তিন সাংসদের সংহতি প্রকাশ, জেলা উপজেলায় আন্দোলন চলবে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ গ্রেফতার দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ঢুকে ফিল্মী কায়দায় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে সভাপতি সম্পাদকসহ ১০ সিনিয়র সাংবাদিককে আহত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা।
তারা অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও আইনে সোপর্দ করে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে কোনো সাজানো মামলা খাড়া করে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে তার ফল ভালো হবে না বলেও জানান সাংবাদিকরা।
শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত দুই ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে সাংবাদিকরা বলেন বৃহস্পতিবারের এই হামলার নেপথ্য গডফাদারদেরও চিহ্ণিত করে আইন আমলে আনতে হবে। হামলা চলাকালে মাত্র ১০০ গজ দুরের সাতক্ষীরা থানা থেকে পুলিশ আসতে অহেতুক বিলম্ব করে হামলায় মদদ যোগানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
জেলার সাতটি উপজেলা প্রেসক্লাব রিপোর্টার্স ক্লাব এবং অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনের বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকের অংশগ্রহনে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয় হামলাকারীরা প্রেসক্লাব সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ , প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি, সাবেক সভাপতি চ্যানেল আইয়ের আবুল কালাম আজাদ , প্রেসক্লাব সম্পাদক সময় টিভির মমতাজ আহমেদ বাপী, মোহনা টিভির আবদুল জলিল, সাবেক সম্পাদক আবদুল বারীসহ ১০ সাংবাদিককে আঘাত করে রক্ত ঝরিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে উল্লেখ করেন তারা। সাংবাদিকরা বলেন এরই মধ্যে ২৪ জনকে আসামি করে সাতক্ষরিা থানায় মামলা করেছেন প্রেসক্লাব সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী । এতে অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০ জন। তারা সবাই চোরাচালানি, চোরাঘাট মালিক, মাদকপাচারকারী, স্বর্ণ চোরাচালানি, মাদকসেবী, চাঁদাবাজ , ত্রাণের চাল চোর ও ঘের দখলকারী বলে উল্লেখ করেন সাংবাদিকরা। তারা সবাই এমপি রবি বাহিনীর চেলা চামুন্ডা বলে জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।


প্রেসক্লাবের সহসভাপতি অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী , সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, প্রেসক্লাব সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলাম, সাবেক সাধারন সম্পাদক আবদুল বারী, এম কামরুজ্জামান, রুহুল কুদ্দুস, ডেইলি সাতক্ষীরার সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক লায়লা পারভিন সেঁজুতি, দৈনিক মানবজমিনের ইয়ারব হোসেন, যমুনা টিভির আহসানুর রহমান রাজীব, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির আবুল কাসেম, কালের কণ্ঠর মোশাররফ হোসেন, দৈনিক সাতনদী সম্পাদক হাবিবুর রহমান ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাংবাদিকবৃন্দ।
তালা, দেবহাটা, কলারোয়া , আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার প্রেসক্লাব ও অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠন থেকে আসা বক্তব্যদানকারী সাংবাদিকরা হলেন- আশাশুনির আহসান হাবিব ও মোস্তাফিজুর রহমান, দেবহাটার আবদুল ওহাব ও গোলাম ফারুক, কলারোয়ার আরিফ মাহমুদ ও আজাদুর রহমান খান চৌধুরী পলাশ, তালার জুলফিকার রায়হান, শ্যামনগরের সামিউল মনির ও পিযুষ বাউলিয়া পিন্টু, কালিগঞ্জের নিয়াজ কাওসার তুহিন প্রমুখ সাংবাদিক। তারা জেলা পর্যায়ের সিনিয়র সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তারা বলেন সাতক্ষীরা সদর আসনের সাংসদ মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব কিছুদিন আগে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয়। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ২৪ ঘন্টা পার না হতেই তার চেলা চামুন্ডা ও চামচারা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হামলা করে রক্ত ঝরিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
এ ছাড়া সাংবাদিকদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন সাতক্ষীরা ১, ৩ ও ৪ আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, ডা. আফম রুহুল হক ও এসএম জগলুল হায়দার ছাড়াও জেলার সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাব ভবনে এসে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল ও পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান।
আজ শনিবার সাতক্ষীরার তিনজন সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবী সংগঠনসহ সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে প্রেসক্লাব ভবনে মত বিনিময়ের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দাবি আদায়ে জেলার সব উপজেলায় পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন সাংবাদিকরা।
সিসিটিভি ক্যামেরা কারা ভাঙে
সচরাচর চোর ডাকাত, খুনি এবং অপরাধ সংঘটনকারীরা তাদের অপরাধের আলামত ঢাকা দেওয়ার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা অথবা টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সিসিটিভি সংযোগ টেনে হেঁচড়ে বিচ্ছিন্ন করে একই অপরাধ করলেন দুই নামধারী সাংবাদিক শামীম ও মনি সহ তাদের সহযোগীরা।
আসামী হলেন কে কে
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে নিন্দনীয় হামলার সাথে জড়িতদের ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনের নামে মামলা করেছেন প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে যারা আসামী হয়েছেন এরা হলেন- টাকা আত্মসাত ও গুন্ডামির কারনে প্রেসক্লাবের সদস্যপদ হারানো জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, মনিরুল ইসলাম মনি ও শামীম পারভেজ। অন্য আসামীরা হলেন- পলাশপোলের জাকির হোসেন মিঠু, চায়না বাংলার মালিক একেএম আনিসুর রহমান, শাল্যের ত্রানের চাল চোর এসএম রেজাউল ইসলাম ওরফে চোর মোসলেম, পলাশপোলের কামরুল হাসান ওরফে চাঁদাবাজ চটা কামরুল, ব্রক্ষ্মরাজপুরের মনিরুজ্জামান তুহিন, নলকূড়ার খন্দকার আনিসুর রহমান, পুরাতন সাতক্ষীরার অমিত ঘোষ, মুনজিতপুরের আকাশ ইসলাম, মুহুরী মনিরুজ্জামান মনি, কাশেমপুরের শহিদুল ইসলাম, মুহুরী হাফিজুর রহমান, শ্রীউলার হাফিজুর রহমান পলাশ, বুলারাটির শেখ আমিনুর রশীদ সুজন, মেহেদীবাগের আক্তারুজ্জামান ওরফে আক্তারুল, মুনজিতপুরের শেখ আব্দুল হাকিম, পলাশপোলের শাহ আলম, সরকার পাড়ার তাজমিনুর রহমান টুটুল, মুনজিতপুরের জাদু ও দীপ, ভবানীপুরের আক্তারুল ইসলাম।
দুইঘন্টার গল্পবাজি, হঠাৎ হাসপাতাল বেডে
বৃহস্পতিবার হামলার পর মনিরুজ্জামান তুহিন, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, মনিরুল ইসলাম মনি, শহিদুল ইসলাম, শামীম পারভেজ সহ বেশ কয়েকজন হলরুমে এসে বীরত্বপূর্ন গল্পগুজব করছিলেন। এর আগে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের মুখোমুখি হয়ে জবাবদিহিতা করতে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছিলেন তারা । হঠাৎ সিবি হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স এলো। এসময় তুহিন, শহীদুল সহ কয়েকজন উহ্ আহ্ করতে করতে অ্যাম্বুলেন্সে উঠলেন। এরপর তারা হাসপাতালে শুয়ে ছবিতে পোজ দিলেন। পরদিন শুক্রবার একটি কাগজে ৪ টি ছবি দিয়ে বলা হলো তারা আহত এবং তাদের অবস্থা আশংকাজনক।
সাংবাদিকদের হুশিয়ারি
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ফিল্মি স্টাইলে হামলাকারীদের রক্ষার জন্য একটি মহল পাল্টা মামলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা স্পষ্ট ঘোষনা দিয়ে বলেছেন কোন সাজানো মামলা তৈরী করে হামলাকারীদের রক্ষার চেষ্টা করা হলে ফল ভালো হবে না।

