দেবহাটার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীর পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : মে ২২, ২০১৯ ||

দেবহাটা সংবাদদাতা: দেবহাটার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীর পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরত পেতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে দেবহাটায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক এক কর্মচারী চাঁদপুর গ্রামের মৃত শেখ নজীর আলী পুত্র আকবার আলী (৬৫) দেবহাটা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় লিখিত বক্তব্যে আকবার আলী বলেন, আমি দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে এমএলএসএস হিসেবে দীর্ঘদিন সুমামের সাথে চাকরী করে অবসরে গিয়েছি। আমি এমএলএসএস হয়েও জন্ম নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী পদ্ধতিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সরকারিভাবে বারবার পুরস্কৃত হয়েছি। দীর্ঘ চাকরি জীবন শেষে আমার শেষ সম্বল পেনশনের টাকা উঠানোর জন্য কাগজপত্র প্রস্তুত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপরেটর তানভীরের নিকট গেলে তিনি নৈশ প্রহরী আনিছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। আনিছুর নৈশ প্রহরী হলেও অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালন করেন। আমি আনিছুর রহমানের কাছে গেলে সকল কাগজপত্র ঠিক করতে প্রথমে ১২,০০০ টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে একের পর এক হয়রানী করতে থাকে। অবশেষে পেনসনের টাকা পেতে ৯,০০০ টাকা নৈশ প্রহরী আনিছুরকে দেই। তার কিছুদিন পরে আমার পেনশনের টাকা চলে আসে। কিন্তু তানভীর এবং আনিছুর দীর্ঘদিন আমাকে টাকা না দিয়ে ঘোরাতে থাকে। তারা আমাকে পূর্বের ৩ হাজার এবং অতিরিক্ত আরো ১ লক্ষ টাকার ঘুষ দাবি করে। আমার সোনালী ব্যাংক, দেবহাটা শাখার ৪৩৭৯ নং হিসাব নম্বরে মূল পেনশন ১৬ লক্ষ ১ শত ১০ টাকা আসে। আমার একাউন্টের চেক নিয়ে তারা টাকা তুলে ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা কেটে নিয়ে বাকি ১৪ লক্ষ ৯৭ হাজার ১শত ১০ টাকা আমাকে দিয়ে দেয়। বিষয়টি আমি অফিসের কর্মচারীদের জানালে স্থানীয় এক ব্যক্তির উপস্থিতিতে গত ২৫ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে আনিছুর ও তানভির আমাকে অফিসে ডেকে ৫০,০০০ টাকা ফেরৎ দেয় এবং তার ২দিন পরে আরো বিশ হাজার টাকা ফেরৎ দেয়। আমি তানভির ও আনিছুরের কাছে এখনো অবশিষ্ঠ ৪২ হাজার টাকা পায়। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তারা আমার বাড়িতে যেয়ে হুমকি দেয় এবং আর কোন টাকা ফেরৎ দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি আমি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. রনজিত কুমার রায়ের কাছে বলি এবং কান্নাকাটি করি। তখন তিনিও কোন কর্ণপাত না করে আমাকে অফিস থেকে বাহির করে দেয়। ঐ দুই কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন দুর্নীতি-অনিয়ম করে আসছে। তাই বর্তমান জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করছি বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। যাতে আমার অবশিষ্ঠ ৪২ হাজার টাকা ফেরৎ পেতে পারি এবং ঐ দুর্নীতি পরায়ন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।