ঝাউডাঙ্গায় পাথরঘাটা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অভিনব প্রতারণা ঈদ বোনাসের নামে দুই শিক্ষিকার স্বাক্ষর নিয়ে দিলেন অব্যাহতিপত্র!


প্রকাশিত : মে ২৫, ২০১৯ ||

মনিরুল ইসলাম মনি: সকালে ঈদ বোনাসের টাকা দেয়ার নামে কাগছে স্বাক্ষর দিয়ে দুপুরে অব্যাহতিপত্র পেলেন রৌফন আরা পারুল ও তপতী ঘোষ নামে দুই স্কুল শিক্ষিকা। গত ১১ মে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের পাথরঘাটা প্রি-ক্যাডেট স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এ প্রতারণা ও স্কুলের পরিচালকের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ঠ উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রতারণার শিকার (অব্যহতি পাওয়া) দুই স্কুল শিক্ষিকা।
জানা গেছে, অব্যাহতি পাওয়া সহকারি শিক্ষক রৌফন আরা পারুল ২০০৭ সাল ও তপতী ঘোষ ২০১১ সাল থেকে পাথরঘাটা প্রি ক্যাডেট স্কুলে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রতারণার শিকার সহকারি শিক্ষিকা রৌফন আরা পারুল ও তপতী ঘোষ জানান, প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক আমেরিকা প্রবাসী হওয়ায় স্কুলের সকল দায়িত্ব পালন করেন প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম শিপলু। তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে চাকরি বাণিজ্য, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজন-প্রীতিসহ স্কুলের অর্থ আতœসাতের অভিযোগ রয়েছে। তিনি পরিচালকের নিকটতম হওয়ায় কেউ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। রৌফন আরা অভিযোগ করে বলেন, আমি দীর্ঘ ১১/১২ বছর স্কুলে ২২শত টাকা বেতনে শিক্ষকতা করে আসছি। এছাড়া তপতী ঘোষও ৭বছর একই বেতনে চাকরি করছিলেন। গত ১১ মে সকালে সু-চতুর প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম ঈদের বোনাস দেয়ার জন্য একটি কাগছে স্বাক্ষর দিতে বলেন। পরে তারা দুইজনেই উক্ত কাগছে স্বাক্সও করেন। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, দুপুরে প্রতারক প্রধান শিক্ষক আমাদের হাতে কর্ম হতে অব্যহতি পত্র ধরিয়ে দেন। এসময় প্রধান শিক্ষকের কাছে কি কারনে অব্যহতি দেয়া হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী কমে যাওয়ায় পরিচালক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তিনি তো আপনাদের চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। এসময় তিনি আরো বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেলে পরিচালক মহোদয়কে আমি আপনাদের পুনরায় নিয়োগের বিষয়ে বলবো। এখন আমার কিছুই করার নেই বলে তিনি স্কুল থেকে বেরিয়ে যান।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের এক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক তার পরিচিত দুই মহিলাকে মাসিক এক হাজার টাকা বেতনে সহকারি শিক্ষক হিসেবে চাকরী দিবেন। সেকারনে ভাল দুই শিক্ষিকাকে প্রতারণার মাধ্যমে স্কুল থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্কুলের পরিচালক দেশে না আসায় কর্মরত শিক্ষকরা কিছুই বলতে পারছে না।
জানতে চাইলে পাথরঘাটা প্রি ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম শিপলু জানান, পরিচালক যে ভাবে চাইবেন সে ভাবেই স্কুল পরিচালিত হবে। এ সব বিষয়ে আমার কিছুই করার নেই। তবে বোনাস দেয়ার নামে কাগছে স্বাক্ষর করার বিষয়ে বলেন, উনারা দীর্ঘদিন স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। হঠাৎ শুনলে কষ্ট পেতে পারে সে জন্য সরাসরি না বলে একটু কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। এ দিকে অব্যাহতি পত্রে পরিচালক আমেরিকাতে অবস্থান করে কিভাবে নির্দিষ্ট তারিখ ও নিজ হাতে স্বাক্ষর করলেন বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ভাই, এসব নিয়ে কিছু লেখার দরকার নেই। আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই।
স্কুলের পরিচালক মো. আহছানুল ইসলাম শিমুল (আমেরিকা প্রবাসী) যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে পাথরঘাটা গ্রামে তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা কিছুই জানি না এছাড়া এ বিষয়ে পরিচালক আহছানুল হক শিপলুও কিছুই জানে না। তারা দাবি করে বলেন, সে জানলে বিষয়টি বাড়িতে জানাতো। তারা এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলবেন বলে জানান।