 

মানববন্ধনের সামনে ওরা কারা
শুক্রবার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন চলাকালে আগেরদিনের অন্যতম হামলাকারী মুনজিতপুরের আব্দুল খালেকের ছেলে শেখ আব্দুল হাকিমকে দেখে সাংবাদিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় সদর থানার ওসি(তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম তাকে হুশিয়ার করে বলেন এখনি সরে যা। একথা শুনতেই আব্দুল হাকিমের ভো দৌড়। এসময় দেখা গেল মুনজিতপুরের জাদু ও মাহি আলমকে পৃথক গাড়িতে মানবন্ধন রেকী করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।

ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববনন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে স্মারক লিপি পেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন অনিরুদ্ধ স্বর্ণকার। মঙ্গল কুমারের পরিচালনায় মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপ্পি, নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ, সাতক্ষীরার সভাপতি এড. ফাহিমুল হক কিসলু, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী, নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ, সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২৪ মে সাতক্ষীরার সদর, আশাশুনি ও শ্যামনগর অঞ্চলের চাকরিপ্রার্থীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চাকরিপ্রার্থীরা অংশ নেন। কিন্তু উক্ত পরীক্ষা শুরুর পূর্বে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর যৌথ অভিযানে প্রশ্ন ফাঁসের সাথে একটি চক্রকে আটক করা হয়। যাদের ২১ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২ বছর করে কারাদ- প্রদান করে।
দ-িত অপরাধী চক্রটিকে যখন পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে আটক করা হয় তখন কলারোয়ার একটি ভবনে চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষার্থীকে প্রশ্ন বিক্রেতা চক্রটি ফাঁস করা প্রশ্ন ব্লাক বোর্ডে লিখে সেসবের উত্তর শেখাচ্ছিল। পরে সকাল ১০:৩০ টায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ফাঁস প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। সরকারি সংস্থাগুলোই যেখানে পরীক্ষা শুরুর পূর্বেই ফাঁস হওয়া প্রশ্নসহ একটি চক্রকে আটক করেছে এবং পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে তার হুবহু মিল পেয়েছে সেখানে সেই প্রশ্নে গ্রহণ করা পরীক্ষা বাতিল করা না হলে হাজার হাজার চাকরি প্রার্থী মেধাবী তরুণ-তরুণীর সাথে প্রতারণা করা হবে। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে পাবনা জেলা এবং লহ্মীপুর জেলায় কয়েকজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বক্তারা অবিলম্বে ২৪ মে ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করে নতুন প্রশ্নে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং অধিকতর তদন্ত করে এই প্রশ্ন ফাসঁ চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির দাবিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

কলারোয়ার জয়নগরে ইজিবাইকের ধাক্কায় আহত দুই

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ার জয়নগরে ইজিবাইকের ধাক্কায় দু’জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে জয়নগর বাজারের রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আবুল হোসেন নামের এক বৃদ্ধ ও তার কোলে থাকা শিশু আহত হয়েছে। তাদেরকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইজিবাইক চালক সরুলিয়া গ্রামের মাফুজার সরদার (৫০) প্রাথমিক পর্যায়ে আটক করে পরে ছেড়ে দেয়া হয়।

কলারোয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসি শেখ মুনীরের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে থানার ওসি’র কক্ষে ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময়কালে শেখ মুনীর বলেন, ‘আমি গরীবের পাশে, মাদকের বিরুদ্ধে।’ বস্তুনিষ্ঠ খবর পরিবেশনের মাধ্যমে কলারোয়া থেকে মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক এমএ কালাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সহকারী অধ্যাপক কেএম আনিছুর রহমান, সহ-সভাপতি শেখ জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ মোসলেম আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, দপ্তর-প্রচার সম্পাদক সুজাউল হক, নির্বাহী সদস্য গোলাম রহমান, আব্দুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন, সদস্য সরদার জিল্লুর রহমান, শফিকুর রহমান, হাবিবুর রহমান রনি প্রমুখ।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের খোঁজ নিলেন নেতৃবৃন্দ

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী প্রফেসর ডা. আ. ফ. ম রুহুল হক এমপি। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে সিঙ্গাপুর আছেন। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারি, মোহনা টিভির আব্দুল জলিলসহ ১০জন সিনিয়র সাংবাদিক। ডা. রুহুল হক এমপি আহতদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে হামলায় আহতদের দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান। দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জিএম নূর ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আল মাহমুদ পলাশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এদিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসীদের নগ্ন হামলার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার। তিনি আহত সাংবাদিকদের খোঁজখবর নেন এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। একই দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। তিনি আহতদের শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এভাবে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনে সোপর্দ করার জোর দাবি জানান।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এমপি রবি সমর্থক সন্ত্রাসীদের হামলা সভাপতি সম্পাদকসহ ১০ সাংবাদিক আহত

