কালবৈশাখী ঝড়ে পড়ে যাওয়া রামচন্দ্রপুরের ঐতিহ্যবাহী বটগাছটি অপসারণ দাবি


প্রকাশিত : May 21, 2019 ||

পত্রদূত ডেস্ক: সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বটগাছটি সম্প্রতি ১৪ মে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে মাটিতে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ছায়া দেওয়া রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাঁ ঘেষে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বটগাছটি এখন স্কুলের ছাদসহ খেলার মাঠ জুড়ে পড়ে আছে। স্কুলের ছাদের উপর বটগাছটি পড়ার কারণে শ্রেণিকক্ষের একপাশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি পুরাতন শ্রেণিকক্ষ একেবারে ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় ফাটল ধরেছে। এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, এই বটগাছটি বহু ইতিহাসের স্বাক্ষী, বটগাছটি ঘিরে আছে অত্র এলাকার নানান ধরনের মানুষের সুখ-দুঃখের ইতিহাস বিরচিত। ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মাস্টার জানান, বিশাল আকৃতির এই বটবৃক্ষের ছায়ায় এলাকার কৃষকশ্রেণি থেকে শুরু করে বয়ো:বৃদ্ধ, যুবক, শিশু-কিশোর ও স্কুল পড়–য়া ছেলে-মেয়েদের খেলা-ধুলাসহ ক্লান্ত পথচারীদের বিশ্রাম নেওয়ার প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল ছিলো বটগাছটি। অনেক মঞ্চ-নাটক, টিভি-নাটক ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো গাছটি। কিন্তু গত ১৪ মে কাল বৈশাখী ঝড়ে গাছটি ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। যার ফলে এলাকাবাসী হারিয়েছে তাদের প্রাকৃতিক বিশ্রামাগার। মন না চাইলেও বটগাছটি অপসারণ করা এখন জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, আমি ইউএনও অফিসে জানিয়েছি এবং খুব দ্রুত গাছটি অপসারণসহ বিদ্যালয়ের ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন বলে জানিয়েছেন। এলাকার কোমলমতি শিশুরা মন খুলে খেলতে পারছে না বিদ্যালয়ের মাঠে। গ্রীষ্মের ছুটি থাকায় বিদ্যালয়ের কার্য্যক্রম বন্ধ আছে তবে সুধীজনেরা মনে করেন বিদ্যালয় চালু হওয়ার আগেই বটগাছটি অপসারণ না করা হলে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটানাও ঘটতে পারে। তাই এলাকাবাসী যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বটগাছটি দ্রুত অপসারণসহ পূণরায় বটগাছটির ঐতিহ্যস্বরূপ আর একটি বটগাছের চারা রোপন করার জোর দাবি জানান।