কৈখালীতে মায়ের সম্পদ আত্মসাৎ করতে গিয়ে দুই পুত্র ‘একঘরে’


প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জয়াখালী গ্রামের মৃত আহ্ছানউল্ল্যা গাজীর পুত্র বৃদ্ধ মান্দার আলী গাজী (৮৮) স্ট্রোকজনিত কারণে দীর্ঘ দিন বিছানায় পড়ে আছেন। মান্দার গাজীর স্ত্রী আমেনা বিবি (৭৮) একইভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুকেধুকে জীবন কাটাচ্ছেন। মান্দার গাজীর ৩ পুত্র ও ৩ কন্যা। পুত্ররা হলেন আব্দুস ছাত্তার, আব্দুল হামিদ ও আব্দুল মজিদ। কন্যারা হাসিনা খাতুন, ফতেমা খাতুন ও মরিয়ম খাতুন। মান্দার গাজী গত ২০১৬ সালে ১০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তার স্ত্রী আমেনা বিবিকে বিয়ের দেনমোহর খোরপোষ পরিশোধের জন্য পরিবারের সকলকে একত্রে করে রমজাননগর ইউপির ভেটখালী পেরিফেরীভুক্ত হাটবাজারের কোস্টগার্ড অফিসের পাশে বরাদ্দকৃত একটি দোকানঘর লিখে দেয়। অসহায় আমেনা বিবি স্বামী মান্দার গাজীর নিকট থেকে পাওয়া দোকানটি হোটেল তৈরী করে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন।
২০ এপ্রিল সকালে মান্দার গাজীর আব্দুস ছাত্তার ও আব্দুল হামিদ অত্যন্ত সু-কৌশলে মায়ের নামে পিতার দেওয়া উপহার সম্পদ দোকান ঘর (যার মূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা) বাকি একভাই ও তিন বোনকে ফাকি দেওয়ার উদ্ধেশ্যে মায়ের দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। আব্দুল হামিদ ও আব্দুস ছাত্তার অসুস্থ পিতা মান্দার গাজীর নামে ৪ বিঘা জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে লোকজনের দেখাতে থাকে এবং একদল ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে মা, ছোট ভাই ও বোনদের মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে।
গ্রামের লোকজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা হামিদ ও ছাত্তারকে-তাদের ভাই বোন ও মায়ের দোকান ঘর ও জমি ফেরত দেওয়ার জন্য বারবার শালিস বৈঠক করলেও কোন সুরাহা হয়নি। এলাকাবাসী বর্তমানে হামিদ ও ছাত্তারকে গ্রামে ‘একঘরে’ করেছে। বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য এলাকবাসি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।