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রেসক্লাবের নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে কমান্ডো স্টাইলে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে রবি সমর্থক সন্ত্রাসী বাহিনী। এই হামলায় প্রেসক্লাবের সভাপতি সম্পাদকসহ ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলার সময় প্রেসক্লাবের পাশে অবস্থিত সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশের বারবার সহায়তা চেয়ে টেলিফোন করা হলেও হামলা শেষ হওয়ার পর পুলিশ প্রেসক্লাবে পৌছায়। এসময় পুলিশের সামনেই হামলাকারীরা অবস্থান করছিল। অপরদিকে হামলাকারীদের প্রোটেকশনে প্রেসক্লাবের সামনে ও শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অবস্থানকারী ১০০/১৫০ সন্ত্রাসী বীরদর্পেই পুলিশের সামনে দিয়ে চলে যায়। একই সময় সিবি হাসপাতালের মালিক সাবেক ছাত্রদল নেতা একেএম আনিসুর রহমান থানায় ওসির সামনেই অবস্থান করছিল। উক্ত সন্ত্রাসীদের সাথে সদর এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবির ভাই মীর মাহামুদ আলী লাকী ও মাহী আলমকেও দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রেসক্লাবের বহিস্কৃত সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, মনিরুল ইসলাম মনি, শামীম পারভেজের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন প্রেসক্লাবে ঢুকেই সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপরপরই লাঠিসোটা, লোহার রড়সহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র সহকারে রেজাউল, কামরুল, তুহিন, খন্দকার আনিসুর রহমান, মনি, অমিত, শহীদুল, হাফিজুল, টুটুল, শাহ আলম, আক্তারুল, পলাশসহ আরো ৫০/৬০জন সন্ত্রাসী প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। এসময় প্রেসক্লাবের অতিথিকক্ষে অবস্থানকারী সভাপতি আবু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপি, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জী, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, মোহনা টিভির প্রতিনিধি আবুল জলিলসহ অন্যদেরকে তারা বেদমভাবে মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক আব্দুল জলিলকে টেনে হেঁচড়ে প্রেসক্লাবের সামনে নিয়ে সেখানে ক্রিকেটের উইকেট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। আধাঘন্টাব্যাপি চলা এই তান্ডবের পর সন্ত্রাসীরা প্রেসক্লাবের হলরুমে অবস্থান নেয়। এরপরপরই সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়।


হামলায় আহত সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ ও মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আবদুল জলিলকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।
ঘটনার সময় প্রেসক্লাবের সামনে ও সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবির ভাই মীর মাহামুদ আলী লাকী ও মাহী আলমকে সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। এছাড়া জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি ও দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলার আসামী আব্দুস সবুরের ছেলে আবু সাঈদের নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্রসহকারে আরো কয়েকজন সন্ত্রাসীকে প্রেসক্লাবের সামনের চত্তরে দেখা যায়।
এদিকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান এবং উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা প্রেসক্লাবে আসেন। তারা এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি মহল সাতক্ষীরায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়। তারাই নেপথ্যে থেকে ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার অভিন্ন ভাষায় বলেন ‘সাতক্ষীরার মত শান্ত জেলাকে যারা অশান্ত করে ফায়দা লুটতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে’। তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রেসক্লাবে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া আক্রান্ত সাংবাদিকরা মামলা করলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রেসক্লাবে কেবলমাত্র সাধারণ ভোটার সদস্য ও সহযোগী সদস্য ছাড়া আর কেউ বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে পুলিশ ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সকল কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সব সাংবাদিক। তারা বলেন, ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই প্রথম রক্তপাতের ঘটনা ঘটলো। সাধারণ সাংবাদিকরা হামলাকারী ও হামলার নেপথ্য গডফাদারদের চিহ্নিত করেছেন দাবি করে বলেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে যেসব সাংবাদিক এই হামলার সাথে জড়িত তারাও রক্ষা পাবে না বলে জানানো হয়। আজ শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে প্রেসক্লাব।

 


উল্লেখ্য গত ২০ মার্চ অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব। এ ঘটনার আড়াই মাস পর গত বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। এর মাত্র কয়েক ঘন্টা পর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলো। এছাড়া সম্প্রতি সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগ, সদর উপজেলা পরিষদ, পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সীমাহীন অনিয়ম দুর্ণীতির খবর পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হলে অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে দুর্নীতিবাজরা। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে ঐসব দুর্নীতিবাজদেরও দেখা যায়।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় কলারোয়া প্রেসক্লাবের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও আহতদের দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করে বিবৃতি দিয়েছে কলারোয়া প্রেসক্লাব। বৃহস্পতিবার দেয়া বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার সাথে জড়িতদের তদন্তপূর্বক শাস্তি প্রত্যাশা করে কলারোয়ার সাংবাদিক সমাজ। বিবৃতিদাতারা হলেন, কলারোয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক এমএ কালাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সহকারী অধ্যাপক কেএম আনিছুর রহমান, সহ-সভাপতি শেখ জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ মোসলেম আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, দপ্তর-প্রচার সম্পাদক সুজাউল হক, কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম মনি, ক্রীড়া-সাহিত্য সম্পাদক আবু রায়হান মিকাঈল, নির্বাহী সদস্য গোলাম রহমান, আব্দুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন, সদস্য সরদার জিল্লুর রহমান, শফিকুর রহমান, হাবিবুর রহমান রনি, লক্ষ্মন বিশ্বাস, মিলন দত্ত, দেবাশীষ চক্রবর্তী, গোপাল ঘোষ বাবু, আদিত্য বিশ্বাস প্রমুখ।

মাদকের বিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া হবে না: পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, জেলা থেকে মাদক নির্মূল করা হবে। মাদকের বিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। যারা এখনো পর্যন্ত মাদকের সাথে জড়িত তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কারণ মাদক ব্যবসায়ীরা দেশ ও জাতির শত্রু। মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূলে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ জন্য তিনি জনগণকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। পুলিশকে সহযোগিতা করুন, পুলিশের সেবা গ্রহণ করুন স্লোগানে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সাতক্ষীরা সদর থানার আয়োজনে থানা চত্তরে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বিপিএম এসব কথা বলেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং থানার ওসি (আইসিটি) বিপ্লব কান্তি মন্ডলের সার্বিক সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা সদর সার্কেল মেরিনা আক্তার, বৈকারি ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অসলে, ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, সাতক্ষীরায় মাদক-জঙ্গিবাদ অপরাধ নির্মূলে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া কেবলমাত্র পুলিশ বাহিনীর পক্ষে পুরোপুরি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। যারা অদ্যবধি মাদক কিংবা অন্যান্য অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত তাদের সম্পর্কে পুলিশকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে তিনি সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানান। যদি পুলিশ বাহিনীর কোন সদস্যও এধরনের অপকর্মে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া যদি কেউ পুলিশের কাছে সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হন। তাহলে অভিযোগ করুন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই পুলিশ সদস্যদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পাটকেলঘাটা নিউজ ক্লাবের নিন্দা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলায় প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক কালের চিত্রের সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহম্মেদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জীসহ ১০জন সাংবাদিক আহত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন পাটকেলঘাটা নিউজক্লাবের সভাপতি মফিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন, সদস্য মুজিবর রহমান, আমিনুর রহমান সোহাগ, মাহফুজুর রহমান মধু, রিপন হোসাইন প্রমুখ।

সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে সেই এসও কবিরের বিদায়

শ্যামনগর প্রতিনিধি: অবশেষে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে এসও কবীর উদ্দীন বিদায় নিতে বাধ্য হলেন। সব চেষ্টা আর তদ্বীর ব্যর্থ হওয়ায় চলতি সপ্তাহে তিনি খুলনা ডিএফও অফিসে যোগদান করেছেন।
তবে বিদায় পূর্ব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসও কবীর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ উগরে দেন। সাংবাদিকদের কারণে তার সাতক্ষীরা রেঞ্জে থাকার ইচ্ছার যবনিকা ঘটেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য কবীর উদ্দীন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসের এসও (স্টেশন অফিসার) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। প্রায় আড়াই বছরের এ কর্মস্থলে (সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশনে) থাকার সময়ে তিনি বেশুমার লুটপাট আর দুর্নীতি করে বারবার শিরোনাম হয়েছেন।
স্থানীয় জেলে বাউয়ালীসহ সাংবাদিকরা সোচ্চার হলেও এতদিন পর্যন্ত এসও কবীর উদ্দীনের দুর্নীতির লাগাম টানতে পারছিলেন না। বরং সাতক্ষীরা রেঞ্জের এক প্রভাবশালী বন কর্মকর্তার আশ্রয়ে কবীর উদ্দীন সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করে দিব্যি সুন্দরবনকে নিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
আগাগোড়া দুর্নীতিতে মোড়ানো কবীর উদ্দীনের লাগামহীন দুর্নীতির বিষয়ে একাধিকবার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রমানসহ সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে স্থানীয় জেলে বাউয়ালীরা বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমুহে একাধিক লিখিত অভিযোগও করেন।
স্থানীয় সুত্রমতে সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশনে যোগদানের পর থেকে কবীর উদ্দীন সুন্দরবনকে নিয়ে বানিজ্যে মেতে ওঠেন। তার বেশুমার দুর্নীতির কারনে অপরাপর বনকর্মীসহ বন কর্মকর্তারা পর্যন্ত লজ্জা পেতেন। অভিযোগ রয়েছে সুন্দরবনের কাঠ পাচার থেকে হরিণ শিকারসহ যাবতীয় অপকর্মের সাথে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। সাংবাদিক পরিচয়দানকারী স্থানীয় এক অপরাধীর সাথে মিলে কবীর উদ্দীন সুন্দরবন থেকে পারশে মাছের রেনু শিকারসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন।
তার এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার বার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর সম্প্রতি কবীর উদ্দীনকে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে বদলীর ‘অর্ডার’ হওয়া সত্ত্বেও তিনি বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রীসহ উপর মহলে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করেন পুনরায় সাতক্ষীরা রেঞ্জে থেকে যাওয়ার জন্য। কিন্তু বিভাগীয় বনকর্মকর্তাসহ উর্ধ্বতন কিছু নীতিবান কর্মকর্তার দৃঢ় ভূমিকার কারনে শেষ পর্যন্ত দুনীিিতবাজ কবীর উদ্দীনকে তল্পিতল্পাসহ সাতক্ষীরা রেঞ্জ ত্যাগ করতে হয়েছে।
এদিকে কবীর উদ্দীনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ ছেড়ে যাওয়ার খবরে স্থানীয় জেলে ব্য়াালীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বুড়িগোয়ালীনি গ্রামের আমির আলী ও দাতিনাখালীর শহিদুল ইসলামসহ অনেকে জানায়, কবীর জেলেদের উপর জুলুম করতো। নিজে বিভিন্ন জেলেকে অভয়ারন্যে পাঠিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন। আবার চুক্তিমত কমিশন দিতে ব্যর্থ হলে একই জেলেকে আটক করে মামলায় দেয়ার ভয় দেখিয়ে দ্বিগুন টাকা আদায় করতেন। এমনকি নীলডুমুর খেয়াঘাট সংলগ্ন কয়েক জন চোরকারবারীর সাথে মিলে কবীর উদ্দীন গভীর সুন্দরবনে পারশে মাছের রেনু শিকারের জন্য ইঞ্জিন চালিত নৌকা পাঠাতেন বলেও জানায় তারা।
সুন্দরবন সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামের মানুষ জানায় বুড়িগোয়ালীনির এসও থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি তিনি মুন্সিগঞ্জ টহল ক্যাম্প এবং গোলপাতা কূপের দায়িত্ব পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। কবীর উদ্দীন নির্ধারিত সময়ের আগেই চুক্তিতে মৌয়ালদের দিয়ে মধু কাটানোসহ সুন্দরবন থেকে শত শত মন কাঠ পাচার করেছেন। অনেক সময় তিনি অভয়ারন্য থেকে জেলেদের আটক করে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে দুই তিন দিন পর্যন্ত জিম্মি রেখে ঐসব জেলে পরিবারের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায় করেছিলেনন।
প্রসংগত উল্লেখ্য তিনি তার অধিনস্থ বনকর্মীদের দিয়ে শ্যামনগরের বিভিন্ন ‘স’-মিল থেকে সুন্দরবনের কর্তন নিষিদ্ধ কাঠ চেরাই করে নিজের বাড়িতে পাচার করেছেন। যার অংশ হিসেবে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী তিনি নিজের এক অধিনস্থ বনকর্মীকে দিয়ে নওয়াবেঁকী বাজারের ‘স’ মিল থেকে দশ টুকরা কাঠ চেরাই করিয়ে আনেন। পথে কোন সমস্যা যেন না হয় সে জন্য তিনি তার অফিসিয়াল সিল ব্যবহার করে একটি অগ্রায়নপত্র ঐ বনকর্মীর হাতে ধরিয়ে দেন।
সাংবাদিক পরিচয় দানকারী স্থানীয় এক চোরকারবারীর সাথে মিলে কবীর উদ্দীন সুন্দরবনকে ঘিরে তার অপরাধ জগৎ গড়ে তুলেছিলেন বলেও দাবি অসংখ্যা জেলে বাউয়ালীদের।
এদিকে এমন একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে সরিয়ে নেয়ায় উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার নির্যাতনের শিকার জেলে বাউয়ালীরা।

জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির আহবায়ক আবু আহমেদকে সদস্য পদ বাতিলের প্রতিবাদে ও অবৈধ পকেট কমিটি বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির আহবায়ক অধ্যক্ষ আবু আহমেদকে অগঠনতান্ত্রিক ভাবে সদস্য পদ বাতিলের প্রতিবাদে এবং অবৈধ পকেট কমিটি বাতিল ও নির্বাচনের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শহরের খুলনা রোড মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির আহবায়ক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্য আসাদুল হক, প্রাণনাথ দাস, সৈয়দ হাসান ইমাম প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ৬ এপ্রিল শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টারে সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির এক সাধারণ সভা অধ্যক্ষ আবু আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৪ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঐদিন নির্বাচনে পরাজয়ের আশংকায় সাবু-মোরশেদ গং সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির স্বাক্ষরিত একটি কমিটি গঠন করেন। তারা বলেন, সংসদ সদস্য এরুপ কমিটি গঠন করতে পারেননা। এখতিয়ার বর্হিভুত কমিটি কোনদিন বৈধ হতে পারেনা। বক্তারা এ সময় অবৈধ কমিটি বাতিল, বৈধ কমিটি পূণ:বহাল ও নির্বাচনের জোর দাবি জানান প্রশাসনের কাছে।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের খোঁজ নিলেন নেতৃবৃন্দ

