খোশ আমদেদ মাহে রমজান


প্রকাশিত : মে ১৪, ২০১৯ ||

সাখাওয়াত উল্যাহ: আজ বুধবার ৯ রমজান। আল্লাহ সুবহানাহুওতালার অশেষ মেহেরবাণিতে আমরা প্রচন্ড তাপদাহের মধ্যেও সিয়াম পালন করে চলেছি। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বলেন, তোমরা নামাজ কায়েম কর এবং জাকাত আদায় কর। যেহেতু রমজান মাসে দান করলে অন্য মাসের তুলনায় ৭০ গুন বেশি সওয়াব পাওয়া যায় সেহেতু সম্পদশালীরা রমজান মাসেই জাকাত প্রদান করে থাকেন।
এ প্রসঙ্গে নবী কারীম (সা.) বলেছেন, হযরত সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, শাবান মাসের শেষে দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের উদ্দেশে বক্তৃতা দিলেন।তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি রমযানে একটি ভাল কাজ করল, সে যেন অন্য সময়ে একটি ফরয আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে ৭০ টি ফরয আদায় করল। রমযানুল মুবারকে যাকাত আদায় করলে অবশ্যই ৭০ গুণ ফরয আদায়ের সাওয়াব অর্জিত হবে। কাজেই মাহে রমযানকে বছরের যাকাত আদায়ের মাস হিসাবে নির্ধারণ করা অত্যধিক লাভজনক এবং উপকারী। রমযান মাসে যাকাত আদায়ের ফযীলত অনেক বেশি।
যাকাত শব্দের অর্থ ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: ‘যাকাত’ শব্দটি আরবী। এর অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া, পবিত্রতা অর্জন করা, বরকত লাভ করা। আল-কামূসুল-ফিক্হ অভিধান গ্রন্থে শব্দটির পাঁচটি অর্থ লেখা হয়েছে। যথা :
১.বরকত লাভ করা এবং বৃদ্ধি পাওয়া।
২.কোনো বস্তুকে পরিষ্কার করা।
৩.পবিত্রতা লাভ করা।
৪.প্রশংসা করা।
৫.উপযুক্ত করা।
যাকাতের মাধ্যমে মালের মধ্যে বরকত লাভ হয়, মাল বৃদ্ধি হয় পায়, এবং পবিত্রও হয়। যাকাত আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর নিকট প্রশংসিত হয় এবং অবশিষ্ট সম্পদ উত্তম সম্পদে পরিণত হয়। পবিত্র কুরআন মাজীদে ৮২ বার শব্দটি নামাযের আলোচনার সাথে উল্লেখ রয়েছে। ইসলামের সবচেয়ে বড় সেবামূলক পদক্ষেপ হলো দরিদ্র বিমোচন, সমাজে ভিক্ষার হাত কমিয়ে ফেলা, গ্রহণের চেয়ে দানের হাত তৈরি করা, অসচ্ছল, অনাথ, দুস্থ-নি:স্ব, সর্বস্বান্ত, বুভুক্ষু, গীরব, মিসকিন, আঁতুড়, দরিদ্রজনকে দানের মাধ্যমে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। সকলের জানা আছে যে, অর্থই হলো সকল অনর্থের মূল। অর্থাভাব চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই এবং সন্ত্রাসকে জন্ম দেয়। এতে শান্তি বিঘিœত হয়, গোটা সামাজ এবং রাষ্ট্র অশান্তির কবলে পড়ে। সামাজ এবং রাষ্ট্র শান্তির প্রধান সোপান হলো দেশের প্রত্যেকটি মানুষের আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া।
আমাদের মুসলিম সমাজে ‘মালেকে নিসাব’ হওয়ার সঠিক পরিমাপক নির্ধারণ করা সম্ভব হলে দাতার তুলনায় গ্রহীতার সংখ্যা কম হবে। সকল দাতা গীরব, মিসকীন এবং দুঃখী মানুষের প্রতি ফরয ইবাদত যাকাত প্রদানের বিষয়ে সজাগ যে কোন দেশ থেকে দারিদ্র বিমোচন করা অতি সহজ হবে। কিন্তু কে এই উদ্যোগ নেবে? মূলত সরকারই এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল। নবী করীম বলেছেন, ধনীদের থেকে অদায় করা হবে এবং দারিদ্র-ফকিরদের মাধে তা বন্টন করা হবে।