কলারোয়ায় সাবেক ছাত্রনেতার হাতের ৪টি আঙুল কেটে নিলো শীর্ষ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ


প্রকাশিত : মে ১৮, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় পরপর দু’দফা হামলা চালিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম তুষার হোসেনের হাতের ৪টি আঙুল কেটে নিলো প্রতিপক্ষ। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে সাতক্ষীরা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। শনিবার (১৮মে) দুপুরে লোমহর্ষক এ ঘটনা ঘটে। তুষার (৩০) উপজেলার পাটলি গ্রামের মুনছুর আলী গাজীর পুত্র। বর্তমানে কলারোয়া বাসস্ট্যান্ডে ‘তুষার ইলেকট্রনিক্স’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।
জমি দখল সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির শীর্ষ কয়েক নেতা সরাসরি এ হামলা চালিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে বেলা দেড়টার দিকে বাসস্ট্যান্ডস্থ বিশ্বাস মার্কেটের সামনে উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান নাইসের নেতৃত্বে ৫/৭জন যুবক এলোপাতারিবাবে তুষারকে মারপিট করে। পরে তুষার চিকিৎসার জন্য কলারোয়া হাসপাতালে গেলে বেলা ২টার দিকে হাসপাতাল চত্বরেই আবারো উপস্থিত কতিপয় যুবকদের হামলায় শিকার হন তুষার। সেসময় দূর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান হাতে কোপ দিলে হাতের কবজির নিজে তালু থেকে ৪টি আঙুল পরিপূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হামলাকারীরা হাসপাতালের পাচিল টপকে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহতাবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তুষারকে সাতক্ষীরা হাসপাতালে নেয়া হয়।
কলারোয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.শফিকুল ইসলাম জানান বেলা ২টার একটু আগে সামান্য আহতাবস্থায় ওই যুবক হাসপাতালে এসে ভর্তি হওয়ার জন্য টিকিট সংগ্রহ করে দ্বিতীয় তলায় ওয়ার্ডে ওঠার সময় হাসপাতালের গোলচত্বরের সামনে কতিপয় যুবকদের হামলার শিকার হন। এতে তার ডান হাতের তালু থেকে ৪টি আঙুল সম্পূর্ণ বিচ্চিন্ন হয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরায় রেফার্ড করা হয়েছে।
কলারোয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান এ ঘটনায় আহত তুষারের চাচা আবু সিদ্দিক বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দয়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আহত তুষারের পিতা মুনছুর গাজী জানান পাটুরিয়া গ্রামে ৩৩ শতক জমি নিয়ে আমাদের সাথে বিরোধ চলছিল জনৈক মন্টুদের সাথে। এরই জের ধরে দুপুরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান নাইসের নেতৃত্বে মন্টু, পলাশ, বাবু, জুয়েলসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীরা তুষারকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পিটিয়ে আহত করে। পরে হাসপাতাল চত্বরে রামদাঁ দিয়ে তার ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে দিয়েছে।
তিনি আরো জানান গুরুতর আহত অবস্থায় তুষারকে উদ্ধার করে প্রথমে কলারোয়া এরপর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এবিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান নাইস জানান একটি জমি ক্রয় ও বিক্রয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো উপজেলার পাটলিয়া গ্রামের মুনসুর আলী গাজীর ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জিএম তুষারের সাথে। এই নিয়ে বেলা ১টার দিকে কলারোয়া ইসলামী ব্যাংকের সামনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তুষার ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে কথা কাটিকাটি ও মারপিট হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ২/৩ জন সামান্য আহত হয়। পরে ছাত্রলীগ নেতা তুষার বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশকে অবগতি করে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। এ খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী বেলা দেড়টার দিকে সেখানে উপস্থিত হন। হাসপাতালের সামনে দাড়িয়ে থাকা তুষারের সাথে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা কথা বলতেই হঠাৎ লোহাকুড়া গ্রামের বাবু তার কাছে থাকা দা দিয়ে তুষারকে কোপ দেয়। এতে সে হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তার ডান হাত কেটে যায়। বাবু ছাত্রলীগের কেউ নয়। সে জামায়াত পরিবারের সদস্য। সে বিষয়টি ঘোলাটে করতে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে তার ধারণা।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাগর হোসেন জানান একটি গ্রুপ ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তুষারের মারপিটের সময় তিনি হাসপাতালের বাহিরে ছিলেন।