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী প্রফেসর ডা. আ. ফ. ম রুহুল হক এমপি। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে সিঙ্গাপুর আছেন। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারি, মোহনা টিভির আব্দুল জলিলসহ ১০জন সিনিয়র সাংবাদিক। ডা. রুহুল হক এমপি আহতদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে হামলায় আহতদের দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান। দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জিএম নূর ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আল মাহমুদ পলাশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এদিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসীদের নগ্ন হামলার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার। তিনি আহত সাংবাদিকদের খোঁজখবর নেন এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। একই দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। তিনি আহতদের শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এভাবে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনে সোপর্দ করার জোর দাবি জানান।

ধানের যন্ত্রণা ও রাষ্ট্রের আরাম

পাভেল পার্থ
গলে পড়ছে তাতানো ঘাম। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশায় ওঠি। বোঝা যায় চালক এ শহরে নতুন। ঘাড়ের লালডোরা গামছাটির মতই। জানা যায়, এ পেশাতেও নতুন। সেনপাড়া গ্রাম থেকে ‘মনের জ্বালায়’ পালিয়ে এসেছেন ঢাকায়। ‘কেন পালাতে হলো?’ গন্তব্যে পৌঁছতে পৌঁছতে শুনি চালকের গ্রাম-পালানোর সেই নির্দয় কাহিনি। বেহায়া কিছু গাড়ির হর্ণ মাঝেমাঝে কাহিনির কোনো শব্দ গিলে ফেললেও এই কাহিনি আমার কানের পর্দার মুখস্থ হয়ে গেছে। চালকের গল্পটি আগাপাছতলা ঠাহর করতে পারি। গত দুই মাসে থেকে গত কয়েকবছর ঢাকায় পালিয়ে আসা রিকশাচালকদের কাছ থেকে এই একই কাহিনিগুলো শুনে চলেছি আমরা। বিসময়করভাবে এরা কেউই একই এলাকা থেকে আসেনি। কেউ এসেছে হাওর থেকে, কেউ চলনবিল, কেউ সমুদ্র উপকূল, কেউ সুন্দরবন, কেউ মেঘালয়ের পাদদেশ, কেউ বরেন্দ্র, কেউ তিস্তা-যমুনা অববাহিকা কেউ বা চরাঞ্চল কী দূর দ্বীপ থেকে। তো, এই চালকের নাম মিল্লাত আলী। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নে বাস। চালক জানালেন, গত কয়েকবছর বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিক্ষেত্রে কাজ কমেছে। মানুষও পাওয়া যায় না। এ বছর বোরো মওসুমে ধানের দাম মেলেনি। গত কয়েকবছর টেনেটুনে টিকে থাকতে পেরেছিলেন। এবার আর দম ফেলতে পারেননি। এক মণ ধান ফলাতে কেবল টাকাই খরচ গেছে ৭০০ টাকার উপর। এই হিসাব কেবল উফশী বীজ, রাসায়নিক সার, বিষ, সেচ আর ডিজেল খরচ। রক্ত আর মগজ পানি করা পরিশ্রমের হিসাব তো বাদই রইলো। সেই ধান কীভাবে সাতশ টাকার নিচে বেঁচবেন? আর বেচবেনই বা কোথায়? কত মাস্তান, মহাজনেরা দখল করে রেখেছে হাটবাজার। ‘‘সরকার তো প্রতি মণ ধানের দাম ১০৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে, সরকারের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ধান বিক্রি করবেন, অনিয়ম হলে প্রতিবাদ করবেন। ইউনিয়ন পরিষদের কাছে বিচার চাইবেন। আপনারা কৃষকরা প্রতিবাদ করেন না বলেই এই দুরাবস্থা। আপনি তেভাগা সংগ্রামের মানুষ। সরকার কৃষকের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে কতকিছু করছে, কিন্তু সব অনিয়ম তো আর সরকার একা সামাল দিতে পারে না। আপনারা কৃষি ছাড়লে আমরা বাঁচবো কাদের নিয়ে?’’ চালক আমার দিকে ‘ঢাকা শহর আইস্যা আমার আশা ফুরাইছে’ গানের ভঙ্গিতে তাকান। যাওয়ার সময় বলে যান, কলে মা মার খায়, না কলে মা কুত্তা কামড়ায়’। গন্তব্যে নেমে যাই, দেখি লাল নীল রঙের ঢাকা শহরে নিদারুণভাবে হারিয়ে যাচ্ছেন একজন কৃষক। বাংলাদেশের কৃষক। রিকশা নয়, দেখি সুরমা রঙের তাগড়া মহিষ নিয়ে কাসেম আলী লাঙল কাঁধে নেমেছেন বরেন্দ্রর ধাপখেলানো জমিনে। ঝিঙাশাইল ধানের ভাত, আলুর তরকারি আর তেঁতুলের খাটা গামছায় বেঁধে নানার সাথে হাঁটছেন শিশু মিল্লাত আলী। পরিবার থেকে কৃষির বর্ণমালা শিখে শিখে শিশু মিল্লাত আলী একদিন কৃষক যুবক হয়ে ওঠেন। দাদী-নানীর আমলের রাধুনীপাগল, মালশিরা, রঘুশাইল, মাগুরশাইল, দাদখানি, কালিবোরো, ষাইটাবোরো, তুলসীবোরো, সাদাবোরো, লাইড়াবোরো, শনি কী কালামানিক ধানেদের অনেকের মৃত্যু নিজের চোখে দেখেছেন। পরিবারে শুনেছেন এইসব ধানের হারিয়ে যাওয়ার নৃশংস কাহিনি। বরেন্দ্র সেচপ্রকল্প থেকে শুরু করে গ্রামের রাস্তায় সার-বিষের দোকানের খবরদারি কী ধান বীজ কেনার জন্য নানা কিসিমের ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ মিল্লত আলীর যৌবন বয়সে শেখা। মিল্লাত আলী একজন কৃষকই হতে চেয়েছিলেন। হয়তো অন্য কোনো পেশা বা পরিচয়ের জীবন বেছে নেয়ার জায়গাও সেখানে ছিল না। গ্রামে কষ্ট ছিল, এই ধানে চিটা তো এবার সারের দাম বেশি। বেশি দামে বীজ কিনেও দানা আসেনি, আবার ফলন হয়েছে দেদার কিন্তু ফসলের দাম নেই কোনো। কিন্তু কষ্টের জীবনে গ্রামে তাঁর একটা পরিচয় ছিল, ঠিকানা ছিল, একটা খোয়াব ছিল। নতুন এই অচিন শহরে তাঁর কিছুই নেই। এখানে প্রতিদিন মিল্লাত আলীরা হারিয়ে যান। আর এই মিল্লাত আলীদের হারানোর গল্প পেটবোঝাই করেই ঢাকা আরো ‘প্রাণহীন’ শহর হয়ে ওঠে। কারণ এখানে কেউ কাউকে চেনে না, এখানে কোনো সমাজ নেই, কারোর সাথে কারোর যেন কোনো দরবার বা সোহাগ নেই।
