শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় জলবায়ু তহবিল গঠন করা হবে: এসএম আতাউল হক দোলন


প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলন বলেন, শ্যামনগর সবচেয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে আছে। এখনকার মানুষেরা আকাশে মেঘ সৃষ্টি হলে আতঙ্কে থাকে। উপকুলীয় বেড়িবাঁধের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। সামান্য দুর্যোগে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ বাঁধ মেরামত বা দুর্যোগের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কোন অর্থ অগ্রিম বরাদ্দ নেই। আমি মনে করি উপকুলীয় সকল ইউনিয়ন পরিষদে প্রাক দুর্যোগের কাজ করার জন্য বরাদ্দ থাকা জরুরী। আগামী উপজেলা পরিষদের সভায় শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে একটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য জলবায়ু তহবিল গঠন করা হবে। এ তহবিলের অর্থ বাঁধ ডেবে যাওয়াসহ ভাঙনের উপক্রম দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে চেয়ারম্যানগন যোগাযোগ করলে বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, শ্যামনগরকে সকল দুর্যোগের কবল থেকে মুক্ত করতে সম্মিলিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি জলবায়ু পরিষদকে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয়সভায় পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।
২৯ এপ্রিল সকাল ১০টায় শ্যামনগর জলবায়ু পরিষদের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের হলরুমে ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে জলবায়ু ঝুঁকি ও করণীয়’ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জলবায়ু পরিষদের সিনিয়র সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শেখ হারুন-অর-রশিদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আইয়ূব ডলি, শ্যামগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহসিন-উল-মূলক। সভায় অতিথি হিসেবে ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা তুলে বক্তব্য রাখেন পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান এড. এসএম আতাউর রহমান, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল, আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ, গাবুরা ইউপির চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম, রমজাননগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন, কাশিমাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফ প্রমুখ। অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নজরুল ইসলামসহ শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৩০ জন নারী ও পুরুষ ইউপি সদস্য। সভায় প্রারাম্ভিক বক্তব্য প্রদান করেন সিএসআরএল এর কেন্দ্রিয় সমন্বয়কারী প্রদীপ কুমার মন্ডল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জলবায়ু পরিষদ, শ্যামনগরের সদস্য সচিব আশেক-ই-এলাহী।
সভায় উপস্থিত ইউপি সদস্যবৃন্দ স্ব-স্ব ইউনিয়নের অগ্রাধীকার ভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ ও জলবায়ু সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দাবি জানিয়ে বলেন, এ অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। বিশেষ করে বেঁড়িবাঁধগুলোর খুব খারাপ অবস্থা। এই বেঁড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। তা না হলে সরকারের যত উন্নয়ন এ অঞ্চলের জন্য করা হয়, তা সব নষ্ট হয়ে যাবে। খাওয়ার পানির আরও ব্যাপক সংকট দেখা দিবে।
সভায় এলাকার বাঁধের চিত্র ভিডিও ডকুমেন্টরি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের বিষয়ে প্রধান অতিথি বক্তব্যে সকলে একমত পোষণ করেন। সভায় অগ্রাধীকার ভিত্তিতে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে ও জলবায়ু সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ একযোগে আগামী ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা ও ১৭ ও১৮ জুলাই জলবায়ু মেলা সম্মিলিতভাবে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।