নির্মাণ কাজ শেষের অপেক্ষায় বাইপাস সড়ক


প্রকাশিত : মে ২০, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বপ্নের বাইপাস সড়কের দ্বার উন্মোচন এখন সময়ের ব্যাপার। ইতোমধ্যে সড়কটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে আগামী জুনে। যদিও সড়কটির মূল নকশা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। ইতোপূর্বে সড়কটির মূল নকশা পরিবর্তন করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের বুকের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হলে জেলার রাজনীতিক ও সুশীল সমাজের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জেলার কথিত গডফাডাদের সন্তুষ্ট করে একটি বিশেষ মহল এ সড়কের মূল নকশা পরিবর্তন করে বলে জানা যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে সাতক্ষীরায় বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল জব্বারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সড়কটি নির্মাণে নতুন করে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর শুরু হয় কার্যক্রম। কিন্তু মূল নকশা পরিবর্তনে মরিয়া হয়ে ওঠে ভূমিদস্যু গডফাদার চক্র। শেষ পর্যন্ত ভোমরা সড়কের সাথে না মিশে সড়কটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের বুকের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়। বর্তমানে সাতক্ষীরার নাগরিক সমাজের দাবী রয়েছে সড়কটি নির্মাণের পূর্ণ সুফল পেতে মেডিকেল কলেজ অংশটি লিংক রোড় হিসেবে রেখে মূল সড়কটি আলিপুর চেকপোস্ট পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার।
এরফলে সড়কটি নির্মাণের ফলে শহরের যানজট ও শব্দদূষণ হ্রাস পাবে। যাতায়াত ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে যোগ হবে নতুন মাত্রা। পরিকল্পিত নগরায়নেও এ সড়ক মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে বলে অনেকের প্রত্যাশা। পরিবহন সেক্টরে গতি বাড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে খুলে যাবে সম্ভানার নতুন দরজা। ভোমরা বন্দরে অর্থনীতির চাকা আরও সচল হবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সূত্রমতে জানা গেছে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে বাইপাস সড়কের কাজ প্রায় সমাপ্ত পথে। সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল হোসেন জানান, জমি অধিগ্রহণ ও মাটির কাজ বাদে ৮৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ব্যয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হতে বিনেরপোতা পর্যন্ত সাড়ে ১২ কিলোমিটার একটি নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই বাইপাস সড়কের ৩৬টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী জুনের ২৪ তারিখের মধ্যে এ বাইপাস সড়কের কাজ শেষ হবে। চলতি মাসের অথবা জুনের মধ্যে এ সড়ক উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করছেন তিনি।