২.
আর এই শহরের মানুষের সাথে ধানের সম্পর্কটি ভিন্নধাঁচের। বোরো মওসুমে পাহাড়ি ঢল নামলে হাওরভাটির মানুষের মতোন এদের বুক কাঁপে না। দীর্ঘ খরায় ধান পুড়লে বরেন্দ্রবাসীর মতোন এখানে কারো কলিজা তরপায় না। শহরের এক একটি পরিবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবচে কম খরচ করে চালের পেছনে। পিৎজাহাটের একটি পিৎজার দাম এক মণ ধানের চেয়ে বেশি। এক প্যাকেট চিপসের দাম এক কেজি ধানের চেয়ে বেশি। যে শহরের মানুষের সাথে ধানজীবনের কোনো আগাপাছতলা সম্পর্ক নেই, সেই শহরেই দেশের ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারিত হয়। দেশের কৃষিনীতি তৈরি হয়। আসলে চলতি লেখাটি বাংলাদেশের ধানের দাম চলমান তর্ককে ঘিরে। বলা ভাল বোরো মওসুমে উৎপাদিত উফশী ও হাইব্রিড ধানের দাম। স্মরণে রাখা জরুরি এখনো দেশে আমন, আউশ, বোরো মওসুমে কিছু স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ হয়। জুম ধানের আবাদ হয়। স্মরণ রাখা জরুরি ধানের দামের চলমান সংকটটি কিন্তু জটিল হয়েছে ‘বোরো মওসুমের উৎপাদন ঘিরে’। এটিও স্মরণ করা জরুরি এই মওসুমে ব্যাপকহারে ধান আবাদ কীভাবে শুরু হল? কীভাবে? তথাকথিত ‘সবুজ বিপ্লবের’ মাধ্যমে। এই মওসুমে এখন ধানের ব্যাপক চাষ হয় এবং দানার উৎপাদন সবচে’ বেশি হয়। এটিও মনে রাখতে হবে এই মওসুমেই সবচে বেশি কর্পোরেট কোম্পানির সার-বীজ-যন্ত্রপাতি-জ্বালানি ও বিষের বাণিজ্য হয়। যত বেশি ধান, তত বেশি মনস্যান্টো বা সিনজেনটা কোম্পানির মুনাফা। কর্পোরেট কোম্পানির ব্যবসা চাঙ্গা করে কৃষক যে ধান ফলাতে বাধ্য হচ্ছে সেই ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়েই আজ প্রশ্ন ওঠেছে। তাহলে এই ধানের ন্যায্যমূল্যের যাবতীয় দায়ভার কেন সরকার নেবে? কেন দুনিয়াকাঁপানো কৃষি কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকে এই প্রশ্ন করা হবে না? যদিও চলতি আলাপটি কৃষির এই কর্পোরেট দখল নিয়ে বিস্তর তর্ক তুলতে চাইছে না। চলতি আলাপখানি ধান ঘিরে এই জনপদের এক মৌলিক মনস্তত্ত্ব ও নি¤œবর্গের দর্শনকে হাজির করতে চায়। ধান কি কোক-পেপসি বা মোবাইল-ল্যাপটপের মতো কোনো ‘বাজারি পণ্য’? কেবলমাত্র বাজারনির্ভর দরদাম আর নানাস্তরের মুনাফার মূদ্রার হিসাব দিয়ে কি ধানের দাম যাচাই হতে পারে? যদিও নিদারুণভাবে এই নয়াউদারবাদী বিশ্বায়িত বাজারে ‘ধানকেও’ এখন এক ‘বাজারি পণ্য’ করে ফেলা হয়েছে। তো মূদ্রামানে ধানের ন্যায্যমূল্য আসলেই কত হতে পারে? রাষ্ট্র এ বছর এক মণ ধানের দাম নির্ধারণ করেছে ১০৪০ টাকা। একজন কৃষকের কাছ থেকে এক টন করে ধান কিনছে সরকার। অথচ এই বোরো মওসুমে ধান ফলেছে অনেক। প্রায় দুই কোটি টন। এমনকি গত আমন মওসুমের অনেক ধান রয়ে গেছে চাতালে। বেড়েছে চালের উৎপাদন ৭.২%। সব কৃষক সরকারের বিক্রয়কেন্দ্রে ধান বেচতে পারছে না। কৃষককে এলাকাভেদে ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে প্রতিমণ ধান বেচার জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ধানসহ কৃষিউৎপাদনগুলো এমন যে, এসবের সাথে এক একটি পরিবার প্রতিবেশী এবং একটি গ্রামের নানামুখী সম্পর্কের সূত্র থাকে। সামাজিক ইতিহাস ও বাস্তুতন্ত্রের জটিল অবদান থাকে। তাহলে এই নয়াউদারবাদী বাজারে একটি বারবি পুতুলের দাম ও কৃষকসমাজের উৎপাদন কি একই নিরিখে মাপা হবে? একই মূদ্রানির্ভর ব্যবস্থার চশমায়? এ নিয়ে কী কোনো প্রশ্ন তোলা হবে না? ধানসহ কৃষিউৎপাদন নিয়ে রাষ্ট্রকে মনোযোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে এক কৃষিপ্রধান রাষ্ট্রের দর্শন স্পষ্ট হওয়া জরুরি। বোরো, আমন ও আউশ মওসুমের ধানের দর কেমন হবে? দেশের ত্রিশটি কৃষিপ্রতিবেশ অঞ্চলের ধানের দর কি একইরকম হবে? যেসব অঞ্চল পাহাড়ি ঢল, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, খরা, শৈত্যপ্রবাহ সামাল দিয়েছে? রাসায়নিক পদ্ধতি ও প্রাকৃতিক জৈব উপায়ে উৎপাদিত ধানের দরে কি ভিন্নতা থাকবে না?
৩.
ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে তর্ক চলছে। মনে পড়ছে ২০১০ সনে করা খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে একটি প্রতিবেশগত সমীক্ষা কাজের কথা। দহগ্রাম-আঙুরপোতা ছিটমহলের কৃষকেরা বলেছিলেন, যাতে উৎপাদন খরচ থেকে বিক্রির পর একটা লাভ থাকে তাই ন্যায্যমূল্য। ২০০৯ সনে দহগ্রাম ছিটমহলের কৃষকেরা বোরো মওসুমে উৎপাদিত ধান সরকারের কাছে প্রতি মণ বিক্রি করেন ৫৬০ টাকা এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন ৩৫০-৪০০ টাকায়। কিন্তু এক মণ ধান চাষ করতে তখন তাদের খরচ পড়ে প্রায় ৬০০ টাকা। ছিটমহল সমস্যার সমাধান হলেও সেখানকার কৃষকের ধানের মূল্যসংকট কাটেনি এখনো। রাষ্ট্রের কৃষিনীতি আছে, কৃষিবিষয়ক নানাস্তরের কাঠামো আছে। কিন্তু বছর বছর ধানসহ কৃষি উৎপাদনের এই মূল্যসংকট কেউ গভীরভাবে তলিয়ে দেখেনি। কৃষিমন্ত্রণালয় চাষ ও ধান সংগ্রহের কাজটি করে। ধান ও চাল গুদামে গেলেই এই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যায়। আবার চাল আমদানি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিবছর রাষ্ট্র উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এটি তো এমন নয় যে, চট করেই এ বছর বোরো মওসুমে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এটি তো অবশ্যই রাষ্ট্রের নজরে আছে, নথিতে আছে। তাহলে উৎপাদন বেশি বা কম হলে রাষ্ট্রের করণীয় কি হবে? উৎপাদন বেশি হলে রাষ্ট্র তার নাগরিকের উৎপাদনের সুরক্ষা কিভাবে দেবে? হয় রাষ্ট্র এই উৎপাদন কিনবে বা মজুতকরণের কোনো বন্দোবস্ত করবে বা এই উৎপাদন বহুমুখীকরণের ব্যবস্থা করবে এবং হয়তো দেশের সামগ্রিক চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করবে। রাষ্ট্র যখন দেখলো নিজ দেশেই ব্যাপক শস্য উৎপাদিত হচ্ছে তবে কেন রাষ্ট্র চাল আমদানির অনুমোদন দিল? কেন ধান কেনাবেচা নিয়ে ধানকল ও চাতাল ব্যবসায়ীরা বাহাদুরি করে? রক্তজল করা ফসল বিক্রি করতে এসে কেন এখনো কৃষক হয়রানি হয়? রাষ্ট্রকে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ধানের সাথে জড়িত সকল মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কলিজায় ধানের প্রতি দরদ ছলকাতে হবে। ধানসহ কৃষি উৎপাদন নিয়ে চলমান সংকট সুরাহায় রাষ্ট্রের প্রশ্নহীন ঘুম ভাঙতে হবে। রাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ধানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৪.
মনে আছে, সেই যে গণি মিয়া ছিল একজন গরিব চাষী। নিজের জমি ছিল না বলে পরের জমি চাষ করতো। গণি মিয়ারই ছেলে মিল্লাত আলী। গণি মিয়ার কাছ থেকে মিল্লাত আলী শুনেছেন বরেন্দ্র অঞ্চলে ধানের আবাদ হয়নি বলে অনেক আকাল হয়েছিল। বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৮৭১ সালে মোটা চালের মূল্য ছিল এক হন্দরের জন্য ৫ শিলিং ৭.৫ পেন্স (১০ টাকায় এক পাউন্ড)। ১৮৫৪ সালে চালের মূল্য ঐ দরের অর্ধেক ছিল। ১৮৬৬ সালে দুর্যোগের ফলে ফসল নষ্ট হওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলে দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তখন চালের মূল্য প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়। ১৮৭৪ সালে আবার বরেন্দ্র অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ১৮৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর চালের দাম এক টাকয় ১২ সেরে স্থায়ী থাকে কিছুকাল। সাম্প্রতিক সময়ে হাওরাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলে ধানের জমিন সব তলিয়ে যাওয়ার পরও চালের দাম বেড়ে গিয়েছিল। ধান এখনও আমাদের গ্রামীণ সমাজের বেঁচে থাকার কেন্দ্রবিন্দু। ধানের ফলন বিপর্যয় বা ধান থেকে কৃষকের উদ্বাস্তুকরণ কোনোভাবেই কোনো শুভলক্ষণ নয়। এটি বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় এক নয়া সংকট ও সন্ধিক্ষণকে চিহ্নিত করছে। একে সার্বিকভাবে আমলে নেয়া জরুরি। দেশের প্রতিজন নাগরিককেই ধানের এই চলমান যন্ত্রণা বোঝা জরুরি।
৫.
ফসল আবাদ ও উত্তোলন মওসুমে বছর বছর কৃষক সংকট দেখা দিচ্ছে। বলা হচ্ছে ‘শ্রমিক সংকট’। কেন হচ্ছে? এই দেশে তো কৃষি গড়ে ওঠেছে পরিবারের যৌথ কাজের এক সমন্বিত রূপ হিসেবে। কিন্তু গ্রামীণ সেই যৌথ পরিবার ও কৃষিজমি গুলো ভেঙেচুরে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। এখন কেবল কৃষিকাজ নয়, গ্রামীণ মানুষ যুক্ত হচ্ছে নানামুখী আয়মূলককাজে। মেয়েরা চলে যাচ্ছে গার্মেন্টসে, পুরুষদের অভিবাসন ঘটছে বড় শহরগুলোতে। গ্রামের কৃষিকাজ ধরে রাখছেন মুলত পরিবারের প্রবীণজন আর শিশুরা। কৃষি মওসুমে তাই পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাওয়া যাচ্ছে না। কে তাহলে বুনবে বীজ, কারা তুলবে ঘরে ফসল? এ বছর ফসল কাটার মওসুমে কৃষক সংকট তীব্র হওয়ায় জেলা প্রশাসক থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী তরুণ থেকে সাংস্কৃতিককর্মী অনেক ‘অকৃষক’ মানুষই জমিনে নেমেছেন। কিন্তু এভাবে তো এই সংকট সুরাহা হবে না। হওয়ার কথাও নয়। মানছি দেশ এক উন্নয়নের ক্রান্তিকালের যাত্রায় আছে। এই ক্রান্তিকালে নিদারুণ সংকটে পড়েছে দেশের কৃষি। রাষ্ট্রকে এখই মজবুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামীর কৃষির চেহারা বিষয়ে। অবহেলা অনাদর নয় বা কেবলমাত্র গ্রামীণ কিছু কৃষক পরিবারের উপর দেশের কৃষির যাবতীয় দায়ভার না চাপিয়ে রেখে দেশের সকলকেই কৃষি সংকট মোকাবেলায় অগ্রণী হওয়া জরুরি। আর এখনি। লেখক: গবেষক, প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ

