকাতে পারছে না। সরকারের অপরাপর বিভাগের মত বনবিভাগের পশ্চিম সুন্দরবন এলাকার অফিসগুলোতে দুদকের ‘সারপ্রাইজ’ ভিজিট এবং স্থানীয় জেলে বাউয়ালীদের গোপনে ভাষ্যগ্রহনপুর্বক অসৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সুন্দরবনে যাতায়াতকারী শত শত জেলে।