স্বামী ও সতিনের ছেলের অত্যাচারে বিষ খেতে বাধ্য হলো কালিঞ্চীর আনোয়ারা


প্রকাশিত : মে ১৮, ২০১৯ ||

রমজাননগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চী গ্রামে রহস্যজনকভাবে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থালে গিয়ে জানাগেছে, রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চী গ্রামের মৃত্যু মোসলেম গাজীর বড় কন্যা ছফুরা বেগমের সাথে একই এলাকার হাবিবুর রহমান ওরফে হাইবার সাথে বিয়ে হয়। তাদের ঔরসে একটি ছেলে সন্তান হয়। দীর্ঘ বছর যাবত সংসার করার পর ছফুরা বেগম হাবিবুরকে ছেড়ে স্থানীয় কামাল নামের এক ব্যক্তির সাথে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। ছফুরার এমন কান্ড দেখে তার ভাইয়েরা তার ছোট বোন আনোয়ারা ওরফে আনুর সাথে হাবিবুরে দ্বিতীয় বিয়ে দেয়। পরে হাবিবুরে তার পুত্র সুহবানকে ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের আজিয়ার গাজীর কন্যা মমতাজের সাথে বিয়ে দেয়। বেশ সুখে শান্তিতে ছিলো পরিবারের সবাই। গত কয়েক মাস ধরে হাবিবুর তার প্রথম স্ত্রী ছফুরার সাথে ফোন আলাপ চলে এবং ছফুরা আনোয়ারাকে তাড়িয়ে নিজের সংসারে ফিরবে। শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন ষড়যন্ত্র। আনোয়ারার কোন সন্তানাদি না থাকার ফলে বিভিন্ন সময়ে পিতা, পুত্র এবং বৌমা মিলে আনোয়ারার উপর অত্যাচার শুরু করে। সময় মত খেতে না দেওয়া, মারধর, নদীতে জাল টেনে মাছ বিক্রয়ের টাকা চুরিসহ বিভিন্ন মানবিক, শাররীক অত্যাচার করে আসছিল। আনোয়ার ধৈর্য্য ধরতে না পেরে স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের সোহারাব মেম্বারের নিকট বিচার জানায়। ঐ বিচারে সোহারাব মেম্বার জানিয়ে দেয়ে আনোয়ারাকে ছেড়ে দিতে হলে আনোয়ারাকে ৪৫ হাজার টাকা এবং একটি ভিটা দিতে হবে। না হলে ১৫ হাজার টাকা, একটি ঘর, একটি ভিটা দিতে হবে। হাবিবুর আনোয়ারাকে ১৫ হাজার টাকা, একটি ঘর, একটি ভিটা দিতে রাজি হয় এবং ১০ দিন সময় নেয়। ৮ দিন যেতে না যেতেই আনোয়ারার মৃত্যু ঘটে। ৯নং ওয়ার্ডের সোহারাব মেম্বার জানান আমি সমাধানের অনেক চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু হলো না। আনোয়ারার মৃত্যু অনেক শোকের। তবে কি ভাবে এই মৃত্যু ঘটলো? কেউ বলছে আনোয়ারা বিষ খেয়েছে, কেউ বলছে আনোয়ারা গুল খেয়ে স্ট্যোক করেছে, আবার কেউ বলছে তাকে পিটিয়ে মেরে মুখে বিষ ঢেলা হয়েছে। প্রতিবেশী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মহিলা জানান, আনোয়ারা একজন ভাল মহিলা ছিল। তার রেখে যাওয়া একটি নৌকা যার মূল্য ২০ হাজার টাকা, নদীতে জাল টেনে প্রায় লক্ষাধীক টাকা তার কাছে ছিলো। গত ১৬ মে ২০১৯ রাতে আনোয়ারাকে হাবিবুর, সোহবান তার স্ত্রী মমতাজ মিরে বেদম মারপিট করে। পরের দিন ১৬ মে ২০১৯ তারিখ, সকাল ১০ টার দিকে বাড়িতে হাকচিৎকারের শব্দ হয়। পরে হাবিবুর জানায় আনোয়ারা বিষ খেয়েছে। আনোয়ারাকে নিয়ে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়ীত্বরত ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। হাবিবুর ও তার পুত্র সোহবান সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের নাম করে লাশ নিয়ে সোজা বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। হাবিবুর ও তার পুত্র সোহবান লুকিয়ে পড়ে এবং সোহবান তার স্ত্রী মমতাজকে পালানোর কথা বলে। মমতাজ পালানোর সময়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ একটি ঘরে আটকে রাখে। পরে চারিদিকে জানাজানি হলে বর্তমান ইউপি চেয়াম্যান ও সাবেক ইউপি চেয়াম্যান থানাকে অবগত করলে এসআই রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যায়। শ্যামনগর থানার ওসি হাবিল হোসেন জানান, লাশ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। রির্পোট দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।