ডিসি এসপির নিন্দা: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এমপি রবির সন্ত্রাসীদের হামলা, সভাপতি সম্পাদকসহ ১০ সিনিয়র সাংবাদিক আহত

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এমপি রবির সন্ত্রাসীদের হামলায় সভাপতি সম্পাদকসহ ১০ সিনিয়র সাংবাদিক আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে শতাধিক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা বর্ষীয়ান সাংবাদিকদের কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে কিলচড় ঘুষি মারতে মারতে হামলা চালায়।

লাঠিসোটা হকিস্টিক লোহার রডসহ ঘন্টাব্যাপী হামলায় প্রেসক্লাব সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদসহ ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বাইরে বহু সংখ্যক দাগী সন্ত্রাসী মাদকসেবী ও চোরাচালানিকে মহড়া দিতে দেখা গেছে। এছাড়া সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির দুই ভাই মীর মাহমুদ হাসান লাকি ও মাহি আলমকেও ওই সন্ত্রাসীদের সাথে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান দুপুর ১২ টার দিকে শতাধিক সন্ত্রাসী বীরদর্পে প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে হৈ হুল্লোড় করতে করতে প্রথমেই সিসিটিভি ক্যামেরার কানেকশন টেনে ছিড়ে ফেলে। এরপরই তারা লাটিসোটা লোহার রড নিয়ে হামলা করে তাদের মারধর করতে থাকে। সাংবাদিকরা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করার পরও বারবার টেলিফোন পেয়েও মাত্র ১০০ গজ দুরে থাকা সাতক্ষীরা থানা পুলিশ আসতে দেরি করে ফেলে। ততক্ষনে রক্তাক্ত অবস্থায় সাংবাদিকরা আহাজারি করতে থাকেন। ঘটনার সময় বিএনপি নেতা কেএম আনিসুর রহমান ওসির সামনে বসে এই হামলা মনিটরিং করছিলেন বলে জানা গেছে।
সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় আহত হন দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাতবারের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি প্রেসক্লাবের সাবেক পাঁচবারের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি মমতাজ আহমেদ বাপী, মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আবদুল জলিল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাতবারের সাধারন সম্পাদক আবদুল বারীসহ ১০ জন সিনিয়র সাংবাদিক।
এদিকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল , পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান , ওসি মোন্তাফিজুর রহমান এবং উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা প্রেসক্লাবে আসেন। তারা এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন একটি মহল সাতক্ষীরায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়। তারাই নেপথ্যে থেকে ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার অভিন্ন ভাষায় বলেন ‘ সাতক্ষীরার মত শান্ত জেলাকে যারা অশান্ত করে ফায়দা লুটতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে’। তারা বলেন সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রেসক্লাবে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া আক্রান্ত সাংবাদিকরা মামলা করলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রেসক্লাবে কেবলমাত্র সাধারণ ভোটার সদস্য ও সহযোগী সদস্য ছাড়া আর কেউ বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে পুলিশ ঘোষনা দিয়েছে।
এদিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সকল কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সব সাংবাদিক। তারা বলেন ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই প্রথম রক্তপাতের ঘটনা ঘটলো। সাধারন সাংবাদিকরা হামলাকারী ও হামলার নেপথ্য গডফাদারদের চিহ্নিত করেছেন দাবি করে বলেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে যেসব সাংবাদিক এই হামলার সাথে জড়িত তারাও রক্ষা পাবে না বলে জানানো হয়। আজ শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে প্রেসক্লাব।

উল্লেখ্য গত ২০ মার্চ অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব। এ ঘটনার আড়াই মাস পর গত বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। এর মাত্র কয়েক ঘন্টা পর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলো।

সদর উপজেলা এলজিইডি অফিসে টেন্ডার ছাড়াই সেই দেড় কোটি টাকার কার্যাদেশ নিয়ে এবার নতুন আয়োজন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৩০টি প্রাইমারী স্কুলের সংস্কার কাজে বিনা টেন্ডারে প্রায় দেড় কোটি টাকার কার্যাদেশ দেয়ার ঘটনায় খবর প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার শহরব্যাপী ছিল এনিয়ে মুখোরচক খবর। অবশেষে কর্তৃপক্ষ দৌড় ঝাপ করে এবার পুনরায় টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আয়োজন চলছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিগত কাজ পাওয়া ঠিকাদার ও তাদের পক্ষের কিছু পদস্থ কর্মকর্তা এক রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থাকা চামচাদের নিয়ে এ আয়োজন চলছে। ইতোমধ্যে কিছু কাজ আংশিক ও কিছু কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ায় একটু বেকায়দায়ও আছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিগত টেন্ডারের সময় এলজিইডি সদর উপজেলার উপ-সহকারি প্রকৌশলী জাহানারা খাতুন ও হিসাবরক্ষণ কর্মচারি কাজী আরিফ্জ্জুামানের নেতৃত্বে সদর উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আলম বিগত দিনে কার্যাদেশ প্রদত্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোর নিকট হতে টেন্ডার সিকিউরিটির কোন পে-অর্ডার বা স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পাদন ছাড়াই কার্যাদেশ প্রদান কারেন। এখন অবস্থা বেগতিক দেখে বিগত তারিখ দেখিয়ে এসব কাগজপত্র সম্পন্ন করার আয়োজন চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডি সদর উপজেলা অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মচারি কাজী আরিফুজ্জামান নিজেই এক রাজনৈতিক নেতার বাসায় যেয়ে এসব অকাজের দফারফা করে থাকেন। এছাড়াও ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ৪জন ব্যক্তির নিকট থেকে ৩০টি কার্যাদেশ প্রদানের জন্য ২০ লাখেরও অধিক টাকা গ্রহণ করেন। একই সাথে এই টাকার অংশ বিশেষ পৌছে দেন ওই রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে। ফলে অফিসের প্রকৌশলী জানান, উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি টেন্ডার ছাড়াই কার্যাদেশ প্রদান করেছেন।
এদিকে হিসাবরক্ষণ কর্মচারি কাজী আরিফুজ্জামান, উপ-সহকারি প্রকৌশলী জাহানারা খাতুন দুজনে মিলেই নানা অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। ঠিকাদারদের বিল দেয়া, চুক্তিপত্র তৈরি করা, বিভিন্ন ভূয়া ভাউচারে বিল তৈরি করাসহ নানাভাবে সারাদিন অফিসে বসে শুধু কালেকশান আর কালেকশান। পাশাপাশি উপ-সহকারি প্রকৌশলী জাহানারা খাতুন এক দশকের অধিক সময় সদর উপজেলা এলজিইডি অফিসে চাকুরি করছেন। সরকারের সকল নিয়ম কানুন উপেক্ষা করে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে বহালতবিয়াতে এভাবে চাকুরি করে যাওয়ায় তিনি এখন আরও বেপরোয়া। কথায় কথায় ঠিকাদারদের হুমকী দিয়ে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিল আটকে দেবো এবং কাজের সাইডে যেয়ে নানাভাবে হয়রানির ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন। ভয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোর স্বত্তাধিকারিরা মুখ খুলতে সাহস পায়না।