সিয়াম সাধনা মুক্তির পয়গাম


প্রকাশিত : মে ২৫, ২০১৯ ||

সাখাওয়াত উল্যাহ: আজ ২০ রমজান, রবিবার। মাগফেরাতের দশক আজ শেষ হচ্ছে। আগামীকাল জাহান্নাম থেকে মুক্তির শেষ দশকের ১ম দিন। আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য আমাদের সামনে এসেছে তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি, মাগফেরাত, নাজাত, এতেকাফ লাইতুল ক্বদর, সাদকাতুল ফিতর, ঈদুল ফিতর ইত্যাদি। শেষ দশকে আল্লাহর প্রিয় মাহবুব বান্দাগণ মসজিদে গমন করে শুরু করবেন এতেকাফ।
এতেকাফের ফযীলত: আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এতেকাফ হচ্ছে একটি উত্তম পন্থা। বান্দাহ নিজেকে দুনিয়াদারি এবং দুনিয়ার সর্বপ্রকার ঝামেলা থেকে নিজেকে বিরাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের বড় আশা নিয়ে তার পবিত্র ঘর মসজিদে বিশেষ সময়ের জন্য নিজেকে আবদ্ধ রাখার ফযীলত অনেক বড়। পবিত্র কোরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা এতেকাফের প্রতি গুরুত্বারোপ করে নবী ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আ.) কে তার ঘর বাইতুল্লাহকে পবিত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরশাদ হচ্ছে, ‘আর আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম যে, তোমরা উভয়ে আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, এতেকাফকারী এবং রুকু সেজ্দাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।
ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকী শরিফে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে হাদিসে এসেছে, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতেকাফকারী সম্বন্ধে বলেছেন, এতেকাফকারী নিশ্চিতভাবে গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং তার জন্য সেই সওয়াব জারি হওয়া শুরু করে, যে সওয়াবটি অন্য সব নেক আমলের ক্ষেত্রে অর্জিত হয়।
একজন এতেকাফকারী ব্যক্তি রোগির নিকট যেতে পারে না, তার সেবা করতে পারে না, অথচ রোগির সেবা করা সওয়াবের কাজ। এতিম, গরীব, দুঃস্থ-নিঃস্ব কারো সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে পারে না অথচ এগুলো ভালো কাজ। অনুরুপভাবে জানাযার নামাজে শরীক হতে পারে না অথচ এটি ভাল কাজ। এতেকাফকারী এ সকল ভাল কাজ ও নেক আমল থেকে বঞ্চিত হলেও আল্লাহপাক এতেকাফকারীর আমল নামায় ঐ সকল প্রত্যেকটি ইবাদতের সওয়াব লিখে দেন। এতেকাফের কারণে যেগুলো থেকে সে বঞ্চিত হয়েছিল।
রমজান মাসে এতেকাফের ফযীলত: রমজানুল মোবারক একটি রাজকীয় ইবাদত। রাজা-বাদশা কোন দেশে বা কোথাও গেলে যেমন মন্ত্রি-মিনিস্টার ও দেশের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ তার সঙ্গী হয়ে থাকেন। তেমনি রমজানুল মোবারক আসলে একা আসে না, সাথে নিয়ে আসে তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি, মাগফেরাত, নাজাত, এতেকাফ লাইতুল ক্বদর, সাদকাতুল ফিতর, ঈদুল ফিতর ইত্যাদি। এতগুলো ইবাদত সুশোভিত করে রাখে রমজানুল মোবারকে। মাহে রমজান প্রথম দশকে রহমতের বিশাল ভান্ডার খুলে দিয়ে বান্দাহকে সিয়াম সাধনার পরশে সিক্ত করে তোলে। সিয়াম সাধনায় বান্দাহ রহমত লাভে ধন্য হলে মহান আল্লাহ তখন তার জন্য মধ্যবর্তি দশ দিন মাগফেরাতের দোয়ার খুলে দেন। মাগফেরাত পেয়ে ধন্য হলে বান্দার জন্য জান্নাত প্রাপ্তির সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে মহান আল্লাহ তার সান্নিধ্য লাভের জন্য পরবর্তী দশদিন মুক্তির পায়গম ঘোষণা করেন। বান্দাহ যখন এই মুক্তির পায়গম লুফে নিতে এতেকাফে মশগুল হয়, ঠিক তখনই শেষ দশকের বিজোড় রাতের কোন একটিতে রোজাদারের ভাগ্য প্রসন্ন করতে হাজার মাসের ইবাদতের সওয়াবের সওগাত নিয়ে ধরায় নেমে আসে মহিমান্বিত রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর। এই কদরের রাতে ইবাদত, মোনাজাত, ফেরেশতাদের শুভ কামনা, ফজর পর্যন্ত দোয়া-মোনাজাত, প্রার্থনা-আরাধনা রোজাদারকে সর্বোচ্চ মহাসম্মানের আসনে বসিয়ে দেয়।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের এতেকাফের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করার এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আমাদের নেক আমল সমূহ কবুল করুন-আমিন। লেখক: সহ-সম্পাদক, দৈনিক পত্রদূত