খোশ আমদেদ মাহে রমজান


প্রকাশিত : মে ২০, ২০১৯ ||

সাখাওয়াতউল্যাহ : আজ মঙ্গলবার, পবিত্র মাহে রমজানের ১৫তম দিন। এই সেই মাস যে মাসে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে মানুষের সুপথ দেখানোর জন্য। পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে যার প্রথম শব্দ ইকরা অর্থাৎ পড়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি উত্তম, যিনি নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়। বর্তমানে আমরা মাহে রমজানের মাঝামাঝিতে অবস্থান করছি, এখনো যদি কুরআন পড়ার অভ্যাস না করে থাকি, তবে আজই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। কুরআন পড়বো। আজ এবং এখন থেকেই। গতকাল যাকাত প্রসঙ্গে কিছু কথা বলার চেষ্টা করেছি। আজও সামান্য কিছু কথা-
যে সব সম্পদের যাকাত ফরয
কয়েক প্রকার সম্পদের যাকাত আদায় করা ফরয, সেগুলো-
(১) ৭.৫ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ
অথবা ৫২.৫ তোলা বা ৬১২.৫৩ গ্রাম রৌপ্য
অথবা তার সমপরিমান সম্পাদ ১ বৎসর পর্যন্ত মালিকানায় থাকলে।
(২) উট-গরু-ছাগল।
উট কমপক্ষে ৫টি হলে,
গরু ৩০টি হলে,
ছাগল বা ভেড়া ৪০টি হলে যাকাত ফরয হয়।
৩। উৎপাদিত ফসল। যেমন: গম, যব, ছোলা, চাল, ডাল, খেজুর, আঙ্গুর, যায়তুন ইত্যাদি। কম হোক বা বেশি হোক যাকাত দেয়া ওয়াজিব।
উল্লেখ যে, সম্পদের মূল্যের ২.৫% হিসাবে যাকাত দিতে হবে।
যাকাত আদায়ের উদ্দেশ্য: যাকাত আদায় করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি লাভ করা। বিশেষথ: সম্পদ ও সম্পাদের মালিককে যাকাতের মাধ্যমে পবিত্র করা, বরকতময় করা এবং আখেরাতে যাকাত আদায় না করার সাজা হতে মুক্তি লাভ করা। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে যাকাত দাতা বা ধন সম্পদের মালিকের হৃদয় মন পবিত্র হয়ে যায়। পবিত্র হয় যাকাত দাতার চরিত্র। বিদূরিত হয় তার কার্পণ্য স্বভাব।
যাকাতের ব্যয়ের খাতসমূহ: যাকাত সকলকে দেওয়া যায় না। আট শ্রেনীর লোককে যাকাত দেওয়া প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ জাল্লা শানুহু সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি বলেন-
অর্থ: এ সদকা(যাকাত) তো ফকির – মিসকিনদের জন্য, তাদের জন্য যারা সদাকার কাজের জন্য নিয়োজিত, তাদের জন্য যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋনগ্রস্থদের জন্য আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য আল্লাহ তা-আলা পক্ষ থেকে বিধান এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। (সুরা আত তাওবাহ, ৬০)